kalerkantho

ফিরে আসা শিকড়ে

শেখ মেহেদী হাসান

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফিরে আসা শিকড়ে

অঙ্কন : বিপ্লব

মার্টিন হিবার্ট উপসলা স্কুল অব নার্সিংয়ের সাইক্লোজির শিক্ষক। তাঁর প্রিয় বিষয় মানবিক পীড়ন, একাকিত্ব, অসমতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং র্যাপো। ছাত্ররা মুগ্ধ হয়ে তাঁর বক্তৃতা শোনে। অভিতা বারবারা ওই স্কুলের শিক্ষার্থী। এখন ইন্টার্নি করছেন। থিসিস সাবমিশন নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। গবেষণার বিষয় ‘যুদ্ধশিশুদের মানবিক পীড়ন’। গাইড ড. মার্টিন হিবার্ট। সপ্তাহে দুই দিন গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনায় বসতে হয় অভিতার। সুইডেন ও ডেনমার্কে বেড়ে ওঠা কুড়িজন যুদ্ধশিশুর মানবিক পীড়ন নিয়ে তিনি কেস স্টাডি করছিলেন। এই যুদ্ধশিশুদের বাংলাদেশ থেকে দত্তক নিয়েছিলেন একাধিক সুইডিশ ও ডেনিস দম্পতি।

অভিতা সুইডেনে বড় হলেও চেহারা মোটেও ইউরোপিয়ানদের মতো নয়। মার্টিন প্রথম থেকেই জানতেন তাঁর অর্জিন বাংলাদেশে। পূর্ব এশিয়ার এই দরিদ্র দেশটি নিয়ে মার্টিনের আগ্রহের কমতি নেই। তাই আগ বাড়িয়ে অভিতার খবর নিতেন। গবেষণার প্রতিটি বিষয় পর্যালোচনা করতেন। মার্টিন একসময় জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করেছিলেন বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানি শিশুদের নিয়ে। অভিতার কেস স্টাডি পড়ে মার্টিন বাংলাদেশ ভ্রমণের উত্সাহ দেখান। অভিতা বলেন, আমি তো বাংলাদেশে যাইনি। পাঁচ বছর বয়সে আমার স্টেপ মাদার সুইডেনে নিয়ে এসেছেন।

পড়াশোনা ও পেশাগত কারণে মার্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে অভিতার। ধীরে ধীরে সম্পর্ক নিবিড় হয়। ইউরোপিয়ানরা সম্পর্ক আর পানীয়তে কখনো ক্লান্ত হয় না। তা ছাড়া দুজনেরই জীবন উপভোগের সময় হয়েছে। মনোবিজ্ঞানী হিসেবে অভিতাকে মানসিকভাবে কাত করতে সময় লাগেনি মার্টিনের। যদিও ইউরোপীয় সংস্কৃতির অনেক কিছু তাঁর আয়ত্তে। অল্প দিনের মধ্যে তাঁদের বোঝাপড়া তৈরি হয়।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ও অবাধ যৌনাচার। ধর্ষণের শিকার কয়জন নারী পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিল, তা বলা মুশকিল। অন্যদিকে অল্প বয়সী যুবতীদের বাঁচিয়ে রাখা হতো বারবার ব্যবহারের জন্য। তাদের বিবস্ত্র অবস্থায় বেঁধে রাখা হতো, যেন পালাতে না পারে। কারো কারো জোরপূর্বক গর্ভধারণ করানো হতো। অপমান সহ্য করতে না পেরে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। যুদ্ধের পর যেখানে-সেখানে এসব নারীর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সমাজে ধর্ষিত নারীর ঠাঁই না থাকায় বেঁচে যাওয়া বীরাঙ্গনারা খুব কষ্ট নিয়ে জীবনপাত করত। ধর্ষিত নারীর গর্ভে জন্ম হয় কয়েক হাজার শিশু। চিকিত্সা ও পুষ্টিহীনতায় ধনী-গরিব-নির্বিশেষে বহু শিশু নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়। কারো আশ্রয় হয় সেবাসদনে। অনেকেই সন্তান ফেলতে না পেরে অন্য অঞ্চলে কিংবা অবৈধ পথ পেরিয়ে পাশের দেশে আশ্রয় নেয়। আর এসব শিশুকে আখ্যা দেওয়া হয় ‘বেআইনি শিশু’ বা ‘যুদ্ধশিশু’। অভিতা বারবারা তাঁদের একজন।

অক্টোবর ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জন্ম নেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু ও বীরাঙ্গনাদের কোনো তালিকা করা হয়নি। তবে ১৯৭২ সালে যুদ্ধশিশুদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগে চালু করা হয় ২২টি সেবাসদন। অভিতার স্থান হয় ঢাকার টঙ্গীতে অবস্থিত সেবাসদনে। সেখানে ঠিক কয়জন শিশু ছিল, তা বলা কঠিন। ওই সময় যুদ্ধশিশুদের মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর টনক নড়ে। মহীয়সী মাদার তেরেসা ২১ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ঢাকায় এসে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। তিনিই প্রথমবারের মতো পুরান ঢাকার ২৬ ইসলামপুরে অবস্থিত মিশনারিজ অব চ্যারিটিতে আটজন ধর্ষিত নারীর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেন। পরে ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে চারজন ভারতীয় সন্ন্যাসিনী দুজন নার্স নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন শিশু ভবন ও সেবাকেন্দ্র। এই সেবাকেন্দ্র বহু যুদ্ধশিশুর পরিচর্চার ভার নেয়। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে যুদ্ধশিশুদের দত্তক গ্রহণের আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন বিদেশ থেকে একাধিক দম্পতি ঢাকায় আসেন এবং তাঁরা এসব শিশুকে দত্তক নিতে শুরু করেন।

১৯৭৮ সালে অভিতাকে দত্তক নিয়েছিলেন সুইডেনের এক শিক্ষক পরিবার। পালক বাবা জন ডেকার আর মা ম্যারিয়েন বারবারা। উপসলায় যাওয়ার পর নতুন মা-বাবার আশ্রয়ে জীবন বদলে যায় অভিতার।

নার্সিং পড়া শেষে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন অভিতা বারবারা। চাকরি হয় উপসলা স্কুল অব নার্সিংয়ে। ইউরোপে একজন নার্সের মর্যাদা চিকিত্সকের সমান। সুতরাং তাঁর ভালোই কাটছিল পেশাগত জীবন। তা ছাড়া পরপর তিনবার তিনি ওই স্কুলের সেরা কর্মীর সম্মান লাভ করেন। এত সম্মান লাভের পরও দূর পরবাস তাঁর একটুও ভালো লাগে না। মন পড়ে থাকে জন্মভূমিতে। স্বজনদের খুঁজে পেতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে খোঁজ নেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধশিশু, অনাথ আশ্রমগুলো সম্পর্কে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করেন। বইপত্র পড়ে, ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে বিভিন্ন সংস্থাকে ই-মেইল করে ব্যর্থ হন।

মার্টিন হিবার্ট অভিতাকে বারবার তাগাদা দিচ্ছিলেন বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য। শিকড়ের সন্ধানে ১৯৯২ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন অভিতা। দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, স্বজনদের কেউ না কেউ বেঁচে আছেন। তাঁদের খুঁজে পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। উত্কণ্ঠার কালো ছায়া ফুটে ওঠে তাঁর চোখেমুখে। কোনো ক্লান্তি নেই। বুকের মধ্যে বাংলাদেশের ছোট্ট মানচিত্র আর ঢাকার গাইড বই নিয়ে ছুটে বেড়ান দুয়ারে দুয়ারে। মক্তব, মসজিদ, মন্দির, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা-পুলিশ, পত্রিকা অফিস—সব জায়গায় যান। ছাত্র, শিক্ষক, চেয়ারম্যান, মেম্বার, সাংবাদিক, পুরোহিত—কেউ তাঁকে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। খুঁজে পাননি টঙ্গীর সেই সেবাসদন। মনের মধ্যে এক বুক কষ্ট নিয়ে ফিরে যান সুইডেন।

অভিতা পেশাগত জীবনে সাফল্য লাভ করেন। অন্যদিকে মার্টিনের সঙ্গে শুরু হয় যৌথ জীবন। উপসলা স্কুল অব নার্সিংয়ের আবাসিক কোয়ার্টারে ছিলেন টানা পাঁচ বছর। তারপর অভিতার পছন্দে উপসলার প্রাণকেন্দ্রে বাড়ি কিনেছিলেন মার্টিন। সবুজ লন, স্পোর্টর্স জোন, জিম—সব মিলিয়ে দারুণ এক পরিবেশ। এ বাড়িতে তাঁদের দুই সন্তানের জন্ম। জুলিয়া ও রিটা। তাদের যত্ন-আত্তি নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটত অভিতার। সন্তান পালন করতে গিয়ে অভিতা নিজের মা-বাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তখন মনে হয়, যেকোনো মূল্যে তাঁর হারানো স্বজনকে খুঁজে পেতে হবে। একপর্যায়ে বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। এমনকি এ দেশের পাসপোর্ট পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশে কর্মরত সুইডিশ বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেন। ২০০৫ সালে আবার বাংলাদেশে আসেন অভিতা। সুইডিশ বন্ধুর সহায়তায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। এবারও বিধিবাম। কোনোভাবেই হারিয়ে যাওয়া বাবা, মা ও অন্য সদস্যদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। বারবার নিরাশ হয়েছেন, কিন্তু আশা ছাড়েননি।

মার্টিন স্টকহোম ইউনিভার্সিটির একটি কোর্সের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে আমন্ত্রণ পান। সুযোগটি কাজে লাগাতে তিন মাসের জন্য চলে যান স্টকহোমে। সেখানে তাঁর কাজ ছিল স্কুলশিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পাঠদান। ২৫ জন শিক্ষক তাঁর কোর্সে অংশ নেন। সেখানেই পরিচয় হয় অমিতার। তাঁর চেহারার সঙ্গে অভিতার ভীষণ মিল। মার্টিন ক্লাস শেষে অমিতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তুমি কি বাইবর্ন সুইডিশ।

অমিতা ডাইসন কোনো উত্তর দেননি। মার্টিন উপসলায় ফিরে বিষয়টি শেয়ার করেছিলেন অভিতার সঙ্গে। অমিতার ছবি দেখে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন।

গ্রীষ্মের ছুটিতে অভিতাকে নিয়ে মার্টিন বেড়াতে যান স্টকহোমে। অমিতার দেখা পেলেও তিনি তেমন আন্তরিকতা দেখাননি। তাঁকে দেখে অভিতার বিশ্বাস জন্মে, তিনি তাঁর আপন বোন। মার্টিন সুইডিশ পুলিশের সহায়তা নিয়ে অমিতা ডাইসনের স্টেপ মাদারকে খুঁজে বের করেন। তাঁরা দুজন দেখা করেন মিরা ডাইসনের সঙ্গে, এক প্রবীণ নিবাসে। স্বামী রবার্টের মৃত্যুর পর মিরার শেষ জীবনে আশ্রয় হয়েছিল তেরেসা শেল্টার হোমে। তাঁর এক ছেলে ও তিন দত্তক কন্যা শুধু বড়দিনের ছুটিতে তাঁকে দেখতে আসতেন। শেল্টার হোমের কথা শুনে অভিতা মিরার জন্য ফুল, ফল, জুস, ব্রেড, চকোলেট ও তিনটি বই সঙ্গে নিয়েছিলেন। দুটি গল্পের বই, অন্যটি বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে।

বৃদ্ধ মিরা ডাইসন মার্টিন ও অভিতাকে কাছে পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। উপহার পেয়ে তাঁর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বইটি পেয়ে তিনি শিশুর মতো কেঁদে ওঠেন। মিরা মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করেন, অভিতা, তুমি কি বাংলাদেশ থেকে এসেছ?

—অরিজিন বাংলাদেশ, তবে বড় হয়েছি সুইডেনে।

—জানো, আমি ও রবার্ট সে দেশে গিয়েছিলাম। আমার এক দত্তক কন্যার জন্ম বাংলাদেশে। অমিতা ডাইসন। তাকে ১৯৭৮ সালে ঢাকার কাছে টঙ্গীর একটি সেবাসদন থেকে দত্তক নিয়েছিলেন।

মিরা ডাইসনের কথা শুনে অভিতা নিশ্চিত হন, অমিতাই তাঁর হারিয়ে যাওয়া বোন।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অভিতা বারবারা আবার বাংলাদেশে আসেন। তাঁর ভাষাগত সমস্যা ছিল। এত দিন সুইডেনে থেকে বাংলা বুলি তাঁর মনে থাকার কথা নয়। এবার পত্রিকা অফিসে আসেন এবং অমিত রায় নামে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন। অমিত  জানতে চান, অনাথ আশ্রমের কথা আপনার মনে পড়ে?

—আমার এতটুকু মনে আছে, একটি বাড়িতে আমরা থাকতাম। সেখানে আমাদের মা-বাবা কেউ ছিলেন না। চারদিক দেয়ালঘেরা ওই বাড়িতে প্রায় কুড়িজন শিশু থাকত। তার মধ্যে আমার বোন অমিতাও ছিল। ও খুব ছোট ছিল। সারাক্ষণ ঘুমিয়ে থাকত। জেগে থাকলে কান্নাকাটি করত। আমরা ডাংগুলি খেলতাম। দৌড়ে বেড়াতাম। একজন সিস্টার সময়মতো খেতে ডাকতেন। তাঁকে আমরা সিস্টার মেরি বলে ডাকতাম। তিনি রাতের বেলা ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। মায়ের কথা মনে পড়লে রাতে ঘুম আসত না। ভাবতাম, মেরি সিস্টারই আমার মা।

—কোন সেবাসদনে ছিলেন, নাম শোনেননি?

—আমরা তো বাইরে আসতে পারতাম না। বন্দিশিবিরে আমাদের পাহারা থাকত।

—বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কোনো আলাপ হয়েছিল।

—এটুকু মনে আছে, একদিন সকালে আমাকে সুন্দর জামাকাপড় পরিয়ে অফিসরুমে আনা হয়। কেক খেতে দেয়। তারপর আর জানি না।

—তারপর তো সুইডেনে নিয়ে যাওয়া হয়।

—ঠিক তাই। আমার পালিত মা-বাবার কাছে দু-একটি কাগজ পেয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। সেবাসদনের রেকর্ড ছিল লালুরকান্দি ও আড়াইহাজার। সেবাসদনের রেকর্ড অনুযায়ী টঙ্গী, লালুরকান্দি, কুমিল্লার আড়াইহাজার প্রতিটি এলাকায় সফর করেন অভিতা। লিফলেট বিতরণ করেন মহল্লায় মহল্লায়। স্কুলে গিয়ে প্রচারণা চালান শিক্ষার্থীদের কাছে। পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রচার হয় টেলিভিশন সাক্ষাত্কার। বড় আশা করে এসেছিলেন অভিতা, এবার হয়তো কিছু হবে; কিন্তু না, তাঁকে আবারও ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হয় উপসলায়।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে অভিতা বারবারার ছোটবেলার ও বর্তমান ছবিসহ প্রতিবেদন ছাপানোর পর নানা স্থান থেকে মানুষ যোগাযোগ করে। তার পরও প্রকৃত কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইলের জ্যোতি মিত্র নামে এক ভদ্রমহিলা অভিতাকে শনাক্ত করেন। পত্রিকার ছবিসংবলিত প্রতিবেদনটি তিনি তাঁর বৃদ্ধ বাবা শ্যামল মিত্রকে দেখান। শ্যামল মিত্র চিনে ফেলেন অভিতাকে। তিনি সরকারি রাজস্ব বিভাগের চাকরি থেকে অবসরে আছেন। অভিতার দরিদ্র পিতা সিরাজুল মিত্রবাড়ির জমিজমা দেখাশোনা করতেন। তাঁর স্ত্রী ছিল ওই বাড়ির পুরনো গৃহকর্মী। মিত্রবাড়ির পরিবারের সদস্যের মতো। ১৯৭১ সালে মিত্রবাড়ি এবং সিরাজুল পরিবারের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন হয়। সব কিছু মনে আছে শ্যামল মিত্রের। খুব ছোটবেলায় অভিতা ও অমিতাকে দেখেছিলেন শ্যামল মিত্র। মায়ের মুখের সঙ্গে ওর চেহারার ভীষণ মিল।

শ্যামল মিত্রের কন্যা জ্যোতিই যোগাযোগ করেছিলেন সাংবাদিক অমিত রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, অভিতার আগের নাম নূরজাহান। ওর ভাই সোহরাব, বোন সাজেদা এখনো বেঁচে আছেন।

অমিত, দ্রুত অভিতার সঙ্গে কথা বলেন সুইডেনে।

অভিতা বারবারা বিস্মিত হয়; কিন্তু নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কিছুই করার নেই। তখন তিনি ডিএনএ টেস্ট করার পরামর্শ দেন। সোহরাব ও সাজেদার ডিএনএ টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেন অমিত। এবার সত্যি মিলে যায় তাঁদের রক্তের সম্পর্ক।



মন্তব্য