kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বপ্নের পথ তৈরি করলেন বোলাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্বপ্নের পথ তৈরি করলেন বোলাররা

ছবি : মীর ফরিদ

এশিয়া কাপের শুরুতে এটি ছিল আলোকবর্ষ দূরত্বের সম্ভাবনা। কাল রাত ঘনিয়ে আসা অন্ধকারে দূরত্বটা কমে এলো মাত্র ১৩০ রানে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই রান করতে পারলেই যে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ!

এশিয়া কাপ ফাইনালে আগেও খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১২ আসরে। সেই হিসাবে আরেকটি ফাইনাল খেলা আর আশ্চর্য কী! কিন্তু এবারের ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি বলে টুর্নামেন্টের শুরুতে সম্ভাবনার পিঠে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল ঠিকই। কিন্তু মাশরাফি বিন মর্তুজার দল ক্লাসের ফার্স্ট বয়ের মতো উত্তর দিয়ে চলেছে পটাপট। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে, শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে—ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানকে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি করে। কাল ৭ উইকেটে ১২৯ রানে প্রতিপক্ষকে আটকে রেখে সে পথে অনেক দূর এগিয়ে মাশরাফির দল। এবার ব্যাটসম্যানরা তাঁদের কাজটুকুন করতে পারলেই ফাইনাল।

৬ মার্চ তাহলে এশিয়া কাপের ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত।

কাল যে পাকিস্তানকে এত অল্পে আটকে রাখা যাবে, শুরুতে ভাবা যায়নি। একটি কারণ অবশ্যই উইকেট। ঘাস ছেঁটে প্রথাগত উপমহাদেশীয় ধাঁচে ফিরেছে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ২২ গজ। যে কারণে টস জিতে ব্যাটিং নিতে দেরি করেননি শহীদ আফ্রিদি। আর দুই দলের মুখোমুখি আগের লড়াইগুলোর ফলও নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাস জোগাবে পাকিস্তানকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে কালকের আগে ছয় টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংস ব্যাটিং করে তারা। সেখানে গড় রান ১৭২। অথচ কাল এর চেয়ে ঢের কম রানে মাশরাফির দল আটকে রাখল পাকিস্তানকে।

তবু ইনিংস শেষে বাঁধনহারা উল্লাস নেই বাংলাদেশ ক্যাম্পে। ইনিংসের প্রথমার্ধের ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে এর চেয়ে আরো অনেক কমে যে আটকে রাখা যেত পাকিস্তানকে। ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারে যেখানে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান, পরের ১০ ওভারে সেখানে আফ্রিদির দল জুড়ে দেয় আরো ৯৫ রান! এটিই না শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়!

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর থেকে শুরু পাকিস্তানের খুঁড়িয়ে পথচলা। তাসকিন আহমেদের করা প্রথম ওভার থেকে আসে মোটে ১ রান। আল-আমিন হোসেন এসে তো প্রথম বলেই তুলে নেন খুররম মনজুরের উইকেট। গুড লেন্থ থেকে লাফিয়ে ওঠা দুর্দান্ত বলটিতে অসহায় পাকিস্তান ওপেনার। তাসকিন পরের ওভারটি নেন মেডেন। এশিয়া কাপের মূল পর্বের অষ্টম ম্যাচে এটি মাত্র ষষ্ঠ মেডেন ওভার। আর তাতে তাসকিনের প্রথম স্পেলটাও দেখায় কী অসাধারণ : ২-১-১-০।

দুই পেসার যে ছন্দটা বেঁধে দেন, সেই পথ অনুসরণ করেন বাকিরা। টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট আরাফাত সানির। বোল্ড করেন শারজিল খানকে। পরের ওভারে নিজের হাতে বল তুলে নেন মাশরাফি। তাঁরও প্রথম ওভারে উইকেট। যদিও মোহাম্মদ হাফিজের এলবিডাব্লিউতে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের দায়টাই মুখ্য। রিপ্লেতে দেখা গেছে বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে চলে যেত। আর দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা তাসকিন যখন উমর আকমলকে বানান সাকিবের ক্যাচ, গ্যালারির গর্জনে তখন কান পাতা দায়। ৮.২ ওভারে ২৮ রানে ৪ উইকেট নেই তখন পাকিস্তানের।

এই অবস্থায় জুটি বাঁধেন সরফরাজ আহমেদ ও শোয়েব মালিক। বিপর্যয় সামলানোয় শুরুটা তাঁদের রয়েসয়ে। চার-ছক্কার দিকে না ছুটে উইকেট আগলে রাখার চেষ্টায়। তাতে সফল দুজন। সফল শেষদিকে দ্রুত রান তোলার পরিকল্পনাতেও। তাই তো প্রথম ১৪ ওভারে যেখানে ৬৪ রান তুলেছিল পাকিস্তান, সেখানে শেষ ছয় ওভারে তোলে ৬৪ রান। ষষ্ঠ উইকেটে ৮.২ ওভারে ৭০ রানের জুটি গড়েন সরফরাজ-মালিক। এর মধ্যে একটিই মাত্র হাফ চান্স দিয়েছিলেন সরফরাজ। কিন্তু ১২তম ওভারে সাকিবের বলে ওঠা ক্যাচ পড়ে মুশফিকুর রহিমের অনেক সামনে।

৩০ বলে ৪১ রান করা মালিককে আউট করে ব্রেক থ্রু দেন আরাফাত সানি। সরফরাজ শেষ পর্যন্ত থেকে যান অপরাজিত। তাঁর ৪২ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংসেই লড়াইয়ের যা কিছুটা রসদ পায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে সফলতম আল-আমিন। কেবল সাকিবই কোনো উইকেট পাননি। বাকি সবাই মেতেছেন উইকেট শিকারের আনন্দে। তবে আসল আনন্দটা বোধহয় জমিয়ে রাখা শেষের জন্য।

পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করার পরই না সত্যিকারের গর্জন উঠবে বাংলাদেশের মানচিত্রজুড়ে!


মন্তব্য