kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

হকি বন্ধ হওয়াতে আমরা ক্রিকেটে চলে গেলাম

মহিলা হকি নতুন করে শুরু হয়েছে মাত্র বছর চারেক হলো। এখনো জাতীয় দল গড়ে ওঠেনি। অথচ সেই সত্তরের দশকে মেয়েরা প্রথম হকিস্টিক হাতে নেয়। সেই সময়ের খেলোয়াড় পারভীন নাসিমা নাহার পুতুল কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে স্মৃতিচারণার পাশাপাশি কথা বলেছেন এখনকার খেলা নিয়েও

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হকি বন্ধ হওয়াতে আমরা ক্রিকেটে চলে গেলাম

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : আর সব খেলায় মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল, হকিতে এই দুরবস্থা কেন?

পারভীন নাসিমা নাহার পুতুল : তবু এখন নতুন করে খেলাটা শুরু হয়েছে, এটাই আশার খবর। এতগুলো বছর যে খেলাটা বন্ধ থাকল তার জন্য দায় তো ফেডারেশনেরই, সংগঠকদের।

তারা খেলাটা মাঠে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আর্থিক সমস্যাই হয়তো মূল কারণ। এখন ওয়ালটনের মতো স্পন্সর এগিয়ে এসেছে, তাদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন : এখনকার মেয়েদের খেলা দেখে আপনাদের সময়টাও মনে পড়ে নিশ্চয়?

পুতুল : খুব। আমি, আয়েশা জামান খুকি, আফসানা, মিউরেল গোমেজ, ডলি ক্রুজ, শাহীন, নাহিদ একসঙ্গে খেলতাম। আরো অনেকে ছিল, সবার নাম মনে পড়ছে না। আমাদের কোচ ছিলেন সোনা ভাই (আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া), প্রতাপ হাজরা, সালাম ভাই। পাকিস্তান যাওয়ার জন্য আমরা তৈরি হচ্ছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাওয়া হলো না কী কারণে জানি। এরপর তো আর খেলা মাঠে গড়ায়নি।

প্রশ্ন : বছর পাঁচেক আপনারা হকিতে ছিলেন...

পুতুল : হ্যাঁ, ১৯৭৬ সাল থেকে। তথন এরশাদ সাহেব (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চেয়ারম্যান। ওনার উৎসাহেই খেলাটা এগিয়েছিল। ঢাকায় তো হতোই, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইলে গিয়েও আমরা খেলেছি। জেলা দলের পাশাপাশি তখন কয়েকটি ক্লাবও ছিল হকিতে।

প্রশ্ন : এখন ৯টি জেলা নিয়ে খেলা হচ্ছে, বছরে এই একটিই টুর্নামেন্ট, ক্লাবগুলোও কি এগিয়ে আসতে পারে না?

পুতুল : তা তো পারেই, কিন্তু উদ্যোগটা নিতে হবে ফেডারেশনের। হকি মাঠেরও সংকট রয়েছে। ফেডারেশন চাইলে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের মাঠটাই অন্তত এক দিন রাখতে পারে মেয়েদের জন্য। তাতে দেখবেন এই ঢাকাতেই আরো কত খেলোয়াড় বেরিয়ে গেছে।

প্রশ্ন : আপনার নিজের কি আবার হকিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছে আছে?

পুতুল : কেন থাকবে না, আজও আমি মাঠে গিয়েছিলাম। যে কয়দিন টুর্নামেন্ট চলবে প্রতিদিনই যাব। ওদের সঙ্গে কাটিয়ে ওদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে কোনোভাবে যদি উপকারে আসতে পারি। তাতেই আমি খুশি। অনেক সাবেক খেলোয়াড়ই আছেন, ফেডারেশন চাইলেই তাঁদের আবার সম্পৃক্ত করতে পারেন।

প্রশ্ন : মেয়েরাও এখন ক্রিকেটে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে...

পুতুল : হকি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমরাই তো ক্রিকেটে চলে গিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সৈয়দ আলতাফ হোসেন ক্রিকেটের কোচিং করাতেন, আমরা ওনাকেই গিয়ে ধরলাম খেলার জন্য।


মন্তব্য