kalerkantho


এবার টি-টোয়েন্টি

নতুনদের জন্য চ্যালেঞ্জটা যেখানে বেশি

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নতুনদের জন্য চ্যালেঞ্জটা যেখানে বেশি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে খেলছেন ক্রিস গেইল, আর এ রকম বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের সামনেই কিনা রাজশাহী কিংস ঠেলে দিয়েছিল এক তরুণকে। যদিও সেই ম্যাচ শেষে তাঁকে খেলানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগই ছিল না। কারণ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অভিষেকেই তাক লাগানো পারফরম্যান্স তাঁর। ২০১৬-র আসরে খেলতে নেমেই বিস্ফোরক গেইলকে তো ফিরিয়েছেনই, অফস্পিনে ৫ উইকেট নিয়ে দলকে জিতিয়ে আফিফ হোসেন হয়েছিলেন ম্যাচের সেরাও।

বিপিএলের সবশেষ আসরও দেখেছে এ রকম অনেক পারফরমার। আরিফুল হক এঁদের অন্যতম। আফিফের মতো জমকালো অভিষেক দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট দৃশ্যপটে তাঁর আবির্ভাব নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটের চেনা মুখ তিনি বহুদিন ধরেই। তবে প্রচারের আলোটা আরিফুল সবচেয়ে বেশি কেড়েছেন ২০১৭-র বিপিএলে। খুলনা টাইটান্সের হয়ে রাজশাহী কিংসের ১৬৬ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার আনন্দে দেওয়া তাঁর লাফ উদ্‌যাপনের অন্যতম সেরা ছবি হয়ে আছে এখনো।

উদ্‌যাপনের বিশেষত্বে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়া বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলামও (অপু) সবশেষ বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের হয়ে দারুণ পারফরম করেছেন। ১০ ম্যাচে ১২ উইকেট নেওয়া নাজমুলের ‘সাপনৃত্য’ও দেখা গেছে নিয়মিতই। রাজশাহী কিংসের হয়ে একই আসরে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স আছে জাকির হাসানেরও। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ২৬ বলে খেলা অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংসটি এর অন্যতম। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছেন তরুণ অফস্পিনার মেহেদী হাসানও। নিয়মিতই নতুন বলে বোলিং করতে দেখা গেছে এই অলরাউন্ডারকে। আর খুলনা টাইটান্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে পেসার আবু জায়েদ (রাহি) ছিলেন গত বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

বিপিএল যেহেতু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাছাকাছি পর্যায়েরই টুর্নামেন্ট, কাজেই এবার এই ছয়জনের জন্য খুলে গেছে জাতীয় দলের দরজাও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজ প্রথম টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ স্কোয়াডে তাই নতুন মুখের ছড়াছড়িও। যদিও এমন সময়ে তাঁদের অন্তর্ভুক্তি, যখন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টের পর টেস্ট সিরিজেও ব্যর্থ বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে আকুল হয়ে থাকা দলে ঢুকেই তাই উত্তাপটাও ভালোই টের পাচ্ছেন নতুন এই খেলোয়াড়রা। দলের খারাপ সময় বলেই পারফরম করার চাপটা আরো বেশি। তাঁরা ভালো করেই জানেন দলে জায়গা পাওয়ার চেয়ে সেটি ধরে রাখা আরো কঠিন।

সুযোগ পেয়েই সেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে তাঁরা। বিপিএলে ভালো পারফরম করে দলে ঢুকেছেন। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তাঁদের কাছে সেই ফর্মটা ধরে রাখার আশা। যে আশার কথা বললেন অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহও, ‘নতুন যারা দলে এসেছে, সুযোগটা ওদের প্রত্যেকেরই প্রাপ্য ছিল। কারণ বিপিএলে ওরা সবাই ভালো খেলেছে। আশা করি সেই ফর্মটা ওরা এখানেও ধরে রাখবে।’ আবার দলের খারাপ সময়ে এসে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার পরামর্শও নতুনদের দিলেন তিনি, ‘টি-টোয়েন্টিতে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা উচিত। ব্যর্থতা নিয়ে চিন্তা করলে এই ফরম্যাটে সাফল্যের পরিমাণ কমে যাবে। এটি কাটাতে পারলে ভালো কিছু করা সম্ভব। দলের সবাইকেই এই বার্তাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি যেন কেউ ভয় এবং ব্যর্থতা নিয়ে না ভেবে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে।’

এই ছয়জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন আজ অভিষেকের অপেক্ষায়। দারুণ পারফরম্যান্স দিয়ে অভিষেক রাঙানোর জন্য তাঁদের তাতিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করলেন অধিনায়ক। চাইলেন তাঁদের মধ্যে দেখা যাওয়া সম্ভাবনা যেন পারফরম্যান্সে অনূদিত হয়, ‘নতুন মুখ যারা এসেছে, ওরা সবাই সম্ভাবনাময়। ওরা যদি ভালো পারফরম করতে পারে, তাহলে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি দলে জায়গা পেতে এসেছি, এই বার্তাটা দেওয়ার খুব ভালো সুযোগ ওদের সামনে। আশা করি সেরা ক্রিকেট খেললে ওরা জায়গাটা করে নিতে পারবে।’

দলের খারাপ সময় বলে নতুনদের কাছে ভালো পারফরম্যান্সের আশাটা তাঁদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জও।

 



মন্তব্য