kalerkantho


ধারাবাহিক উপন্যাস

বিষণ্ণ শহরের গল্প

সেলিনা হোসেন

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিষণ্ণ শহরের গল্প

অঙ্কন : বিপ্লব

নয়

সার্টিফিকেট শব্দ ওর চারদিকে গুমগুম করে।

এই সার্টিফিকেট ওর ক্যারিয়ারের জন্য নয়। ফাঁসির দড়িতে ঝোলার জন্য। মৃত্যুর জন্য ওর শরীর একদম সুস্থ। জেল কর্তৃপক্ষের কোনো চিন্তা নেই। সার্টিফিকেটের অর্থ আজ এই রাতে ওর জন্য এমনই। এতটা বয়স পর্যন্ত যেসব সার্টিফিকেট পেয়েছে, তার সঙ্গে এই সার্টিফিকেটের গভীরতম সম্পর্ক আছে। এক রকম সার্টিফিকেট জীবন নির্মাণে সহায়তা করে, আর এই সার্টিফিকেট বিচারের রায়ের সত্যকে সহায়তা করবে। হ্যাঁ, সার্টিফিকেট, সার্টিফিকেট! আবার মুচড়ে ওঠে শরীর। চিৎকার করতে ইচ্ছা করছে। চিৎকার করাটা এখন সবচেয়ে প্রিয় কাজ বলে মনে হচ্ছে। মুখ হাঁ করতে না করতে ভেসে আসে শহরের কণ্ঠস্বর।

—বেশি বাড়াবাড়ি করিস না, খুনি।

—খুনি! খবরদার, তুমি আমাকে খুনি বলবে না! শহর, তুইও বেশি বাড়াবাড়ি করবি না।

—খুনি না হলে তুই কী?

—আমি তো মানুষ।

—ওহ মানুষ, ভাবলেও আমার শরীর দুমড়ায়। আমি তোকে মানুষ ভাবি না।

—তুই মর! মরে যা, শহর।

—আমার মরণ সহজ কাজ না। আমি মরলে তোরা মানুষরা গাদিয়ে যাবি আমার নিচে। তুই জানিস না, মাটির ওপরে গড়ে ওঠে শহর। মানুষ আমাকে বাঁচিয়ে রাখে। আমাকে বাঁচিয়ে রেখে মানুষও বেঁচে থাকে। আমাকে সুন্দর রাখার জন্য হাজার রকম চেষ্টা করে।

—ওহ, নিজের বাহাদুরি দেখাচ্ছ! আমাকে এসব কথা বলে লাভ নেই। তোর বাহাদুরি—

—বাহাদুরি না, সত্য কথা। সার্টিফিকেট নিয়ে তুই ভালোমানুষি দেখিয়েছিস, এটা তোর সাজে না।

—তুই আমার কথা বলবি না, শহর। আমি নিজেকে সবচেয়ে ভালো বুঝি। আমি জানি, আমার শুভবুদ্ধি জিরো।

—হ্যাঁ, এটা মনে করে শান্তি খোঁজ।

—ছোটবেলা থেকে নিজের লোভ আমার কাছে বড় ছিল। যা কিছু হাতের মুঠোয় পাব বলে ভেবেছি, সেটাই পাওয়া আমার কাছে জরুরি ছিল। আমি আর কোনো কিছু পরোয়া করিনি। আমি এভাবে আমার খুশিমতো দিন কাটাতে চেয়েছি। এটা কি অন্যায়?

—এক শবার অন্যায়। সবার মাথার ওপর পা রেখে নিজের মতো করে বাঁচতে চাওয়া অন্যায়। শত শত বারের অন্যায়। এই অন্যায়ের ক্ষমা নাই!

সুজন আর কথা বাড়ায় না। একই ভঙ্গিতে হ্যাঁ উচ্চারণ করলে মুচড়ে ওঠে শরীর। ঘরের মেঝেতে দাঁড়িয়ে মাথা চেপে ধরে। এই শহরের বিষণ্নতা ওর প্রবল শূন্যতার সঙ্গে মিলে যায়। মনে হয়, কোথাও প্রেম-ভালোবাসা নেই। এই শহরে মনিরা-আসমা কোনো দিন ছিল না। ছোট থেকে দেখে আসা হাসি, মুক্তা, বানু, গোলাপিরা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ের বাসন্তী, লায়লা, শেলী, জুলেখারা নেই। কোনো দিন ও কাউকে দেখেনি। এক আশ্চর্য শহরের বুকে দাঁড়িয়ে নিজেকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না সুজন। চিৎকার করে বলে, আমি নেই হয়ে গেছি। এই শহরের কোথাও আমি নেই। কোনো দিনও ছিলাম না। ও কনডেম সেলের চারদিকে তাকায়।

ভেসে আসে শহরের কণ্ঠস্বর, আইজি প্রিজনস কারাগারে ঢুকেছে। নাজিমুদ্দিন রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের হাঁটাচলাও নিষেধ।

—ঠিকই আছে। আগে যখন কারো ফাঁসি হয়েছে, আমি তো এমনই শুনেছি। আমাকে তোমার নতুন করে জানানোর দরকার নেই, শহর।

—চারদিকে অসংখ্য পুলিশ, গোয়েন্দার লোকেরা জেলখানার গেটে অবস্থান নিয়েছে। একটি আর্চওয়ে মেশিন বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।

—হবেই তো। তুমি আমাকে জানাচ্ছ, সে জন্য থ্যাঙ্কু।

হা হা করে হাসে সুজন। দড়িতে ঝোলার আগে হাসবে না বলে ঠিক করেছিল। এখন কেন হাসি পাচ্ছে ওর? হাসবেই তো। জেলখানায় কর্তাব্যক্তিদের ঢোকার বর্ণনা শুনে তো হাসি পাবেই। হয়তো একটু পরে শহর বলবে, ঢাকার জেলা প্রশাসক আর সিভিল সার্জন কারাগারে ঢুকেছে। নিরাপত্তার বিষয় তদারক করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা ঢুকেছে। দেখো, তোমার জন্য কত আয়োজন।

—আয়োজন আমার জন্য না। বিচারের রায় কার্যকর করার আয়োজন চলছে।

—উপলক্ষ তুমি।

—হ্যাঁ, আমি তো আমিই। তবে এক অর্থে আমি নই। লক্ষ্যটা ফাঁসির দড়িতে মৃত্যু।

—এসব ভাবনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছিস, সুজন। ঘড়ি দেখ। কয়টা বাজে দেখে নিজেকে প্রস্তুত কর। অস্থিরতা কমা।

—আমি অস্থিরতা কমাতে পারব না। অস্থিরতা এখন আমার মরা-বাঁচার সঙ্গী। সেই সঙ্গে চিৎকার আমার বেঁচে থাকার জানান দেওয়া।

—এত কিছু ভাবিস কেন, বল তো?

—ভাবনা মাথায় আসে। আমি কী করব।

—বেশ তো, নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলছিস।

—না বলে আর কী করব? একা একা মানুষ আর কী করতে পারে?

—ঘড়ি দেখতে বলেছি তোকে?

—তাই তো। ঘড়ি দেখতে হবে।

নিজের সঙ্গে কথা বলে ঘড়ি দেখে সুজন। রাত এগারোটা বেজে পনেরো মিনিট হয়েছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবে, আর কতক্ষণ সময় আছে ওর সামনে? সময়টা কি ঘণ্টা নাকি মিনিট? নাকি সেকেন্ড? না, সেকেন্ড হবে না। সামনে অনেক কিছু বাকি। নিজেই বিড়বিড় করে, রাত সোয়া এগারোটা হয়েছে। আর কতক্ষণ পর বারোটা বাজবে। ও চিৎকার করে বলে, আমাকে কেউ একটা ঘণ্টা দাও। আমি ঘণ্টা বাজাতে চাই। চিৎকার করে বলতে থাকে—ঢং ঢং ঢং ঢং।

খুলে যায় কনডেম সেলের দরজা।

ও তখনো চিৎকার করে ঢং ঢং বলতে থাকে।

—বেরিয়ে আসুন।

—কেন?

—প্রশ্ন করবেন না। বেরিয়ে আসুন।

—আমি আপনার নাম জানতে চাই।

—আমার নাম রবিউল ইসলাম।

—ওহ, রবিউল! রবিউল—

—কর্মকর্তা ধমক দিয়ে বলে, বেরিয়ে আসুন।

সুজন চারদিকে তাকায়। তারপর গট গট করে সেল থেকে বেরিয়ে আসে। পেছনে রবিউল। লোকটির আচরণে অবাক হয় রবিউল। ও এমন করছে কেন? ওর ভেতরে কোনো ভীতি কাজ করছে না, তা বোঝা যাচ্ছে। ওর মাথায় গোলমাল হয়েছে। সুজন ঘাড় ঘুরিয়ে রবিউলের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞেস করে, আমি এখন কোথায় যাব?

—এত কিছু আপনার জানার দরকার নেই। আপনাকে এখন ফাঁসির পোশাক পরতে হবে। সে জন্য আপনাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

—ওহ, নতুন পোশাক পরতে হবে? বেশ তো। নতুন পোশাক পরতে আমার ভালো লাগে। এই পোশাকটাও বাবা আমার জন্য রেখে গেছে। নতুন পোশাক। ছোটবেলায় আমি বাবা-মায়ের কাছে বেশি বেশি নতুন জামা চাইতাম। সবাই আমাকে নতুন জামা দিয়ে ভরিয়ে দিত। এক ঈদে আমি একত্রিশটা জামা পেয়েছিলাম।

 

—আপনাকে বেশ উত্ফুল্ল মনে হচ্ছে?

—নতুন জামার কথা শুনে আমি খুশি হয়ে গেছি।

—এই জামা পরবেন, তা আপনি জানতেন।

—হ্যাঁ, জানতাম তো। জানব না কেন?

—এটা নিয়ে এখন খুশি হওয়ার দরকার আছে?

—আছে, আছে। কত মানুষই তো মারা যায়; কিন্তু কয়জনের নতুন পোশাক পরার ভাগ্য হয়। আমার ভাগ্য হয়েছে।

—ভাগ্য! কর্মকর্তার মেজাজ খারাপ হয়। লোকটির মাথা ঠিক নেই বলে ও মনে করে। কঠিন স্বরে বলে, এত কথা শোনার আমার সময় নেই। আপনি চলুন।

—আমার খুশির কথা শুনতে আপনার ভালো লাগছে না?

—না। একদম না। আপনি চলুন।

সুজন হাঁটতে শুরু করে। চারদিকে তাকিয়ে বলে, রাতটা কী সুন্দর! ফ্লাডলাইটের আলো আমার কাছে জ্যোত্স্নার মতো লাগছে।

জেলখানার কর্মকর্তা কথা বলে না। সে বিরক্ত বোধ করছে। এমন পাগল লোকের সঙ্গে এই রাতে কথা বলতে হচ্ছে, এটাও ওর জন্য দুর্ভাগ্যের। সামনে মরণ রেখে এত কথা কিসের এই খুনির? নাকি আবোলতাবোল কথা বলে নিজেকে সামলাচ্ছে? নিজেকে বুঝের মধ্যে রাখার জন্য এটাও এক ধরনের আচরণ। না, সবাই এক রকম আচরণ করে না। ও নিজেও তো আরো দুজন ফাঁসির আসামি দেখেছে। একজন অনবরত কাঁদছিল। ফাঁসিতে ঝোলানো পর্যন্ত কান্না থামেনি। আর অন্যজন একদম স্তব্ধ হয়ে ছিল। কারো সঙ্গে কথা বলেনি। কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়নি। তার চোখে কোনো পানি ছিল না। শক্ত হয়ে ছিল। ফাঁসির মঞ্চে ওঠার সময় পাও কাঁপেনি।

জেল কর্মকর্তা দেখতে পায়, সুজন ওর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ভুরু উঁচু করে জিজ্ঞেস করে, কোথায় যাব?

—ওই ঘরে।

—ওখানে কী করবেন?

—ওখানে কী করবেন তা কি আপনি ভুলে গেছেন?

—একেবারেই ভুলিনি। এই পোশাকটা ফেলে দিয়ে ফাঁসির পোশাক পরব।

—আসুন। এটা আমার বসের ঘর।

দুজনে বারান্দায় ওঠে। সুজন আর কথা বলে না। ঘরে ঢুকলে জেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাসিবুল হক তাকে বলে, আসুন। তাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসা অফিসারকে বলে—রহিম, ওনাকে ওই টেবিলের ওপর রাখা পোশাক দাও। পাশের ঘরে নিয়ে যাও তার পোশাক বদলানোর জন্য।

পোশাক নিয়ে দুজন পাশের ঘরে যায়।

—আপনি বেরিয়ে যান। আমি দরজা বন্ধ করব।

—না, সেটা হবে না। আমাকে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকার হুকুম দেওয়া হয়েছে। বাইরে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। আপনি পোশাক বদলানো শেষ করুন।

রহিম দরজার দুই পাল্লা বন্ধ করে মাঝখানে সামান্য ফাঁক রেখে দাঁড়িয়ে থাকে। আশপাশে অন্যরাও দাঁড়িয়ে আছে। ফাঁসির আসামিকে এখন ফাইনাল স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হবে। সাদা পায়জামা আর সাদা রঙের হাফহাতা ঢোলা শার্ট পরে বেরিয়ে আসে সুজন। ও আবার অস্থির হয়ে ওঠে। চারদিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে, আমি ঘুমাতে যাব। আমার ঘুম পেয়েছে।

কেউ ওর সঙ্গে কথা বলে না। একসময় ওর চিৎকার থেমে যায়। ওকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চের পাশের একটি ঘরে। ডাক্তার রেডি ছিল। শুরু হয় চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা। সুজন নিজেকে ছেড়ে দেয় ডাক্তারের হাতে। শব্দ করে না, কথা বলে না। পরীক্ষা শেষ হলে ডাক্তার বলে, আমার কাজ শেষ হয়েছে।

—ভালোই তো। এবার মরণের দড়িতে ঝুলব।

ডাক্তার কথা বলে না। ডাক্তারি যন্ত্রপাতি গুছিয়ে বের হওয়ার আগেই সুজন বলে, কয়টা বাজে?

—কয়টা বাজে? কেন?

—আপনাকে জিজ্ঞেস করছি। কারণ আমার কাছে ঘড়ি নাই।

—সময় জানতে যাচ্ছেন কেন?

—আমার জীবন থেকে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। জানতে চাচ্ছি, আমি আর কয় মিনিট বেঁচে থাকব।

ডাক্তার ঘড়ির দিকে তাকায়। একটুক্ষণ তাকিয়েই থাকে। মুহূর্তের ভাবনায় মনে হয়, এমন আজব লোক সে আর দেখেনি।

চিৎকার করে ওঠে সুজন। ঘুষি উঁচিয়ে বলে, কথা বলছিস না কেন, শয়তান?

দু পা পিছিয়ে গিয়ে ডাক্তার বলে, এগারোটা পঁয়তাল্লিশ মিনিট বাজে।

—ঘুষি খাওয়া থেকে বেঁচে গেলি।

সুজন চেঁচিয়ে কথা বলে। গোঁ গোঁ শব্দ করে। অস্থিরতা ওকে উন্মত্ত করে তোলে। ডাক্তার বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। একজন এসে ওর হাত চেপে ধরে।

—আপনি আর চিল্লাবেন না। এখন আপনাকে তওবা পড়ানো হবে।

—কে পড়াবে?

—জেলখানার মৌলভি সাহেব।

—ওহ, শব্দ করে নিস্তব্ধ হয়ে যায় সুজন। শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের দিকে। অল্পক্ষণে মৌলভি সাহেব আসেন। সুজন শান্ত আচরণ করে। এখন তার অস্থিরতা নেই। চিৎকারও করে না। মৌলভি সাহেব তওবার জন্য যা বলেন, তা নিজেও বলে। মৌলভি সাহেব সুরা পড়েন। নফল নামাজ পড়েন। সুজন নিশ্চুপ তাকিয়ে থাকে। মৌলভি সাহেব বলেন, আমার সঙ্গে সঙ্গে সুরা পড়েন। সুজন নিশ্চুপ তাকিয়ে থাকে। কোনো ধরনের সাড়া করে না। মৌলভি সাহেব বেরিযে গেলে সুজন অন্যদের জিজ্ঞেস করে, কয়টা বাজে?

একজন বলে, বারোটা দশ মিনিট। আসেন আমাদের সঙ্গে।

তিন-চারজন ওকে ধরে ফাঁসির মঞ্চের কাছে নিয়ে আসে।

সুজনকে যমটুপি পরানো হয়।

ওকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে চারজন জল্লাদ। ওরা ওকে রশি পরায়। ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেটসহ দাঁড়িয়ে থাকা কর্মকর্তারা এদিক-ওদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলে। কেউ সরাসরি তাকিয়ে থাকে না। কপিকল ঘোরানো হওয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ডাক্তার ঘড়ি দেখেন। রাত বারোটা ত্রিশ মিনিট বাজে। যে লোকটির বুকের ভেতর সময় জানার হাহাকার ছিল, সে আর কোনো দিন সময় জানতে চাইবে না।

রাত একটার সময় সুজনকে ফাঁসিকূপ থেকে নামানো হয়। দুজন ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

মরদেহের দিকে তাকিয়ে থাকে নুটু জল্লাদ। তার জল্লাদজীবনে এটা এগারোতম মৃত্যু। ও দুহাতে মুখ ঢাকে। মাথা ঝাঁকায়। একসময় পিছু সরে আসে।

 

চলবে ►►


মন্তব্য