kalerkantho

বিশ্বসাহিত্য

রিয়াজ মিলটন   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



স্পাইডারম্যানের স্রষ্টা ডিটকোর জীবনাবসান

স্টিভ ডিটকো

মারভেল কমিকসের জনপ্রিয় সুপারহিরো ‘স্পাইডারম্যান’ ও ‘ডক্টর স্ট্রেইঞ্জ’-এর স্রষ্টাদের একজন স্টিফেন ডিটকো আর নেই। গত ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কার্টুনিস্ট ও লেখক ডিটকোর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। সংবাদমাধ্যম দ্য হলিউড রিপোর্টার জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে লাশ পাওয়ারও দুই দিন আগে মারা যান ডিটকো। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি পুলিশ। ১৯৬০-এর দশকে মারভেল কমিকসের লেখক স্ট্যান লির সঙ্গে মিলে ডিটকো সৃষ্টি করেছিলেন জনপ্রিয় চরিত্র স্পাইডারম্যান। স্ট্যান লি তখনো মারভেল কমিকসের প্রধান নির্বাহী হননি। ১৯৬২ সালে ‘অ্যামাজিং ফ্যান্টাসি’র ১৫তম সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয় স্পাইডারম্যান। স্পাইডারম্যান বললে চোখের সামনে যে লাল-নীল পোশাক আর ওয়েব শ্যুটারের যে ছবি ভেসে ওঠে তা এঁকেছেন ডিটকোই। শুধু স্পাইডারম্যান নন, স্ট্যান লিকে নিয়ে ডিটকো তৈরি করেছেন ‘ডক্টর স্ট্রেইঞ্জ’কেও। ১৯৬৩ সালে প্রথম ওই কমিকটি প্রকাশিত হয়। ১৯২৭ সালের ২ নভেম্বর  পেনসিলভানিয়ার জন্সটাউনে জন্ম ডিটকোর। স্ট্যান লির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ১৯৬৬ সালে মারভেল কমিকস ছেড়ে দেন আজীবন প্রচারবিমুখ ডিটকো। পরে ‘ডিসি কমিকসে’র সঙ্গে কাজ করে সৃষ্টি করেন ‘দ্য ক্রিপার’, ‘কোয়েশ্চেন’, ‘ব্লু বিটল’, ‘হৌক’, ‘ডাভ’ ইত্যাদি।

 

বুকার সেরা ‘দ্য ইংলিশ পেইশান্ট’

মাইকেল ওনদােজ

২৬ বছর আগে ১৯৯২ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার কমিটি দ্বিধায় পড়েছিল, মাইকেল ওনদােজ নাকি ব্যারি আনসওয়ার্থ—কাকে ওই বছরের বুকার পুরস্কার দেওয়া হবে। শেষে দুজনকেই যৌথভাবে ওই বছরের বুকারজয়ী হিসেবে ঘোষণা দেয়; কিন্তু এ বছর যখন বিগত ৫০ বছরের সেরা বুকারজয়ী বইটি নির্ধারণের প্রশ্নটি এলো বিচারকদের সামনে, তখন কিন্তু আর তেমন দ্বিধায় পড়তে হয়নি তাঁদের। বিচারক ও পাঠকদের ভোটে উতরে গেলেন ওনদােজ। তাঁর বেস্টসেলিং উপন্যাস ‘দ্য ইংলিশ পেইশান্ট’ জিতে নিয়েছে বিগত ৫০ বছরের সেরা বুকারজয়ী উপন্যাসের খেতাবটি। ম্যান বুকার কর্তৃপক্ষ এ বছর তাদের পুরস্কারের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেরা বুকারজয়ী বই নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য পাঁচ বিচারক বিগত প্রতিটি দশক থেকে একটি সেরা বই নির্ধারণ করেন এবং এর ওপরে পাঠকদের ভোট আহ্বান করেন। পাঁচ দশকের সেরা পাঁচটি বই ছিল—ভিএস নাইপলের ‘ইন অ্যা ফ্রি স্টেট (১৯৭১)’, পেনেলপি লাইভলির ‘মুন টাইগার (১৯৮৭)’, মাইকেল ওনদােজর ‘দ্য ইংলিশ পেইশান্ট (১৯৯২)’, হিলারি ম্যানটেলের ‘উলফ হল (২০০৯)’ এবং জর্জ সন্ডার্সের ‘লিংকন ইন দ্য বারডো (২০১৭)’। গত ৮ জুলাই লন্ডনের সাউথব্যাংক সেন্টারে বুকারের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেরা বইটির নাম ঘোষণা করা হয়।

 

গ্যালিক কবি নুয়ালার

পুরস্কার জয়

আইরিশ গ্যালিক ভাষার কবি নুয়ালা নি হোয়োনাইল পেয়েছেন ২০১৮ সালের ওজবিগনিয়েফ হার্বার্ত ইন্টারন্যাশনাল লিটারারি অ্যাওয়ার্ড। পোল্যান্ডের এ পুরস্কার দেশটির প্রয়াত কবি ও দার্শনিক ওজবিগনিয়েফ হার্বার্তের নামে প্রবর্তিত। গত বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে এক অনুষ্ঠানে নুয়ালাকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের ল্যাংকাশায়ারে জন্ম নুয়ালার। পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চলে যান আয়ারল্যান্ডে। কেল্টীয় লোাককাহিনি, পুরাণতত্ত্ব, আইরিশ ও ইংলিশদের মধ্যে সম্পর্ক ও নারীবাদের মতো সমসাময়িক বিষয় তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান বিষয়। নুয়ালার প্রথম আইরিশ কবিতা সংকলন ‘অ্যান ডিয়ালগ ড্রোইগিন’ প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। এরপর তিনি শিশুদের জন্য নাটক, চিত্রনাট্য ও প্রবন্ধ লেখায়ও হাত দেন। নুয়ালার রচনা ইংরেজি, এস্তোনীয়, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, নরওয়েজীয় এবং পোলিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় নুয়ালা বলেন, ‘পুরস্কার পেয়ে আমি নিঃসন্দেহে আনন্দিত। কারণ সংখ্যালঘুর ভাষায় লেখালেখি করলে তো সব সময় উপেক্ষিত থাকতে হয়, এমনকি নিজের দেশেও।’ তিনি আরো বলেন, ‘শুধু নিজের পক্ষ থেকেই নয়, আইরিশ ভাষাভাষীদের পক্ষ থেকে জুরি বোর্ডের সদস্যদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’ নুয়ালা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মূল গ্যালিক ভাষায় কবিতা আবৃতি করে শোনান। পোল্যান্ডের ওপর প্রতিবেশী দেশগুলোর নিষ্ঠুর আচরণের বিরুদ্ধে জাতীয় আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় কবি ওজবিগনিয়েফ হার্বার্তকে। ১৯৯১ সালে এই কবি ও দার্শনিককে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে তিনি মারা যান।

 



মন্তব্য