সাত ফুটবলারের শাস্তি নিয়ে বাফুফে-330709 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


সাত ফুটবলারের শাস্তি নিয়ে বাফুফে অস্বস্তিতে

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সাত ফুটবলারের শাস্তি নিয়ে বাফুফে অস্বস্তিতে

সাময়িক নিষিদ্ধ সাত ফুটবলারের শাস্তি নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে আছে বাফুফে। তাদের দীর্ঘ প্রক্রিয়া আর তত্পরতাই বাফুফের মনোভাব নিয়ে সবাইকে ধন্দে ফেলে দিচ্ছে। তারা আদৌ ফুটবলকে নিষ্কলুষ করতে চায় কিনা, বাফুফের কর্মকাণ্ডে উঠে গেছে সে প্রশ্নও। 

সাফ এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ব্যর্থতার কিছুদিন পরই তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। এর পর থেকেই তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আসলাম মিডিয়াতে সরব, ফুটবলারদের মাঠের বাইরের ‘কীর্তি’র ফিরিস্তি দিয়েছেন সবিস্তারে। মুখে মুখে দাঁড়িয়ে গেছে একটা ‘মদ্যপ’ ফুটবল দলের ভাবমূর্তি। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ফুটবলার মাদকাসক্ত’ হলে আর থাকে কী! আবার গত ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত রিপোর্টের নির‌্যাসে দেখা গেছে মাত্র সাতজনের নাম। মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন, সোহেল রানা, শহীদুল আলম, আতিকুর রহমান, ইয়াসিন খান ও ইয়ামিন আহমেদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল জাতীয় দল কমিটি। এ জন্যই তাঁদের বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। তবে শাস্তির কঠোরতা চূড়ান্ত করতে তারা সাত ফুটবলারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে চেয়েছে।

এই সুযোগের সুবাদেই প্রক্রিয়াটা দীর্ঘতর হওয়ার সুযোগ বেড়েছে। হচ্ছেও তাই। সাত ফুটবলার আত্মপক্ষ সমর্থন করে গেছেন। তাঁরা মিডিয়াতেও নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। যাঁরা তাঁদের জবানবন্দি নিয়েছেন তাঁদেরই একজন বাফুফে সহসভাপতি বাদল রায় গতকাল বলেছেন, ‘আমরা কিছুই করব না। তাদের কথাগুলো শুধু আমরা জাতীয় দল কমিটির কাছে পাঠাব, তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।’ এই রিপোর্টে কি শাস্তির কোনো সুপারিশ থাকবে? ‘শাস্তি অত সহজ ব্যাপার নয়। এই ফুটবলাররা দীর্ঘদিন দেশের হয়ে খেলেছে। সুতরাং সিদ্ধান্ত নিতে হলে সব কিছু বিবেচনা করেই নিতে হবে’—বলেছেন বাফুফের এই সহসভাপতি। অথচ গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনিই কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন, ‘ফুটবলাররা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারলে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।’ 

সেই কঠোর উচ্চারণ শেষ পর্যন্ত আর কঠোর থাকছে কি না বলা মুশকিল। কারণ সাত ফুটবলারের সঙ্গে যোগ হয়ে গেছে তাঁদের ক্লাবগুলোও। নতুন মৌসুমের দলবদলে ক্লাবগুলো আগেই কথাবার্তা সেরে রেখেছে ওই সাত খেলোয়াড়ের সঙ্গে। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বাফুফের ওপর এখন থাকছে ক্লাবগুলোর চাপও। সেই চাপ জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ কতটা সামলাতে পারবেন, সেটাও এখন বড় প্রশ্ন।

জর্দানের ম্যাচের স্কোয়াড ঘোষণা করে নতুন এক সমস্যায় পড়েছে বাফুফে। এই দল দিয়ে যে কিছু হবে না, সেটাও টের পাচ্ছে তারা। কোচ গঞ্জালো সানচেজ মরেনোও বলেছেন, ‘আমার দলে বিশেষ করে ডিফেন্সের অবস্থা খারাপ। তার সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে দলের বাইরে রাখতে হচ্ছে। কিভাবে কী হবে বুঝতে পারছি না।’ তখনই প্রশ্ন ওঠে ওই সাত ফুটবলার থাকলে কি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে জর্দানের সঙ্গে জিতবে বাংলাদেশ? মরেনোর জবাব, ‘সেটা হয়তো হবে না।’

তাহলে এত কী ভাবনা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গত সাত ম্যাচে মাত্র একটি ড্র বাদে বাকি ছয় ম্যাচই হেরেছে বাংলাদেশ। সুতরাং জর্দানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচও ভালো কোনো ফল দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই। কিন্তু ফুটবল দলের ভাবমূর্তি ফেরানো এবং দলটাকে নিষ্কলুষ করার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, সেটা ঠিক থাকলে ভবিষ্যতে অন্তত শৃঙ্খলাটা বজায় থাকবে।

মন্তব্য