সেই কষ্ট কিছুটা কমেছে মাহমুদের-331973 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


সেই কষ্ট কিছুটা কমেছে মাহমুদের

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সেই কষ্ট কিছুটা কমেছে মাহমুদের

প্রশ্ন : গত ডিসেম্বরে বলেছিলেন সবাই আপনার বিশ্বকাপে জোড়া সেঞ্চুরির কথা ভুলে গেছে। পাকিস্তান ইনিংসের পর নিশ্চয় মনে রাখবে।

মাহমুদ উল্লাহ : আমার কিন্তু তা মনে হয় না। দেখবেন ঠিকই সবাই ভুলে যাবে। এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তারকা হব ভেবে তো আর ক্রিকেট খেলি না। আমার চেষ্টা থাকে দলের নৈপুণ্যে যেন অবদান রাখতে পারি। আগে এটা ভেবেই খেলতাম, এখনো তা-ই খেলছি। পাকিস্তানকে হারানোর পেছনে আমার নিজেরও অবদান আছে ভেবে ভালো লাগছে। ব্যস, এটুকুই।

প্রশ্ন : জয়সূচক বাউন্ডারির পরই কেমন উদভ্রান্তের মতো দৌড়ে আছড়ে পড়লেন মাটিতে, এরপর একে একে সতীর্থরা গড়াগড়ি খাচ্ছিল আপনার ওপর। ঠিক কেমন লাগছিল ওই মুহূর্তে?

মাহমুদ : এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। আল্লাহকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে উইনিংস শটটা খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। মনে যে কি আনন্দ পেয়েছি, সেই পাকিস্তানের বিপক্ষেই ম্যাচটা শেষ করতে পারলাম বলে!

প্রশ্ন : সেই পাকিস্তান মানেই তো ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনাল। ২ রানে হারার সব দায় চেপেছিল আপনার ঘাড়ে। এমনও শুনেছি, আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগও (আকসু) জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল আপনাকে।

মাহমুদ : দেখুন, কেউ মনে রাখেনি যে ওই ম্যাচের শেষ ২ বলে আমি নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে ছিলাম। চতুর্থ বলে ৩ রান নেওয়ায় উল্টোদিকে ছিলাম। পরের বলে রাজ্জাক বোল্ড হয়ে যায় আর শেষ বলে লেগবাই থেকে রাজীব (শাহাদাত হোসেন) ১ রান নিয়েছিল। কিন্তু সবাই দুষল আমাকে। এ নিয়ে কত যে কথা শুনেছি। আমি নিজেকে একটু গুটিয়ে রাখি, কষ্টের কথা বলতে পছন্দ করি না। তবে ওই কথাবার্তা নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। কষ্ট ছিল ওরকম একটা ম্যাচ জিততে না পারাতেও। সে কষ্ট তো আর ঘুচবে না, তবে গতরাতের (পরশু) পর মনে কিছুটা হলেও শান্তি ফিরে এসেছে।

প্রশ্ন : শুরুতে ভেবেছিলেন যে শেষটা এমন রোমাঞ্চকর হবে?

মাহমুদ : ম্যাচ প্রস্তুতিতে আসলে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্যই আপনাকে তৈরি থাকতে হবে। যা পরে হচ্ছে তা তো আর আগাম ভেবে রাখা যায় না। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের জন্য অবদান রাখার প্রস্তুতিটা আমাদের সবারই থাকে। কখনো আমি বা আমরা পারি, কখনো পারি না।

প্রশ্ন : ম্যাচট জেতার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন?

মাহমুদ : জেতার জন্যই নেমেছিলাম। তবে বিশ্বাসটা বেড়ে যায় আমাদের বোলাররা চড়াও হওয়ার পর থেকে। শেষদিকে ওরা কিছু রান করলেও ব্যাটিংয়ের পুরোটা সময়ই মনে হচ্ছিল আমরাই জিতব।

প্রশ্ন : মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে মুশফিকুর রহিম এবং সাকিব আল হাসান বিদায় নেওয়ার পরও?

মাহমুদ : হ্যাঁ, বিশ্বাসটা হারাইনি। এটা ঠিক যে ওদের উইকেট দুটো ধাক্কা দিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি। নেমেই মাশরাফি ভাইয়ের দুটি বাউন্ডারির পর তো শুধু সময় গুনছিলাম।

প্রশ্ন : ১৫ বলে ২২ রানের ইনিংসের কোনো একটি শট বেছে নিতে বললে কোনটা নিবেন?

মাহমুদ : ইরফানকে লং অফের ওপর দিয়ে মারা ছক্কা আর আনোয়ার আলীর বলে মারা শেষ বাউন্ডারিটা। প্রথমটা রান রেটের চাপ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিল আর দ্বিতীয়টা মনে থাকবে ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনালে পাওয়া কষ্টের জন্য।

প্রশ্ন : আপনার ক্যারিয়ারের সম্ভবত এটা দ্বিতীয় পর্ব চলছে। প্রথম পর্বে দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতেই কেটে গেছে প্রায় সাত বছর। এখন তো মনে হচ্ছে তিন ফরম্যাটেই আপনি অপরিহার্য। এ পরিস্থিতি কতটা উপভোগ করছেন?

মাহমুদ : কে বলল আমি দলে জায়গা নিশ্চিত ভেবে বসে আছি? মোটেও সেরকম কিছু ভাবছি না। যত দিন কনট্রিবিউট করতে পারব, তত দিন দলে জায়গা আছে বলে ধরে নেব। কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ যে তাঁরা আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করছেন।

প্রশ্ন : আড়ালে-আবডালে আলোচনা হচ্ছে মাশরাফি বিন মর্তুজা অবসর নিলে অধিনায়ক হবেন আপনিই। সে জন্য কি নিজেকে তৈরি করছেন?

মাহমুদ : প্রথমত আমি এ ধরনের কোনো আলোচনা শুনিনি। তাই প্রস্তুতি নেওয়ারও কিছু নেই, কারণ সবটাই ইন্সটিংট। দলে আমরা সিনিয়র যারা আছি, তারা সব সময়ই মাশরাফি ভাইয়ের পাশে থাকি এবং ওনাকে দেখি।

প্রশ্ন : তারপরও যদি সুযোগটা আসে?

মাহমুদ : দেখুন, নিজের দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া দারুণ গর্বের ব্যাপার। কিছুদিন জাতীয় দলের সহ-অধিনায়কত্ব করেছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করছি দীর্ঘদিন। তাই এই ‘ট্রেড’ এবং ‘টেস্ট’ দুটোর সঙ্গেই আমার পরিচয় আছে। আপাতত এর বেশি কিছু জানি না, বলতেও চাচ্ছি না।

প্রশ্ন : আপনি তো শুনি খুবই পরিবারমুখী মানুষ। ছেলে কি ক্রিকেট বুঝতে শুরু করেছে?

মাহমুদ : তারা সব সময়ই পাশে থেকেছে এবং আছে। ছেলে ক্রিকেট অত বোঝে না, শুধু খেলা থাকলে দোয়া করে যেন আমি চার-ছক্কা মারতে পারি। মনে হয় না টেস্ট ক্রিকেটার হতে পারবে (হাসি)!

 

মন্তব্য