kalerkantho

বেড়ে ওঠার মাঠ কোথায়

শিশুর শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ অপরিহার্য ‘আমাদের শিশুরা যেন বেড়ে উঠছে ফার্মের মুরগির মতো’ মাঠে খেলাধুলা করা শিশুরা মেধা ও মননে ঘরবন্দি শিশুদের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ

তৌফিক মারুফ   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বেড়ে ওঠার মাঠ কোথায়

খেলার বদলে মেলা: মধুবাগের এই মেয়েটির মতো রাজধানীর প্রায় সব শিশুর জীবনই কষ্টবিধূর। ঘর আর স্কুলবন্দি জীবন তাদের। একটু খেলা, একটু ছোটাছুটি করার জায়গা নেই কোথাও। যে মাঠটুকু তাদের জন্য ছিল, সেখানে বসে মেলা, বাণিজ্য অথবা নির্মাণ সামগ্রীর পসরা। সম্প্রতি মধুবাগ মাঠে বসে শীতকালীন মেলা। খেলার মাঠের এই হাল দেখে শিশুটির মনে যে কষ্টের ঝড় বয়ে যায়, তার খবর কি কেউ রাখে? ছবি : মীর ফরিদ

প্রবাসী আকমল হোসেন কয়েক দিন আগেই দেশে এসেছেন। ব্যবসায়িক কাজের জন্য ছোটাছুটি করায় সন্তানদের পেছনে সময় দিতে পারছিলেন না। অবশেষে শুক্রবার বন্ধের দিনে দুই সন্তানকে নিয়ে লালমাটিয়া ‘এ’ ব্লকের বাসা থেকে এলেন কাছের নিউ কলোনি মাঠে। সাত বছরের ছেলে আর পাঁচ বছরের মেয়ের সঙ্গে নিয়ে এলেন একটি ফুটবলও। উদ্দেশ্য সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে নিজেও খেলা করবেন; ছোটাছুটি করবেন খোলা মাঠজুড়ে। কিন্তু মাঠের গেট দিয়ে ঢুকেই যেন তাঁর মাথায় আকাশ! মাঠের পাশে বসে পড়লেন গালে হাত দিয়ে।

জানতে চাইলে আকমল বলেন, ‘এখানে মাঠ কই? এ তো দেখছি গাড়ির হাট, নির্মাণ শ্রমিকদের শেড দিয়ে সব বেদখল হয়ে গেছে। অথচ আগে তো আমরা এখানে প্রতিদিন খেলাধুলা করতাম। এই মাঠটির এভাবে সর্বনাশ হয়ে গেল—খুবই কষ্ট পেলাম।’

শিশুর বাবা আকমল কষ্ট পেলেও এই মাঠ পেয়ে খুবই খুশি গাড়ির হাটের লোকজন আর বিকেলে মাঠজুড়ে চেয়ার বিছিয়ে দখলে রাখা খাবারের দোকানদাররা। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই ওই দোকানদারদের দখলে চলে যায় মাঠটি। আর গাড়ির হাটের দখলে থাকে শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।

অন্যদিকে মোহাম্মদপুর শহীদ পার্ক খেলার মাঠের পাশেই ভাড়া ফ্ল্যাটে তিন বছর ধরে বসবাস করেন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। ৯ বছর বয়সের ছেলে পড়াশোনা করে ধানমণ্ডির একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। এই তিন বছরে এক দিনের জন্যও ওই মাঠে যাননি। যায়নি তাঁর শিশু সন্তানটিও! ছেলেটি স্কুল থেকে ফিরে বেশির ভাগ সময়ই থাকে ঘরবন্দি; কম্পিউটারে কার্টুন ছবি দেখা কিংবা গেমস খেলা আর টিভি দেখা—এই তার জীবন। মাঝেমধ্যে মা-বাবার সঙ্গে দূরে কোনো পার্কে কিংবা মাকের্েটর স্পোর্টস জোনে ঘুরেফিরে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটায় শিশুটি।

ঘরের পাশেই এমন একটি মাঠ থাকতেও কেন ছেলেটি মাঠে যায় না—এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বরং বাবা আমিনুল পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘এই মাঠটি কী আসলেই মাঠ? আপনি নিজেও গিয়ে দেখেন তো এই মাঠের পরিবেশটা কেমন! এমন মাঠে কি আপনি আপনার নিজের সন্তানকে খেলতে পাঠাবেন বা নিয়ে যাবেন?

ওই কথার সূত্র ধরে সম্প্রতি এক বিকেলে মোহাম্মদপুর টাউন হলের পাশের এ মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা এ মাঠের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আশপাশের নানা ধরনের দোকানের জিনিসপত্র, বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান-ঠেলাগাড়ি। এর মধ্যে কেউ কেউ খেলাধুলা করলেও তারা বেশির ভাগই ওই বাজার ও আশপাশের দোকানের কর্মচারী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এ ছাড়া অনেকেই মাঠের এখানে-সেখানে গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে। পাশাপাশি দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যায় পথশিশুদের একটি দলকে।

জানতে চাইলে মাঠের পাশেই এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই মাঠটি আসলেই সব শ্রেণির মানুষের জন্য ব্যবহারের উপযোগী নেই। দিনের বেশির ভাগ সময়ই এখানে গাঁজাসেবীদের আড্ডা থাকে। ফলে খেলাধুলার পরিবেশ নেই বললেই চলে। আমরাও আমাদের সন্তানদের কখনো এখানে নিয়ে আসি না।’

এমন এক-দুটি নয়, ঢাকার অনেক মাঠই এখন রূপে টিকে আছে শুধু ‘মাঠ’ নাম ধারণ করে। আবার অনেক মাঠ রীতিমতো বিলীন হয়ে গেছে বিভিন্ন অজুহাতে, নানা স্থাপনায় কিংবা অবৈধ দখলদারদের কবলে। ফলে মাঠ যেন খেলার জন্য সোনার হরিণ হয়ে উঠছে দেশজুড়ে। ইট-পাথরের নগরায়ণের জাঁতাকলে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক খোলা মাঠের প্রাণ; খেলার মাঠের উন্মুক্ত জায়গা কিংবা বেশির ভাগ পার্ক। যতটুকু আছে তা-ও যেন যায় যায়। প্রাণজাগানিয়া মাঠের দৃশ্য যেমন চেনে না নতুন প্রজন্ম, তেমনি মাঠের খেলার স্বাদবঞ্চিত হয়ে শিশুরা বেড়ে উঠছে চার দেয়ালের ঘরবন্দি মানুষের মতো; দুরন্ত শৈশবের বদলে জড়তার অন্ধকারে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ। সেই সঙ্গে বড়রাও হারিয়ে ফেলছেন তাঁদের শৈশবের দেখা প্রাণবন্ত মাঠের চাঞ্চল্য; শরীরচর্চা-হাঁটাচলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। যার প্রভাবে শিশু থেকে বড় সবারই দেখা দিচ্ছে নানা রোগব্যাধি। বিশেষ করে শিশুদের মনোশারীরিক বিকাশ না ঘটার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থূলতা ও ডায়াবেটিকের ঝুঁকি। বড়দেরও ডায়াবেটিকসহ আরো অনেক অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির পেছনে নিয়মিত হাঁটাচলা কিংবা খেলাধুলা না করাকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আর জনস্বাস্থ্যের জন্য মাঠের এমন গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জনপ্রতি বিভিন্ন হারে খোলা মাঠের আয়াতন নির্ধারণ করেছে। যে হিসাবে বাংলাদেশে জনপ্রতি ৯ বর্গমিটার খোলা মাঠের প্রয়োজন বলে ধরা হয়। সর্বশেষ এক হিসাবে ঢাকায় জনপ্রতি দশমিক এক বর্গমিটারেরও কম মাঠ রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে সরকারেরই এক প্রতিবেদনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খেলাধুলা শিশুদের স্নায়ুকে সুস্থ রাখে, তাদের মেধা ও মননকে সমৃদ্ধ করে, শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর খেলাধুলার প্রধান মাধ্যমই হচ্ছে খোলা মাঠে ছোটাছুটি-দৌড়ঝাঁপ, শারীরিক কসরত। কিন্তু সেই মাঠ খেলাধুলার উপযোগী না থাকলে, পরিবেশ না পেলে এটা শিশুদের জন্য খুবই বিপজ্জনক। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এখন আগের চেয়ে মাঠের সংখ্যা যেমন বাড়ানো দরকার, তেমনি হারিয়ে যাওয়া মাঠ উদ্ধার করা জরুরি।’

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘মাঠ শুধু খেলাধুলাই নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের শরীর আর প্রাণের এক অপার বন্ধন। খোলা মাঠ মানুষের মনের প্রান্তরকেও উন্মুক্ত করার প্রেরণা জোগায়। অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রহরীর মতো কাজ করে।

এই মাঠ নিয়ে শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই হা-হুতাশ নয়, খোদ এই মাঠের রক্ষক; ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ডা. আমিনুল ইসলামের আক্ষেপের কমতি নেই। তাঁর কণ্ঠেও ক্ষোভ ও হতাশার সুর জোরালো হয়ে ওঠে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলতে বলতে।

জানতে চাইলে ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, খুবই কষ্ট লাগে আজকালকার শিশুদের অবস্থা দেখে। আমরা নিজেরা বড় হয়েছি মাঠে মাঠে খেলাধুলা করে, প্রতিদিন বিকেলে, স্কুল বন্ধের দিনে মাঠে কত দৌড়ঝাঁপ করেছি, সন্ধ্যার আগে ফুরফুরে মন নিয়ে নিয়মমতো ঘরে ফিরে পড়ার টেবিলে বসেছি। আর এখন আমাদের শিশুরা যেন ফার্মের মুরগির মতো বেড়ে উঠছে। ঘরে বসে টিভি আর কম্পিউটারে থাকতে থাকতে সুস্থ শরীর ও মনের বিকাশ বলতে কিছু থাকছে না। শিশুদের মধ্যেই আজকাল বড়দের মতো নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা যদি এখনো শিশুদের মাঠে নিয়ে যেতে না পারি, মাঠগুলো যদি শিশুদের জন্য উপযোগী করে দিতে না পারি, তবে কিন্তু আরো বড় বিপদ ঘনিয়ে আসছে জনস্বাস্থ্যের জন্য। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সমস্যা হচ্ছে মাঠের সংকট। স্কুলগুলোও পরিণত হচ্ছে একেকটি বদ্ধ ঘরে। বেশির ভাগ স্কুলেই এখন খেলার মাঠ নেই। আবার পাড়ার মাঠগুলোও হারিয়ে গেছে দখলে কিংবা নানা অবকাঠামো নির্মাণের ফলে।

মাঠ রক্ষায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার দপ্তরে সারা দেশে মাঠগুলোর কী অবস্থা, কয়টি খেলার মাঠ আছে কিংবা কত মাঠ প্রয়োজন—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ছিল না। এখন আমি একটি সার্ভে শুরু করেছি। সারা দেশে চিঠি পাঠিয়ে প্রতিটি এলাকার খেলার মাঠের সংখ্যা ও সেগুলো কী অবস্থায় আছে তা জানাতে বলেছি। এই কাজ সম্পন্ন হলে আমরা বলতে পারব দেশের কোথায় কয়টি মাঠ আছে। এখন পর্যন্ত কিন্তু তা বলতে পারছি না।’

তিনি আরো বলেন, আমি স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ল্যানসেটে দেখেছি, যেসব ছেলে-মেয়ে মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করার সুযোগ পায়, তারা মেধা ও মননে ঘরবন্দি শিশুদের তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ হয়, তাদের শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস অনেক ভালো থাকে। ফলে বড় হয়ে তারা আয়-রোজগারও ভালো করতে পারে। পরিশ্রম ও ধৈর্যে তাদের কোনো ঘাটতি থাকে না। কিন্তু আমাদের দেশে এখন নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসবের বড় ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের বেশির ভাগ সন্তান এখন এমনভাবে বেড়ে উঠছে, যারা পরিশ্রম করতে ভয় পায়, ধৈর্য ধরতে পারে না, বেশি বেশি অসুস্থ থাকে, ক্লান্তি-বিষণ্নতা তাদের ঘিরে ধরে, যার ফলে অনেকেই বিপথগামী হচ্ছে—মাদকে ঝুঁকে পড়ছে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা জানান, খেলাধুলা ও শরীরচর্চা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, অসংক্রামিত রোগ দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বে বছরে ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উপযুক্ত শারীরিক তৎপরতা না থাকার প্রভাবকে দায়ী করা হয়েছে।

খেলার মাঠ বিষয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশের এক গবেষণার সূত্র ধরে জানা যায়, ঢাকার বেশির ভাগ মাঠই এখন আর মাঠের চেহারায় নেই। অনেক ক্ষেত্রেই মাঠ আর পার্ক একাকার হয়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক মাঠ খেলার অনুপযোগী করে ফেলা হয়েছে। কোনো কোনো মাঠের ভেতরে ওয়াকওয়ের নামে আকার ছোট করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মাঠের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে ক্লাব বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ভবন। আবার কিছু কিছু মাঠকে ব্যবহার করা হয় নানা সাপ্তাহিক মেলা বা গাড়ির হাটের মতো বাণিজ্যিক কাজে। ফলে এসব মাঠের প্রতি শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বড়রাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এ ছাড়া আগে মাঠগুলোতে ছেলে-মেয়ে-নির্বিশেষে খেলাধুলা করলেও এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নেই তেমন পরিবেশ। আবার বড় বড় পার্কের ভেতরে বা উদ্যানে যে মাঠ রয়েছে, সেগুলোতেও পরিকল্পিতভাবে খেলাধুলার মতো তেমন পরিবেশ নেই। সেই সঙ্গে প্রতিবন্ধীদের জন্য এসব মাঠে কোনো খেলাধুলার সুযোগ নেই।

ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেমের প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা রাজধানীর রায়েরবাজার মাঠ, কলাবাগান মাঠ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মাঠ, মোহাম্মদপুর মাঠ, ধানমণ্ডি মাঠসহ কয়েকটি খেলার মাঠের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে দেখেছি, এসব মাঠে মেয়েদের খেলাধুলার কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। এ ছাড়া কলাবাগান মাঠে কলাবাগান ক্লাব ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার সীমিত। আবাহনি মাঠে ছেলেদেরই সুযোগ রয়েছে। রায়েরবাজার-মোহাম্মদপুরের কোনো কোনো মাঠে চল্লিশোর্ধ্ব নারীরা সকাল বা সন্ধ্যায় হাঁটতে পারলেও কিশোরী থেকে তরুণ বা যুবতী বয়সের মেয়েরা যেতে পারে না। মাঝেমধ্যেই কোনো তরুণী হাঁটতে গেলে পরিবেশের কারণে তারা অস্বস্তি বোধ করে, আশপাশের এক শ্রেণির ছেলেরা নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। মিরপুর মাজার রোডের ফুটবল মাঠের পাশ দিয়ে গার্মেন্টকর্মী নারীরা চলাফেরা করলেও তাদের খেলাধুলার সুযোগ নেই।

সংস্থার আরেকটি গবেষণায় উঠে আসা চিত্র অনুসারে রাজধানীর বাসাবো মাঠ, মিরপুর মাজার রোড মাঠ কিংবা বাংলাদেশ মাঠের মতো অনেক মাঠেই সুষ্ঠু কোনো পরিবেশ নেই। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও কোনো ব্যবস্থা নেই।

 


মন্তব্য