kalerkantho


আন্দোলনে ক্ষোভ নেই মানুষের অভিভাবকরাও একাত্ম

শরীফুল আলম সুমন   

২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। অনেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে রাজপথেও রয়েছেন। আবার অনেক অভিভাবককে ফেসবুকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা যায়। এ ছাড়া গত কয়েক দিন রাজপথে জনসাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হলেও তাদের মধ্যে কোনো ক্ষোভ দেখা যায়নি।

রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহ্ মন্ওয়ার জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সবাই নিরাপদ সড়ক চাই। দেশের কোনো মানুষই এর বিপক্ষে নয়। আমি প্রথমেই আমার সন্তানের নিরাপত্তা চাই। তাই শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। সরকারের উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া। তবে ভাঙচুরের মতো কোনো ঘটনা যাতে শিক্ষার্থীরা না ঘটায় সে ব্যাপারে আমার অনুরোধ থাকবে।’

গতকাল বুধবার সকাল থেকেই রামপুরা ব্রিজে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বনশ্রী শাখা, রামপুরা একরামুন্নেছা কলেজ, ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজ, তেজগাঁও মডেল কলেজ, গুলশান কমার্স কলেজ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়। তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে, নিরাপদ সড়ক চাই’ বলে স্লোগান দিচ্ছে।

সেখানে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক যোগ দিয়ে সংহতি জানান। তাঁদের কেউ কেউ সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যারিকেডের ভেতরে কোনো অভিভাবককে ঢুকতে দেয়নি শিক্ষার্থীরা।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হোসনে আরা বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নিক, যাতে আমাদের সন্তানরা দ্রুত বাড়িতে ফিরে যেতে পারে। আর সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়, সেই ব্যবস্থা নিক সরকার।’

আরেক অভিভাবক সাইফুল আলম বলেন, ‘আমার সন্তানরাও তো প্রতিদিন রাস্তা দিয়েই স্কুলে যায়। কাল তো এমন ঘটনা আমার সন্তানের ক্ষেত্রেও হতে পারে। আমরা এখন শঙ্কিত যে আমাদের বুক না খালি হয়ে যায়। কয়েক রাত ধরে আমরা ঘুমাতে পারছি না। বাচ্চারা স্কুলে গেলে ভয়ে ভয়ে থাকি। এভাবে আর কত দিন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকার যেন দ্রুতই তা মেনে নেয়।’

শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক আটকানোর ফলে জনসাধারণ হেঁটে চলাচল করতে বাধ্য হয়। আবার অনেককেই দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এই ভোগান্তির পরও জনসাধারণের মধ্যে তেমন কোনো ক্ষোভ দেখা যায়নি। উত্তরা ও বিমানবন্দর চত্বর শিক্ষার্থীরা আটকে রাখায় অনেকটা হেঁটে এবং কিছুটা রিকশায় গতকাল উত্তরা থেকে বারিধারা ডিওএইচএসে পৌঁছেন কামাল উদ্দিন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্য, আমার সন্তানদের নিরাপত্তার জন্যই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। আমার হয়তো কিছুটা কষ্ট হয়েছে। কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সবার নিরাপত্তার জন্য এই কষ্টটুকু মেনে নিতে আমি রাজি।’

রামপুরা থেকে গুলশান লিংক রোড পর্যন্ত হেঁটে এসেছেন হালিম মিয়া। তাঁর বাসা নর্দ্দায়। তিনি গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর খবর শুনছি। অথচ আমাকেই প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে রাস্তায় বের হতে হয়। এমন ঘটনা তো আমার ক্ষেত্রেও হতে পারে। তাহলে আমার পরিবারের কী হবে। শিক্ষার্থীরা তো নিরাপদ সড়কের দাবিতেই রাস্তায় নেমেছে। সরকারকে অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে তাদের ঘরে ফিরিয়ে নেওয়া হোক।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একজন অভিভাবক লিখেছেন, ‘আমাদের সন্তানদের জন্য আমরা মায়েরা কী প্রতিবাদে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করতে পারি না, সারা ঢাকা শহরে। যে মা যেখানে থাকবে, আগামী শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাস্তা অবরোধ নয়, সন্তানের নিরাপত্তা আকাঙ্ক্ষায় দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিই, মায়েরা উদ্বিগ্ন, ভীত। কেউ কি এটা করবেন, মায়েরা?’



মন্তব্য