kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাফুফের সংশোধনী প্রস্তাবে ফিফার ‘না’

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাফুফের সংশোধনী প্রস্তাবে ফিফার ‘না’

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাফুফে নির্বাচন। আর তাই সাড়ে তিন বছর লঘু হয়ে থাকা গঠনতন্ত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এই সময়ে।

শাসকপক্ষ নিজেদের খামতিগুলো ঢেকে গঠনতন্ত্রে কিছু যোজন-বিয়োজন করতে চায় নতুন নির্বাচনী অঙ্ক মাথায় রেখে। এবার বাফুফের সেই উদ্যোগ থাকলেও ফিফার ‘গাইডলাইন’ পরিবর্তনের পক্ষে নয়।

কিছুদিন আগেও খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বাফুফের গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি। হারুনুর রশিদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি সভা করে কয়েকটি বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিল। সরকারি চাকরিজীবীদের কাউন্সিলরশিপ না দেওয়া এবং ভোটাধিকার রহিত করা, নির্বাহী কমিটির ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ন্যূনতম তিন বছরের সাংগঠনিক ক্যারিয়ার থাকা বাধ্যতামূলক করা—মতামত নেওয়ার জন্য এই সংশোধনী প্রস্তাবগুলো ফিফায় পাঠানো হলেও ইতিবাচক সাড়া পায়নি বাফুফে। কমিটির প্রধান হারুনুর রশিদ বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে ফিফার মতামত চেয়েছিলাম আমরা। যেমন—ফিফার প্রেসক্রিপশনে জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বেলায় সরকারের সংশ্লিষ্টতা রাখা হয়নি। তাই বাফুফের বেলায়ও কোনো সরকারি চাকরিজীবীকে (ক্লাব কিংবা অন্য সংগঠন থেকে আসা) কাউন্সিলর না করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ফিফা এ ক্ষেত্রে সরাসরি কিছু জানায়নি। তারা বলেছে, সরকারি চাকরিজীবী থাকতেও পারে আবার না থাকলেও ক্ষতি নেই। তারা ফুটবলীয় কর্মকাণ্ডে বাধা না হলে তাদের কাউন্সিলর রাখতে সমস্যা নেই। ’ এমন গাইডলাইনের পর তো আর সরকারি চাকরিজীবীদের কাউন্সিলরশিপ কিংবা ভোটাধিকার রহিত করতে পারে না বাফুফে। অর্থাৎ ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসানের মতো সরকারি চাকুরেরা গতবারের মতো এবারও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

ফিফা-এএফসির মতো বাফুফের নির্বাচনেও যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। এটা রোধে একটা সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছিল প্রার্থীকে ন্যূনতম তিন বছরের সাংগঠনিক ক্যারিয়ার বাধ্যতামূলক করে। এটিও ফিফা মেনে নেয়নি, তারা আগের জায়গায় অনড়। এক কাউন্সিলর প্রস্তাবক ও অন্য কাউন্সিলর সমর্থক হলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবে। আরেকটা বড় ইস্যু ছিল নির্বাচনের ঠিক আগের কার্যনির্বাহী কমিটির ভোটাধিকার। চার বছর আগের নির্বাচনে তারা ভোট দেয়নি, এবার ভোটাধিকার ফেরতের সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটিতেও না বলেছে ফিফা। এ ব্যাপারে হারুনুর রশিদ মনে করেন, বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বছরের কাজের ওপর আলোচনা-সমালোচনা হয়। অর্থাৎ কমিটির লোকজনের পারফরম্যান্সের ওপর আলোচনা হয়। তাদের কাজের বিচার হয় বলে হয়তো নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার না দেওয়ার পক্ষে ফিফা।

এ রকম প্রেসক্রিপশনের পর আসলে গঠনতন্ত্র সংশোধন করাটাও ঝুঁকিপূর্ণ। এর পরও বাফুফে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফিফা সদর দপ্তরে গিয়ে সামনাসামনি বিষয়গুলো তুলে ধরার। এখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং সরকার সম্পর্কে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাকে সম্যক ধারণা দিয়ে গঠনতন্ত্রের শুদ্ধতা নিরূপণ করতে। পরে অবশ্য এই যাওয়ার উদ্যোগও নেয়নি বাফুফে। কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, বাফুফের নির্বাচনী ডামাডোলে নতুন কোনো পক্ষের আবির্ভাব না হওয়া। নতুন কোনো মেরুকরণের গল্প সামনে না আসা। আগামী মাসেই বাফুফে নির্বাচন, অথচ এর কোনো আঁচ নেই! সম্ভাব্য একমুখী নির্বাচনই বোধ হয় বাফুফে কর্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাফুফে সদস্য হারুনুর রশিদ যেমন বলেছেন, ‘সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফিফায় যাওয়ারও আর সময় নেই। এই মুহূর্তে আমার মনে হয়, আগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই নির্বাচন হওয়া উচিত। আগামী ১২ তারিখে বিশেষ সাধারণ সভায় সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিয়ে হয়তো আলোচনা হতে পারে। ’

এখন শুধু নিষ্ফলা আলোচনাই হতে পারে। ফিফার প্রেসক্রিপশনের বাইরে সংশোধনের ঝুঁকি নিশ্চয়ই নেবে না বাফুফে।


মন্তব্য