kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দর্শকের ঢল নেমেছিল মিরপুরে

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দর্শকের ঢল নেমেছিল মিরপুরে

মিডিয়া সেন্টারের লিফটে উঠতে উঠতে ধারাভাষ্যকার রাসেল আর্নল্ড বলছিলেন, ‘‘আগামীতে বাংলাদেশকে নিয়ে ‘বিগ ফোর’ করার কথা ভাবতে হবে আইসিসিকে। ’’ শ্রীলঙ্কার সাবেক এ ক্রিকেটার আসলে কী ভেবে গতকাল সন্ধ্যায় কথাটি বলছিলেন বোঝা মুশকিল।

হতে পারে এই এশিয়া কাপেই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কাছে লঙ্কানদের হারের আত্মদহন থেকেও বলে থাকতে পারেন। আবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বাইরে দর্শক উন্মাদনার ছবি দেখেও এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন।

পরেরটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ উপচে পড়া গ্যালারির নিয়মিত দৃশ্য গত কিছুদিন ধরেই কমেন্ট্রি বক্সে বসে দেখে আসছেন তিনি। কালকের পাকিস্তান ম্যাচ সামনে রেখে দর্শক আগ্রহ পৌঁছাল এর চেয়েও অন্য মাত্রায়। একদিকে গ্যালারিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না, আবার বাইরেও টিকিট নিয়ে হাহাকারে বাতাস ভারী করে তোলা ক্রিকেটপ্রেমীর ঢলও ভেতরের দর্শক সংখ্যাকে হার মানাচ্ছিল। দুয়েমিলে অন্য রকম এক ক্রিকেট উৎসবেরই যেন ছবি হয়ে থাকল কালকের মিরপুর।

যে ছবিটা এও নিশ্চিত করে দিল যে আর্নল্ডের প্রস্তাবমতো সত্যিই ‘বিগ ফোর’ করা হলে সেখানে বাংলাদেশকে না রেখে উপায় নেই কোনো। ক্রিকেট ক্রেজের দিক থেকে ভারতীয় দর্শকদেরই সবার আগে রাখা হয় সাধারণত। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে গত কিছুদিনের চিত্র ভারতের চেয়ে কমও তো কিছু নয়। আর এশিয়া কাপকে দারুণ সফল এক টুর্নামেন্ট বানানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দর্শকদের অবদান উল্লেখ না করেও কোনো উপায় নেই।

নিয়মিত হতে হতে এটি প্রায় বাংলাদেশের ‘নিজস্ব’ টুর্নামেন্টই হওয়ার পথে! এই নিয়ে টানা তিনবার হচ্ছে। এখানে খেলা যেমন হচ্ছে বিরতিহীন, তেমনি দু-একটি ম্যাচের ব্যতিক্রম বাদ দিলে দর্শক জোয়ারও প্রায় বিরতিহীন। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই কাল সেই জোয়ার যেন রূপ নিল সুনামিতে! এই পাকিস্তানের কাছে হেরেই ২০১২-র এশিয়া কাপের ফাইনালে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙেছিল বাংলাদেশের। ১৯৯৯-র বিশ্বকাপে সেই যে একবার হারানো গিয়েছিল, এর পর থেকে পাকিস্তান কেবল বাংলাদেশের অজেয় আকাঙ্ক্ষার অংশ হয়েই ছিল। কিন্তু স্বপ্নের বছর ২০১৫ সেই অপূর্ণতাও রাখেনি আর। দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও পাকদের হারিয়েছিল। এবার তাই দর্শকদের মাঝেও জয়ের প্রবল আশা ছিল।

তার ওপর এই ম্যাচ জিতলেই যখন আবার এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত, তখন আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার তাড়না থেকেই টিকিট প্রত্যাশীদের ঢলও নেমে গেল। কালোবাজারে তাই হু হু করে বাড়ল টিকিটের দামও। গতকাল ১৫০ টাকার টিকিট দুই হাজারেও তো বিকোতে দেখা গেল। তা ছাড়া সাঈদ আজমল আর মোহাম্মদ হাফিজের বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে পাকদের স্পিন শক্তিও হয়ে পড়েছে ধারহীন। আগের সেই ধার নেই শহীদ আফ্রিদিরও। গত পরশুই যাঁর আনুষ্ঠানিক বয়স ৩৬ পুরো হলো। সেই সঙ্গে প্রথম দল হিসেবে এই আসরেই শততম টি-টোয়েন্টি খেলা পাক দলের ব্যাটিংও ছন্দে নেই। সব মিলিয়েই স্টেডিয়ামের ভেতরে-বাইরে উপচে পড়া দর্শক এটিকে ‘ম্যাচ অব দ্য টুর্নামেন্ট’ই বানিয়ে দিল যেন! না হলে কি আর ক্রিকেটপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চলে আসেন নাকি!


মন্তব্য