kalerkantho


লে খা র ই শ কু ল

ই এম ফর্স্টার মনে করতেন, চলচ্চিত্র কিংবা মঞ্চ সাহিত্যকর্মের ঠিক বিচারটি করতে পারে না

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ই এম ফর্স্টার মনে করতেন, চলচ্চিত্র কিংবা মঞ্চ সাহিত্যকর্মের ঠিক বিচারটি করতে পারে না

ইংরেজি সাহিত্যের বিশ শতকের প্রথমার্ধের কথাসাহিত্যিকদের অন্যতম এডওয়ার্ড মর্গান ফর্স্টার বা ই এম ফর্স্টার। মা-বাবা দুজনই মারা যান ছেলেবেলায়। উত্তরাধিকার সূত্রে পান আট হাজার পাউন্ড। জীবনযাপনে এবং নিজের ইচ্ছামতো চলতে, পছন্দের পেশা বা লেখকের পেশা বেছে নিতে পারেন এই আর্থিক সম্পদের সাহায্যে। ফর্স্টার স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেন কেন্টের টনব্রিজ স্কুলে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর মেধার প্রখরতা বাড়তে থাকে সেখানকার শিক্ষা-আবহের কারণে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তিনি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সংস্কৃতির পরিচয় পান। নিজের দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য এলাকার সংস্কৃতির তুলনা করার সুযোগ পান তখনই। প্রথম উপন্যাস ‘হয়ার অ্যাঞ্জেলস ফিয়ার টু ট্রিড’ প্রকাশ করেন ১৯০৫ সালে। মানুষের অবস্থান তার শিকড়ের কাছাকাছি হওয়ার প্রয়োজন আছে—এমন একটা সত্যের প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করেন এ উপন্যাসে। আগের উপন্যাসটির মতোই বিষয়বস্তু নিয়ে ১৯০৭ সালে প্রকাশ করেন ‘দ্য লংস্ট্ জার্নি’ এবং ১৯১০ সালে প্রকাশ করেন ‘হাওয়ার্ডস অ্যান্ড’ উপন্যাসটি। ‘হাওয়ার্ডস অ্যান্ড’ দুবোন মাগ্যারেট এবং হেলেন সম্পর্কিত একটা প্রণোদনা সৃষ্টিকারী উপন্যাস। তাদের বাড়ির নামও হাওয়ার্ডস অ্যান্ড। সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে উপন্যাসের নাম। ‘হাওয়ার্ডস অ্যান্ড’ ফর্স্টারের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ১৯০৮ সালে প্রকাশ করেন ‘এ রুম উইথ আ ভিউ’। এডওয়র্ডিয়ান আমলের রক্ষণশীল সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা এক ইংরেজ মেয়ের ইতালি ভ্রমণের মধ্য দিয়ে সেখানকার তুলনামূলক মুক্ত সংস্কৃতির আবহে আসার কাহিনি আনা হয়েছে এ উপন্যাসে। উপন্যাসে কাহিনির পটভূমি হিসেবে এসেছে ইংল্যান্ড ও ইতালি। রোমান্স ও বিশ শতকের শুরুর ইংরেজ সমাজের সমালোচনা পাওয়া যায় এখানে। অনেক দিন পরে, ১৯৮৫ সালে, ইসমাইল মার্চেন্টের প্রযোজনা এবং জেমস আইভরির পরিচালনায় এ উপন্যাসের কাহিনি চলচ্চিত্রের রূপ পায়। দ্য মডার্ন লাইব্রেরি বিশ শতকের ইংরেজি ভাষার কালজয়ী এক শ উপন্যাসের তালিকায় স্থান দেয় ‘এ রুম উইথ আ ভিউ’কে। ১৯০০ সাল থেকে পরবর্তী দশ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে লেখা গল্প নিয়ে ১৯১১ সালে তিনি প্রকাশ করেন গল্প সংকলন ‘দ্য সেলেসশল ওমনিবাস’ এবং ১৯২৮ সালে প্রকাশ করেন ‘দ্য ইটার্নাল মোমেন্ট’। ১৯১২ এবং ১৯১৩ সালে তিনি বন্ধু সৈয়দ রস মাসুদের সঙ্গে ভারত ভ্রমণ করেন। ১৯১৩ ও ১৯১৪ সালজুড়ে লেখেন ‘মরিস’ নামের উপন্যাসটি। ফর্স্টারের বন্ধু কবি এডওয়ার্ড কার্পেন্টার এবং তাঁর সঙ্গী জর্জ মেরিলকে নিয়ে লেখেন এ উপন্যাস। এ ছাড়া ফর্স্টারের স্কুলজীবন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতাও কাজে লাগিয়েছেন এ উপন্যাসে। ভ্রমণবিষয়ক আরো বই  ‘অলেকজান্দ্রিয়া : আ হিস্ট্রি অ্যান্ড গাইড’ এবং ‘ফারোস অ্যান্ড ফারিলোন’। ১৯২৪ সালে প্রকাশ করেন ‘আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’। ভারতে ব্রিটিশ শাসন এবং বিশ শতকের বিশের দশকের ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে লেখা এ উপন্যাস। নিজের ভারতবাসের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি করেছেন কাহিনি এবং মার্কিন কবি ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা ‘প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’ থেকে উত্সাহিত হয়ে তৈরি করেছেন উপন্যাসের শিরোনাম। দ্য মডার্ন লাইব্রেরি ‘আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’ উপন্যাসকেও বিশ শতকের ইংরেজি ভাষার কালজয়ী এক শ উপন্যাসের তালিকায় রাখে। 

শুধু কথাসাহিত্য নয়, প্রবন্ধও লিখেছেন ফর্স্টার। উপন্যাসবিষয়ক তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধের নাম ‘অ্যাসপেক্টস অব দ্য নভেল’। মূলত ১৯২৭ সালে কেমব্রিজে দেওয়া ভাষণের সংকলন এটি। কালজয়ী উপন্যাস থেকে উদাহরণ দিয়ে উপন্যাসের সাতটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন : কাহিনি, চরিত্র, রূপরেখা, কল্পনা, ভাবীকথন, নকশা ও ছন্দ।

ফর্স্টার চাইতেন না, তাঁর উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র হোক। তিনি মনে করতেন, চলচ্চিত্র কিংবা মঞ্চ সাহিত্যকর্মের প্রতি ঠিক বিচারটি করতে পারে না। তা সত্ত্বেও তাঁর বেশির ভাগ লেখা চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে এবং ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। ১৯৪৬ সালে ফর্স্টারকে কিংস কলেজের অনারারি ফেলো নির্বাচন করা হয়। ১৯৪৯ সালে তাঁকে নাইট উপাধি দেওয়া হয়। তবে তিনি তা গ্রহণ করেননি। ১৯৫৩ সালে তাঁকে কম্প্যানিয়ন অব অনার এবং ১৯৬৯ সালে অর্ডার অব মেরিট সদস্যের সম্মান দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালের ৭ জুন তিনি মারা যান। তিনি আমৃত্যু লেখালেখি করে গেছেন।

দুলাল আল মনসুর



মন্তব্য