kalerkantho


ব্ল্যাটার-প্লাতিনির শাস্তিতে বিভক্ত ফুটবল

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



ব্ল্যাটার-প্লাতিনির শাস্তিতে বিভক্ত ফুটবল

ক্ষমতার চূড়ায় ১৭ বছর কাটিয়ে দেওয়া মানেই চারপাশে কিছু শত্রুও তৈরি করে ফেলা। তবে কিছু বন্ধু তো থেকেই যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার (ফিফা) পতিত সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের যেমন অগুনতি সমালোচকের সঙ্গে কিছু বন্ধুও আছেন। দুর্নীতির দায়ে একই সঙ্গে দণ্ডিত ফিফা সহসভাপতি এবং ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থার (উয়েফা) সভাপতি মিশেল প্লাতিনির শাস্তির পক্ষে-বিপক্ষে মত আছে। কেউ বলছেন শাস্তিটা খুবই কম হয়ে গেছে, কারো কাছে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা মৃত্যুদণ্ডের মতো নির্মম মনে হচ্ছে; আবার শাস্তিটা ঠিক আছে বলেও অনেকের মত।

ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির দায়ে সোমবার ফিফার এথিকস কমিটি আট বছরের জন্য ফুটবলে নিষিদ্ধ করেছে সেপ ব্ল্যাটার ও মিশেল প্লাতিনিকে। সঙ্গে দুজনকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ৫০ হাজার ও ৮০ হাজার ডলার। এ রায় ওল্টাতে সেদিনই কোর্ট অব আরবিট্রেশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান দুই প্রশাসক। আর ফুটবলবিশ্ব জুড়েই চলছে এ নিয়ে আলোচনা।

পিটার ভিলাপ্পান নামটা এশীয় অঞ্চলে বেশ পরিচিত। ২০০২ জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপের সময় তিনিই ছিলেন এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল।

সাবেক এই ফুটবল কর্মকর্তার অভিমত, ‘শাস্তিটা খুব বেশি হয়ে গেছে। আট বছরের মেয়াদকাল ঘোষণা করে আদালত যেন তাঁদের মৃত্যুদণ্ডই দিয়ে দিল। ব্ল্যাটারের প্রতি এটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে; কারণ তিনি নিজের জীবনটা ফুটবলের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। ’ ব্ল্যাটার ও প্লাতিনির প্রতি ভিলাপ্পানের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, ‘এশিয়ায় ফুটবল জাগরণে এই দুজনের ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্ব ফুটবলেও তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। এঁদের শাস্তির মেয়াদ এক-দুই বছর হতে পারত। আট বছর খুবই অমানবিক মনে হচ্ছে। ’

বোঝাই যাচ্ছে, ব্ল্যাটার-প্লাতিনির রায়ে সন্তুষ্ট নন ভিলাপ্পান। অসন্তুষ্ট স্প্যানিশ ফুটবল লিগের প্রধান হাভিয়ের তাবাসও, তবে ভিন্ন কারণে, ‘শাস্তি হলো মাত্র আট বছর, অপরাধের মাত্রার তুলনায় যা খুব কম হয়ে গেছে। ফিফার নিয়মনীতির তোয়াক্কা যারা করে না, তাদের আরো কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি তো খুবই ভয়াবহ। আমি মনে করি, তাদের ফুটবলে ফেরার পথটাই চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল। ’ উয়েফার সাবেক সভাপতি লেনার্ট ইয়োহানসনের দৃষ্টিতে বিচারটা ঠিকই আছে, ‘আমার মনে হয়, যথেষ্ট সাজা হয়েছে। শাস্তির মেয়াদের পর তাদের আর ফুটবল প্রশাসনে ফেরার সুযোগ এমনিতেই থাকবে না। ’ লেনার্ট উয়েফা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ১৭ বছর। তাঁর বিদায় হয়েছে প্লাতিনির কাছে নির্বাচনে। আরেকবার ফিফা সভাপতি নির্বাচনে লেনার্ট হেরেছিলেন ব্ল্যাটারের কাছে। তাই অন্য একটা তৃপ্তিও আছে এ সুইডিশের, ‘যাক, এত দিনে আমি যা বলেছিলাম তা সত্য প্রমাণিত হলো। তার মানে এই নয় যে নিজেকে আজ বিজয়ী ভাবছি। শুধু সত্যটা বেরিয়ে এসেছে ভেবে ভালো লাগছে। ’

প্রশাসকদের এই টানাপড়েনে যোগ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামও, ‘আমি নিশ্চিত, অতি সত্বর ফিফায় বড় একটা পরিবর্তন আসছে। সর্বোচ্চ পর্যা য়ে যত অপকর্মই হোক না কেন, ফুটবল ধ্বংস হবে না। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে ফুটবলের ব্যাপ্তিটা অনেক বড়। ’

এদিকে যে আদালতের রায়ে বিদ্ধ ব্ল্যাটার ও প্লাতিনি, ফিফার সেই এথিকস কমিটির সামর্থ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ইংলিশ ফুটবলের সাবেক প্রধান ডেভিড বার্নস্টেইন, ‘আমার কাছে বিচার দেখে মনে হয়েছে, এটা আসলে একটা ক্যাঙ্গারু কোর্ট। বিশেষ করে প্লাতিনি ও ব্ল্যাটারকে একই পাল্লায় মাপার বিষয়টি ভালো লাগেনি। ফিফার দুর্নীতির বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে পরিচর্যা  করেছেন ব্ল্যাটার। সুইস ও আমেরিকান বিচার বিভাগ তাই তাঁর পিছু নিয়েছে। কিন্তু প্লাতিনি সে রকম কিছু করেননি। তবু ব্ল্যাটারের সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলা হলো। আমি তো বলব, কোর্ট খুবই কাঁচা কাজ করেছে। অভিযোগের ধরন দেখে যে কারো মনে হবে, প্লাতিনি বোকামি করেছেন। বোকামির জন্য তো আর এত কঠিন শাস্তি কারো প্রাপ্য নয়। ’ এএফপি


মন্তব্য