kalerkantho

ফিরে আসি

নাসির আহমেদ

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ফিরে আসি

যেতে যেতে ফিরে আসি কী নিবিড় সৌন্দর্যের

অলকানন্দার পথ থেকে

একদিন কী নিমগ্ন নিষ্ঠা ভেঙে অকস্মাত্স

ন্দেহের কালো কাক উঠেছিল ডেকে!

যৌথ নির্জনতা ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিল

যেন তপ্ত দীর্ঘশ্বাস

অথচ বৃষ্টি তো নয়!

একাকী কেঁদেছে শুধু আমার আকাশ।

গাউসুর রহমান

পদ্মফুলের মৃদুগন্ধ

রুক্ষ পাথুরে জমিতে শুকনো পাতার আছড়ানির শব্দ

কেমন যেন ধাতব ধাতব মনে হয়

আমার মাথা মগজ কবেই ভোঁতা হয়ে গেল

ফিল্টার উইলস কী জানি না।

রেচন প্রক্রিয়াও ঠিক না

ঘরের দরজা-জানালার মতো জড় পদার্থ মনে হয় নিজেকে।

ক্যালেন্ডার পাতা ফরফর করে উড়ে গেলেও

আমার নিজের দুঃখগুলো উড়ে যায় না।

পুরনো পাথর বুকে চেপে আছি কতকাল

এক-একবার মনে হয় মেনিনজাইটিসে ভুগে বোবা হয়ে যাব

ঘরে মুখ গুঁজে পড়ে থাকি

ঝকঝক করছে সোনালি রোদ্দুর

সেই বিকেলের গন্ধ মেখে বাতাস যেন থমকে আছে

তুমি দূরে বলে স্থানুর মতো পড়ে থাকি।

পদ্মফুলের মৃদুগন্ধ নাকে লাগে

অব্যক্ত বেদনার বরফ গলে না

তোমার গোলাপি ফুল মার্কা শাড়ি ও পদ্মময়

পদ্মফুলের মতো ফুটে আছে একটি মেয়ে নদীর চরজাগা বুকে বিষ মেখে

মেয়েটির বুকে পদ্মফুলের চিকন পাপড়ি দুলছে।

বহু দিনের বন্ধ ঘরে একঝলক হাওয়া আর লাগে না।

কোহিনূর আক্তার

প্রেমের অপেক্ষা

আমি আজও সীমাহীন কাকুতির
কাছে হার মেনেছি,
হার মেনেছে অপেক্ষা।
হাতে বাদামি রঙের কড়া পড়েছে
হাজার মাইল অরণ্য কেটেছি শক্ত কুঠরে তোমার আসার পথটা প্রশস্ত করতে।

সেই সোনাঝড়া যৌবন সঁপে দিয়েছি
তোমার অপেক্ষায়।
অনন্ত হূদয়ে পাথরকে বর করে সংসার করছি
এক ফোঁটা অশ্রু আর অপূর্ণ স্বপ্নের সাথে।


আজও আমি অরণ্য কেটে চলেছি শক্ত কুঠরে
তুমি আসবে বলে।
জীবন মাঠে স্বপ্নের ভূমিতে কষ্টের চাষ করে চলেছি
তুমি আসবে বলে।
সেদিন ঘোলাটে চোখে কুঁচকে যাওয়া মুখের ভাঁজে
বিলীন হবে আমার অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস।

আমি তোমাকে ভালোবাসি ইতিহাসের পাতায় সাক্ষী
হবে তুমি এই অশান্তি মনে এক ফোঁটা জহর শান্তি।
নাই বা পেলাম তোমায় জীবনে কোনবার।
চেয়ে আছি দূর সীমানায়।
এই বুঝি এলে দূরন্ত অর্শ্বে চড়ে নিরন্তর স্বপ্নের হাত বাড়িয়ে।
কি আসবে?


মন্তব্য