ফাইনালে ভারত-331169 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭

ফাইনালে ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফাইনালে ভারত

টানা ক্রিকেটের ধকল কোনো উইকেটই নিতে পারে না, পারছে না মিরপুরের উইকেটও। তাই টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, ততই মন্থরগতির হচ্ছে উইকেট। এর পরও টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের কথা শ্রীলঙ্কা ভাবেনি শিশিরের কথা ভেবে। অবশ্য ভঙ্গুর শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করার সুবিধাটাও নিতে পারেনি, ৯ উইকেটে ১৩৮ রান আর যাই হোক টি-টোয়েন্টিসুলভ নয় মোটেও।

ওই রান টপকে যেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি ভারতের। ম্যাচ হয়তো ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত গড়িয়েছে। পাঁচ উইকেট হারিয়েছেও তারা। কিন্তু শেষ বিচারে পাঁচ উইকেটের স্বস্তির জয়ই মহেন্দ  সিং ধোনির দলের। আর টানা তিন জয়ে প্রথম দল হিসেবে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করল ভারত।

আগে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরু থেকেই বিপর্যয়। ৩১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হাওয়া। তিলকরত্নে দিলশানের কাছে লঙ্কানদের দাবি অনেক। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সেই দাবি পূরণের ইঙ্গিত দেখা যায়নি দলের অভিজ্ঞতম এ তারকার ব্যাটিংয়ে। অবশ্য ১৬ বলে ১৮ রান তবু তো তিনি করেছেন। কিন্তু যে লঙ্কানের ব্যাট এ আসরে সবচেয়ে চওড়া মনে হচ্ছিল সেই দীনেশ চান্ডিমাল কাল ফিরে গেছেন ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে। পরের ওভারেই বিদায় নিয়েছেন বাংলাদেশের নাভিশ্বাস তুলে দেওয়া শেহান জয়াসুরিয়া। তাতে ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা লঙ্কানদের বিপদ আরো ঘনীভূত হয় লাসিথ মালিঙ্গার অনুপস্থিতিতে এ ম্যাচেও অধিনায়কত্ব করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ফিরে যাওয়ায়। ভারতীয় বোলিং আক্রমণের নতুন সেনসেশন জসপ্রীত বুমরাহ এলোমেলো করে দেন তাঁর স্টাম্প।

১১ ওভারে চার উইকেটে ৫৭—এখান থেকে ১৩৮ রান হূষ্টপুষ্টই। চামারা কাপুগেদারা (৩২ বলে ৩০), মিলিন্দা সিরিবর্ধনের (১৭ বলে ২২) ইনিংস গোছানোর চেষ্টার পর শেষ দিকে থিসারা পেরো (৬ বলে ১৭) ও নুয়ান কুলাসেকেরার (৯ বলে ১৩) ঝাপটায় ১৩৮ রানে পৌঁছেছে লঙ্কানরা।

অশ্বিনের ২৬ রানে ২ উইকেট নেওয়া দেখে উৎসাহিত হতে পারেন টুর্নামেন্টের অন্য স্পিনাররা। তবে ভারতের বোলিং দাপটের শুরুটা করেছিলেন সেই পেসাররা। ২৩ রানে একটি মাত্র উইকেট নিলেও পুরো ৪ ওভার বোলিং করে সবচেয়ে হিসাবি আশীষ নেহরা। আর অশ্বিনের সমান দুটি করে উইকেট নিয়ে বুমরা ও হার্দিক পাণ্ডে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা লম্বা রেসের ঘোড়া।

১৩৯ রানের লক্ষ্যটা চলতি টুর্নামেন্টের বিবেচনায় নেহায়েত কম নয়। ১৬ রানের মধ্যে শিখর ধাওয়ান (১) ও রোহিত শর্মার (১৫) উইকেট তুলে নিয়ে জমজমাট ম্যাচের প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু আবারও তো ‘বিরাট’ হয়ে উঠল কোহলির ব্যাট। পাকিস্তানের বিপক্ষে বিপর্যয় সামলান যেভাবে, কালও তাঁর ব্যাটে সেই একই প্রতিরোধ। শুরুতে সুরেশ রায়না (২৫), পরে যুবরাজ সিংয়ের (৩৫) সঙ্গে জুটিতে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেন শ্রীলঙ্কাকে। তবে পাকিস্তানের মতো আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি তাঁকে হতে হয়নি। ৪৭ বলে ৫৬ রান করে থাকেন অপরাজিত। দলের পাঁচ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তবেই মাঠ ছাড়েন কোহলি।

সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেন ভারতের ফাইনালও।

মন্তব্য