পাকিস্তান ম্যাচের পরিকল্পনাতেও জয়-330700 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০১৬। ১৭ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৯ জিলহজ ১৪৩৭


পাকিস্তান ম্যাচের পরিকল্পনাতেও জয়

সাইদুজ্জামান   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পাকিস্তান ম্যাচের পরিকল্পনাতেও জয়

গত বিপিএলে ৪৯ ঘণ্টা বিমানভ্রমণের ধকল সয়ে ম্যাচে নেমে পড়েছিলেন সাকিব আল হাসান। উমর আকমল চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ যখন খেলছিলেন তখনো পাশের মাঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার। তবে সেসব তো ঘরোয়া ক্রিকেটের হালচাল। অধুনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের জীবন মানেই ‘আকাশে ওড়ো, নামো এবং মাঠে নেমে পড়ো’। গতকাল ব্যাংকক থেকে দুপুরে ঢাকায় নামার ঘণ্টা দুয়েক পরই যেমন নেটে হাজির তামিম ইকবাল। সদ্য বাবা হওয়া বাঁহাতি ওপেনারের নামও লেখা হয়ে গেছে পাকিস্তান ম্যাচের একাদশে। ‘আমি রেডি’, জানিয়ে দিয়েছেন তামিমও।

তামিমের ফেরাটা বাংলাদেশ দলের জন্য সুসংবাদ। আর একই দিনে মিলেছে একটা দুঃসংবাদও—কোমরের পেশির চোটের কারণে এশিয়া কাপেই আর খেলতে পারবেন না মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি দেশসেরা এ পেসারের ভাগ্যে আছে কি না, সেটিও ঝলমলে আকাশের মতো বৃষ্টিহীন দিনের নিশ্চয়তা নয়। তামিমের ফেরা এবং মুস্তাফিজের ছিটকে পড়ার যোগ-বিয়োগের ফল কিছুটা বিষণ্নতা। তা-ই তো হওয়ার কথা। প্রথমজনকে ছাড়াই এশিয়া কাপের পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ছিটকে পড়া পরেরজন আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ভাবনার কেন্দ্রস্থলে। জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ তাই আর হতাশা লুকানোর অকারণ চেষ্টা করেননি, ‘মুস্তাফিজের চারটা ওভার খুবই মূল্যবান। ম্যাচের সবচেয়ে কঠিন সময়ে ওকে দিয়ে বোলিং করানো যায়।’

আজকাল ক্রিকেটারের উড়ে এসে খেলে ফেলার মতো আচমকা চোটের আক্রমণও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। মুস্তাফিজের মতো পেস বোলারদের চলা পথে তো ওত পেতেই থাকে ইনজুরি। কাঁধের চোটের কারণে পাকিস্তান সুপার লিগে যেতে পারেননি, তাঁর এশিয়া কাপ শেষ করে দিল কোমরের পেশির চোট। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না। লাভ-ক্ষতির হিসাব একই সমতায় না থাকলে গতকালের ছুটির পর আজ মহাসমারোহে পাকিস্তান ম্যাচের প্রস্তুতিতে নেমে পড়ছে বাংলাদেশ, যে প্রস্তুতির পূর্ব ভাবনা একটাই—জিততে হবে।

আগের রাতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ‘ফাইনালের গর্জন’ দেওয়ার পর পাওয়া ছুটিটা ছুটির আমেজেই কাটিয়েছেন প্রায় সবাই। ব্যতিক্রম তিনজন। একজন মুশফিকুর রহিম বহু আগেই ছুটিকে ছুটি দিয়ে রেখেছেন। তাতে মনে করার কোনো কারণ নেই যে, ফর্মে নেই বলেই কাল ঘণ্টা দুয়েক নেটে কাটিয়েছেন তিনি। ওটা মুশফিকের নিজস্ব রুটিন। তবে সৌম্য সরকারকে নেটে কোচের শ্যেনদৃষ্টির ব্যাখ্যা একটাই—ভুল শুধরে নেওয়া। আর ব্যাংককে তো ইনডোর সুবিধা পাননি, তাই ফর্মের তুঙ্গে থাকা তামিম ছুটে এসেছেন নেটে। ‘ভাই, ক্রিকেটারদের জীবনটাই এখন এমন’, হাসিমুখে মেনেও নিয়েছেন তিনি।

বিক্ষিপ্তভাবে টেস্টে, নিয়ম করে ওয়ানডেতে আর সবশেষ টি-টোয়েন্টিতে উন্নতির সিঁড়িটা বাংলাদেশের খুঁজে পাওয়ার অন্যতম কারণও সম্ভবত এই ‘মেনে নেওয়া’। ব্যক্তি নয় দলকে আগে রেখে গাড়ি চালিয়ে চলেছেন কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে। বিষয়টি সবাই মেনেও নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দলের শরীরী ভাষায় যেন তারই প্রকাশ। হঠাৎই সোনালি দিনের মেজাজটা ফিরেছে সাকিব আল হাসানের ক্রিকেটে। কারো একা হাতে খুব বেশি ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ, সিংহভাগ জয়ই দলীয় অবদানের যোগফল। সাব্বির রহমানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের পাশে সুর মিলিয়েছেন সাকিব-মাহমুদ উল্লাহরাও। আল আমিন-সাকিব-মুস্তাফিজদের বোলিং দাপটের মতো সৌম্য সরকারের ওই ক্যাচটাও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বাংলাদেশকে। সর্বোপরি, পুরো দলের নড়াচড়ায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এগোনোর প্রত্যয়।

শ্রীলঙ্কা ম্যাচ থেকে এটাকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করছেন খালেদ মাহমুদ, ‘সত্যি বলতে কি আগে এতটা প্ল্যান করে আমরা টি-টোয়েন্টি খেলিনি। কিন্তু এশিয়া কাপের আগে খুলনা আর চট্টগ্রামের ক্যাম্পে এ ফরম্যাট নিয়ে নিখুঁত পরিকল্পনা হয়েছে। রাতারাতি তো আর সব পরিকল্পনা মেনে ক্রিকেট খেলা যায় না, তবে সবাই খেয়াল করে থাকবেন শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ছেলেরা নির্দিষ্ট একটা পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছে।’ পরিকল্পনার খুঁটিনাটি তো আর দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর রীতি নেই। তবে ফ্ল্যাশব্যাকে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিকে তাকালেই ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন, ডেথ ওভারে আল-আমিন এবং মুস্তাফিজের ওপর নির্ভরতা—ইত্যাদি ইত্যাদি।

তবে চন্দিকা হাতুরাসিংহের সবচেয়ে পছন্দের প্ল্যান ‘কাউন্টার অ্যাটাক’। তাঁর দর্শন হলো, দ্রুত উইকেট পড়ছে বলেই গুটিয়ে যাওয়া যাবে না, মারার বল মারতেই হবে। তাই ২৬ রানে ৩ উইকেট পড়ার পরও সাব্বির রহমানের পাল্টা আক্রমণ দেখে রীতিমতো মুগ্ধ কোচ, যার কিছুটা প্রকাশ পেল ম্যানেজারের কণ্ঠে, ‘এককথায় দুর্দান্ত। ওর সাহস এবং যেসব শট খেলেছে তা বাকি ব্যাটসম্যানদেরও অনুপ্রাণিত করেছে। তবে রিয়াদ (মাহমুদ উল্লাহ) এবং সাকিবও সময়ের দাবি মিটিয়েছে।’

এদিকে এদেশীয় ক্রিকেট অনুসারীদের সময়ের দাবি ‘পাকিস্তানকে হারাও’ কানে গেছে মাশরাফি বিন মর্তুজাদেরও। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে রাজি নন দলের কেউই। মাহমুদ সামান্য ইঙ্গিতই দিলেন শুধু, ‘আমাদের ছক তৈরি হয় জয়ের কথা ভেবেই।’

সামান্য ইঙ্গিতেই যেন সবটা বলে দিলেন ম্যানেজার!

মন্তব্য