kalerkantho


এয়ারকন্ডিশনার বৃত্তান্ত

আনিকা জীনাত   

২২ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



এয়ারকন্ডিশনার বৃত্তান্ত

মডেল : জান্নাতুল প্রিয়াংকা ছবি : সানিম হক

প্রাচীনকালে বাতাস ঠাণ্ডা রাখার জন্য বরফ ব্যবহার করা হতো। ইংল্যান্ডে ১৭ শতাব্দীতে রাজা প্রথম জেমসের আমলে পানিতে লবণ ঢেলে তা ঠাণ্ডা রাখা হতো।

একই শতাব্দীর শেষভাগে ঘরের আবহাওয়া ঠাণ্ডা রাখতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বরফ উৎপাদন ও সংরক্ষণ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা হয় মেকানিক্যাল আইস মেকিং মেশিন। ঘরের বাতাস ঠাণ্ডা করার ধারণাটি এসেছে প্রাচীন মিসর থেকে। সেখানে কাশফুলজাতীয় গাছ পানিতে ভিজিয়ে জানালায় সেঁটে দেওয়া হতো। এতে জানালা দিয়ে আসা বাতাস ঠাণ্ডা হয়ে ঘরে ঢুকত। প্রাচীন রোমে ঘর ঠাণ্ডা রাখার জন্য দুই স্তরের দেয়াল তৈরি করা হতো। ইরানে ব্যবহার করা হতো কুয়া ও উইন্ডো টাওয়ার। চীনে দ্বিতীয় শতাব্দীতে হান রাজবংশের শাসনামলে উদ্ভাবক দিং হুয়াং সাতটি পাখাযুক্ত তিন মিটার লম্বা একটি ফ্যান তৈরি করেন। ফ্যান ঘোরানোর কাজটি করত যুদ্ধবন্দিরা।

 

আধুনিক এয়ারকন্ডিশনারের জনক

আমেরিকান প্রকৌশলী উইলিস হ্যাভিল্যান্ড ক্যারিয়ার ১৯০২ সালে বৈদ্যুতিক এয়ারকন্ডিশনার আবিষ্কার করেন এবং ১৯০৬ সালে পেটেন্ট লাভ করেন। তাঁর তৈরি প্রযুক্তির এসিই দুনিয়াজুড়ে ব্যবহার হচ্ছে। ১৯১৫ সালে আরো ছয় প্রকৌশলীসহ তিনি ৩২ হাজার ৬০০ ডলার খরচ করে ‘ক্যারিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৬ সালে শিকাগোর একটি গরুর খামারে প্রথম এসি বসান তাঁরা। ১৯২৬ থেকে বাসাবাড়িতে এসি ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৫০ সালের ৭ অক্টোবর হ্যাভিল্যান্ড ক্যারিয়ার মারা গেলেও থেমে থাকেনি ক্যারিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং। ১৯৭৯ সালে আমেরিকার ইউনাইটেড টেকনোলজিস ক্যারিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কিনে নিলেও ব্র্যান্ডের নাম বদলানো হয়নি। ১৭০ দেশে ক্যারিয়ার বাজারজাত হয়।

 

এসির প্রকারভেদ

উইন্ডো : দেয়াল জানালার মতো চারকোনা করে কেটে ফাঁকা স্থানে বসাতে হয় বলে এই এসির নাম উইন্ডো টাইপ। এতে কনডেন্সর, এভাপোরেটর, কম্প্রেসর, কুলিং কয়েল, এক্সপানশন ভাল্বসহ সব কিছু একসঙ্গে থাকে বলে একে ইউনিটারি এয়ারকন্ডিশনারিং সিস্টেমও বলা হয়। উইন্ডো টাইপ এসি বেশ শব্দ করে।

স্প্লিট : এই এসির দুটি ইউনিট থাকে। একটি ঘরের ভেতরে, আরেকটি বাইরে। ভেতরের ইউনিটটি তাপমাত্রা বাড়ানো-কমানোর কাজ করে। কনডেন্সর, কম্প্রেসর ও এক্সপানশন ভাল্বযুক্ত চারকোনা ইউনিট থাকে বাইরে। উইন্ডোর তুলনায় স্প্লিট এসিতে শব্দ কম হয়। দেয়ালে ছোট গোল একটি গর্ত করে এই এসি বসাতে হয়।

পোর্টেবল : মেঝেতে যেকোনো জায়গায় স্থানান্তরযোগ্য এই এসি রাখা যায়। এর বৈশিষ্ট্য অনেকটা উইন্ডোর মতো, ঘরের বিশুদ্ধ বাতাস টেনে ঠাণ্ডা করে ঘরের মধ্যেই ছেড়ে দেয়। আর গরমটুকু পাইপের মাধ্যমে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। উইন্ডোর মতো পোর্টেবলেও বেশ শব্দ হয়।

সেন্ট্রাল : মূলত বাণিজ্যিক ভবনে এ ধরনের এসি ব্যবহার করা হয়। সেন্ট্রাল এসির দুটি ইউনিট থাকে। ভেতরে থাকে কম্প্রেসর, কনডেন্সিং কয়েল আর ফ্যান। বাইরের ইউনিটে থাকে এভাপোরেটর কয়েল ও এক্সপানশন ভাল্ব। অন্যান্য এসির মতো সেন্ট্রাল এসি স্থাপন সহজ নয়। সাধারণত বিল্ডিং তৈরির সময়ই এ ধরনের এসি বসানোর ব্যবস্থা করতে হয়। সেন্ট্রাল এসিতে শব্দ কম হয়। এ ছাড়া থ্রো দ্য ওয়াল এবং প্যাকেজ টার্মিনাল—আরো দুই ধরনের এসি রয়েছে।

 

এয়ারকুলার কিন্তু এসি নয়!

অনেকে এয়ারকুলারকে এসি ভেবে ভুল করে। এয়ারকুলার মূলত পানি ভেজানো একটি প্যাডের ভেতর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত করে গরম বাতাসকে ঠাণ্ডা বাতাসে রূপান্তরিত করে। শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ায় রুমের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমাতে পারে। ঠাণ্ডা হাওয়া প্রবাহের পাশাপাশি রুমের আর্দ্রতা বাড়িয়ে তাপমাত্রা সহনীয় করতে পারে। তবে এয়ারকুলার কোনোমতেই এসির বিকল্প নয়।

এয়ারকুলারের দাম কম। ইনস্টলেশনের ঝামেলা নেই। বিদ্যুৎ খরচ এসির তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কম।

 

এয়ারকন্ডিশনার

এয়ারকন্ডিশনারের সংক্ষিপ্ত রূপ এসি। ঘরে আরামদায়ক তাপমাত্রা নিশ্চিত করতে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। বাষ্পীভবন ও একধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করেও এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এসি ব্যবহার করা হয়


মন্তব্য