সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় কঠোর সিদ্ধান্ত-331588 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় কঠোর সিদ্ধান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় কঠোর সিদ্ধান্ত

চরম দুঃসময় চলছে বাংলাদেশের ফুটবলে। শোনা যাচ্ছে না কোনো প্রতিভাবান তরুণের পদধ্বনি; বরং যারা একটু ভরসার ছিল, তারাও হয়ে গেল খলনায়ক। তাতে জাতীয় দলটা আরো নাজুক হয়ে গেল, ধেয়ে আসছে আরো দুঃসহ ফুটবল দিন! এই আশঙ্কার ছবিটা যেন নাবিল আহমেদও দেখতে পাচ্ছেন, ১২ বছর ফুটবলের সঙ্গে ঘরবসিতর পর এই ফুটবল সংগঠকও অনাগত দিনগুলো কল্পনা করতে পারেন। কিন্তু অসহায়, ‘এই ফুটবলাররা দলের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, আমার ভালো করেই জানা আছে। কিন্তু আমি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দু-একটি ম্যাচের স্বস্তি বিসর্জন দিচ্ছি।’

এ ছাড়া যেন আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না জাতীয় দল কমিটির সামনে। দলে শৃঙ্খলাহীনতার চর্চা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, যা মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করছিল ভীষণভাবে। ভালো খেলার সামর্থ্য থাকলেও পারিপার্শ্বিকতায় ধীরে ধীরে তা ক্ষয়ে যায়। তারপর উদ্যমহীনতা ও সংকল্পহীনতায় সেই ভালো ফুটবলারটি হয়ে পড়ে খুব সাধারণ মানের। শেষে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ভীরুর দলে নাম লেখায়, নিরীহ প্রতিপক্ষও তার সামনে বিশাল শক্তিধর হয়ে ওঠে। বর্তমান দলে ফুটবলারের এ রকম রূপান্তরের উদাহরণ অনেক। দুই পায়ে অনেক ঝলক দেখানো তরুণ মিডফিল্ডার সোহেল রানার মান নেমে গেছে অনেক নিচে। ডিফেন্ডার রায়হান হাসান মাত্র ২৩ বছর বয়সে পায়ের ফুটবল ভুলে গিয়ে হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হয়ে গেছেন, লম্বা থ্রো ছাড়া কিছুই আর অবশিষ্ট নেই তাঁর! বছর দেড়েক আগে উল্কার গতিতে বিস্ফোরিত হেমন্ত ভিনসেন্টও কেমন যেন ম্রিয়মাণ। এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির গল্প আরো বলা যাবে। এই গল্প আর দীর্ঘ হতে দিতে চান না নাবিল আহমেদ, ‘১২ বছর ক্লাব চালিয়ে আমি জানি ফুটবলারদের কার কী সামর্থ্য। কিন্তু তাদের পেশাদারত্ব, কমিটমেন্ট এবং শৃঙ্খলার জায়গাগুলো ঠিক না হলে তারা কখনো মাঠে সেরাটা দিতে পারবে না। তাই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাদের।’

দলের এক সিনিয়র ফুটবলারের অভিজ্ঞতা হলো, ‘ম্যাচ হারলেও দলের অনেক তরুণ ফুটবলারের মন খারাপ করারও সময় থাকে না। এটা কল্পনাও করা যায় না।’ তাঁদের জীবনের বড় অংশ নিয়ে নিয়েছে অত্যাধুনিক মোবাইল প্রযুক্তি, হারার পর এই যন্ত্রে চোখ-কান সঁপে দিয়েই অন্য আনন্দের জগতে হারিয়ে যান তাঁরা।

মন্তব্য