kalerkantho


ধারাবাহিক উপন্যাস

বিষন্ন শহরের গল্প

সেলিনা হোসেন

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বিষন্ন শহরের গল্প

অঙ্কন : বিপ্লব

দুই

সুজন ফিরে আসে নিজের ভাবনায়। কনডেম সেল জীবনের নতুন ঠিকানা।

এভাবে ঠিকানা বদল বেঁচে থাকার খেলা। শব্দ করে জোরে জোরে হাসে সুজন। বিছানায় গড়াগড়ি দিয়ে হাসে। হাসি থামাতে পারে না, যেন ফুত্কারে উড়িয়ে দেওয়া মৃত্যু শব্দ। মুনিরা কাছে থাকলে বলত, এভাবে হাসা পাগলামির চেয়েও বেশি। কাকে ভেবে তুমি এমন করে হাসছ?

—কাউকে ভাবতে হবে কেন? আমার ইচ্ছা হয়েছে, সে জন্য হাসছি।

—ইচ্ছা-অনিচ্ছার রাশ টানা ভালো।

—উপদেশ দিয়ো না। তুমি আমার মাথার ওপরের কেউ না যে উপদেশ দিতে পারো।

—আমি তোমার ভালোমন্দে নেই?

—না। একদম নেই। আমার ভালোমন্দ আমার একার অনুভব। কেউ নাক গলালে সেটাকে আমি অধিকার লঙ্ঘন মনে করি।

—আমি যদি আমার মতো করে ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রশ্রয় দিই, তা কি তুমি মানবে?

—না, একদমই না। তোমাকে আমার কথা শুনতে হবে। আমি যা বলব তা শুনতে হবে।

—নিজেরটা তো বেশ বোঝো দেখছি।

—দেখার অনেক কিছু বাকি আছে। সবে তো শুরু। মুনিরা বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে থাকে। কথা বলতে পারে না। বিয়ের পর চার বছর পার হয়ে গেছে। এই কয় বছরে স্বামী হিসেবে লোকটিকে বোঝাই হলো না। ও ওর জগতে থাকে। নেশা করে। জুয়া খেলে। ঘরে ফিরলে জামায় লিপস্টিকের দাগ লেগে থাকে। বললে চিত্কার করে ধমকায়। গায়ে হাত তোলে। অথচ বিয়ের দিন থেকেই ওকে ওর খুব পছন্দ ছিল। টানা বড় চোখ স্বপ্নভরা—এমন ধারণা নিয়ে খুশি হয়ে ভেবেছিল জীবনপথে হাঁটার সময় কখনোই ওর হাত ছাড়বে না। ওর চেহারা দারুণ টানত ওকে। বলত, ও সবার মতো না। কখনোই বলা যাবে না যে সুজন কাদেরের মতো কিংবা ওর সঙ্গে আমিনের চেহারার মিল আছে। এখন দিন গড়ায় মাত্র, শুধুই শূন্যতার ঘেরাটোপে বেঁচে থাকা। টানা বড় চোখ দুটি আস্তাকুঁড়। ময়লা ছাড়া ওখানে আর কিছুই নেই। এসব কথা অনায়াসে সুজনকে বলে দিত ঝগড়ার সময়। কোনো কিছুই মুনিরার মুখে আটকাত না।

আকস্মিকভাবে হাসি বন্ধ হয়ে যায় সুজনের। বিছানায় উঠে বসে। ঘড়ির দিকে তাকায়। সাড়ে ১২টা বাজে। কনডেম সেলের দরজা খোলে কবির।

—আপনার জন্য দুপুরের খাবার।

ও সাড়া দেয় না। চুপ করে বসেই থাকে। টেবিলের ওপর খাবার রাখতে রাখতে বলে—এই খাবার আপনার বাড়ি থেকে পাঠানো হয়েছে।

—কে দিতে এসেছিল?

—আমি জানি না। জেলের ডাক্তার খাবার পরীক্ষা করে পাঠিয়েছেন। আমাকে কনডেম সেলে দিয়ে যেতে বলা হয়েছে। —কী পাঠানো হয়েছে দেখো তো।

কবির ঢাকনা খুলে বলে, ভাত। কই মাছ ভাজি। মুরগির দোপেঁয়াজা, মুগের ডাল।

—ভর্তা, নাই?

—না, কোনো ভর্তা তো দেখছি না।

—সালাদ?

—সালাদও নেই।

—আমার দুটি প্রিয় জিনিসই নেই।

—আমি বাইরে দাঁড়াচ্ছি। আপনি খাওয়া শেষ করুন।

—ঠিক আছে। আজই আমার শেষ খাওয়া। মা রান্না করেছেন কি না জানি না। কিন্তু তাতে হাত দিলেই আমি মায়ের ছোঁয়া পাব।

—মা-ই রান্না করেছেন। তিনি তাঁর ছেলেকে নিজের হাতে রান্না করে খাবার পাঠিয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ করবেন না।

—সন্দেহ না, দ্বিধা। চোখে তো দেখিনি।

—প্রমাণ আর যুক্তি দিয়ে কি মায়ের ভালোবাসার কথা বোঝা যায়?

—বাব্বা, তুমি দেখছি টিচারের মতো কথা বলছ। জেলখানায় কাজ পেয়েছ। তোমার তো প্রাইমারি স্কুলের টিচার হওয়ার দরকার ছিল।

কবির কথা বাড়ায় না। মৃদু হেসে বেরিয়ে যায়। দরজাটা মুখে মুখে লাগিয়ে বন্ধ করে রাখে। ভেতর থেকে কোনো শব্দ আসে না। লোকটি হয়তো খাচ্ছে, হয়তো ভাত সামনে নিয়ে বসে আছে।

সুজন প্লেটে একমুঠো ভাত নেয়। চিকন চালের ভাত। সুঘ্রাণ আসছে। মা নিজে বাজারে গেলে ওর জন্য এই চাল কিনতেন। কোনো কোনো দিন শুধু ওর জন্যই রান্না হতো। বাড়িতে কত আদরের ছেলে ছিল ও। কিন্তু ওকে দিয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এ কথা মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুটিয়ে যায় নিজের ভেতর। ভাতের ওপর ডান হাত পড়েই থাকে। বাম হাত দিয়ে চোখের পানি মোছে। জানে না কতক্ষণ চলে গেছে। চোখের পানি ফুরোয় না। মুছতেই থাকে। ব্যাকুল হয়ে কাঁদতেই থাকে, শুধু কান্নায় কোনো শব্দ নেই।

কবির দরজা খোলে। খাওয়া হলে থালা-বাটি নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু নিঃশব্দে ক্রন্দনরত মানুষটির দিকে তাকিয়ে ভড়কে যায় কবির। তাহলে কি ওকে মৃত্যুভয় পেয়ে বসেছে? নাকি খুন করার জন্য অনুতাপ হচ্ছে? পরক্ষণে ভাবে এসব কিছু ওর মধ্যে নেই। ও একটা আজব লোক।

দরজা খোলা টের পেয়ে তাকায় সুজন। কবির কৈফিয়তের স্বরে বলে, আমাকে থালা-বাটি নিতে হবে। ভাত খেয়ে আমাকে বিদায় করেন।

সুজন ঘাড় নেড়ে সায় দেয়। মুরগির একটি টুকরা উঠিয়ে নেয়। ঝোল দিয়ে ভাত মাখায়। ভাতটুকু শেষ করে ডালের বাটিতে চুমুক দেয়। ছোটবেলা থেকেই খাওয়ার প্রতি ওর ঝোঁক বেশি ছিল না। মা বলতেন, কম খেলে শরীর বাড়বে না। পুষ্টি কম থাকবে। কম পুষ্টি নিয়ে বড় হলে মেধার বিকাশ হয় না। ও বিড়বিড়িয়ে বলে, মাগো দুষ্টু মেধা তো হয়েছে। দুষ্টুমিতে আমার জুড়ি ছিল না।

ডাল খাওয়া শেষ করে কবিরকে ডাকে ও। কবির ঘরে ঢুকলে বলে, আমার মায়ের সঙ্গে কখন দেখা হবে?

—আমি জানি না।

—তোমার জানা নেই কেন? তুমি তো কনডেম সেলে যোগাযোগ করছ।

—তা করছি। যখন দরকার হবে তখন জানানো হবে। আমি থালা-বাসন তুলব?

—যাও, নিয়ে যাও।

সুজন এক গ্লাস পানি খায়।

—আপনি তো তেমন কিছু খাননি?

—আমি এমনই খাই।

কবির কথা বাড়ায় না। থালা-বাসন নিয়ে বেরিয়ে যায় কবির। দরজা বন্ধ করে। সুজন বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে। ও ইচ্ছা করলেই দরজা খুলে বের হতে পারবে না। ও ঘরে হাঁটাহাঁটি করে। বাইরে কী হচ্ছে তা খুব জানতে ইচ্ছা করে, কিন্তু জানার উপায় নেই। একসময় ও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যেন ওর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে মুনিরা। দাঁড়িয়ে থাকা মুনিরাকে লোহার ছোট রড দিয়ে আঘাত করলে ও চিত্কার করে বলেছিল, তুমি আমাকে মেরো না। আমি মরতে চাই না। একাত্তরে পাকিস্তান আর্মি আমার বাবাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছিল। এই স্বাধীন দেশে তুমি আমাকে বেড়াতে নিয়ে এসে এখন মেরে ফেলছ কেন?

—তুই আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিস। আমি যাকে খুশি তাকে বিছানায় নিয়ে আসব। তুই বাদ সাধার কে? ঘরের বউ হলেই যা খুশি তা করা যায় কি না? উপভোগ আমার দারুণ আনন্দের ব্যাপার। আমাকে উপভোগে বাধা দিলে আমি তাকে খুন করব।

—তোমার লজ্জা করে না এসব করতে? বেলেল্লাপনা কি লোক দেখানোর ব্যাপার? তুমি যাকে বাড়ি ভাড়া করে দিয়েছ সে তোমার বউ না। তুমি একটা বেল্লিক, শয়তান।

—কী বললি? তোর এত সাহস?

—তাহলে মর শয়তান। দেব তোকে শেষ করে। কেন ভাবলি তুই আমাকে শাসন করবি?

—শাসন তো করবই। তোর সঙ্গে আমার জীবন জড়িয়েছে না? একটা শয়তান। আসমা বেশ্যাকে নিয়ে ঘর করলেই পারতি? আমাকে বিয়ে করেছিস কেন?

—তুই করে কথা বলছিস কেন?

—তুই বললে আমি বলব না কেন?

—তোর সাহস বেশি শয়তান।

—তোর সাহস থাকলে আমার সাহস থাকবে না?

আর কথা না বাড়িয়ে ছুরি দিয়ে মুনিরার পেট কুপিয়েছিল সুজন। ওর নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গিয়েছিল। রাস্তার ধার থেকে একটু ভেতরে ঘাসের ওপর গড়িয়ে পড়েছিল ও। প্রাণহীন ক্ষতবিক্ষত শরীরের দিকে তাকিয়ে ছিল সুজন। ওর কোনো অনুশোচনা হয়নি। কষ্টও না। উপভোগের মাত্রায় নারীর শরীর কখনো এভাবে উপেক্ষিত হয়। তুচ্ছ হয়ে যায় বিয়ের সূত্রের ধারণা; বরং মুনিরার ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত অবয়বের দিকে তাকিয়ে আসমার শরীর ভেসে উঠেছিল ওর সামনে। ও কী করে এমন শরীর চেনার মানুষ হলো, তা ও ভেবে পেল না। এত বছর বয়স পর্যন্ত নিজেকে বোঝার ক্ষেত্রই তৈরি হয়নি ওর জীবনে। বোঝা শিখলে হত্যার মতো এই ঘটনা কি করে ঘটাল? বিয়ের মাত্র চার মাসের মধ্যে? ৩০ ডিসেম্বর এক নতুন জীবনের সূচনা হয়েছিল। আজ ৯ এপ্রিল অবসান ঘটল সে জীবনের। সুজন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। নিজেকে না বোঝার যন্ত্রণায় শক্ত হয়ে যায় শরীর। ঝোপঝাড়ের আড়ালে পড়ে থাকা মুনিরাকে চেনা যায় না। রাতের অন্ধকার ঘনীভূত হচ্ছে। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল সে হিসাব করতে পারে না। গাড়ির ছড়ানো আলোর দিকে তাকিয়ে ভাবে, এখন ওর নিজেরও মৃত্যুর সময় হয়ে গেছে। এই মৃত্যুও নিজের হাতে নিজেরই হবে।

ও মেইন রোডে উঠে আসে। কালো রঙের পাজেরো জিপটি রাখা আছে। ড্রাইভার গাড়ির ভেতরে। আবারও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। চারদিকে তাকায়। অন্ধকার গাঢ় হয়ে আছে। এই সময় রাস্তায় গাড়ি নেই। মানুষ নেই। গাছপালায় বাতাসের ধাক্কার মৃদু শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ভেসে আসছে পোকা-মাকড়ের শব্দ। সুজন কান খাড়া করে। ওরা কি গান করছে? নাকি কাঁদছে?

—হ্যাঁ কাঁদছে।

 ভেসে আসে শহরের কণ্ঠস্বর।

—তোমার বর্বর আচরণের জন্য ওরা কাঁদছে। বিয়ের চার মাসের মাথায় তুমি এমন নিষ্ঠুর হতে পারো সেটা দেখে ওরা কাঁদবে না তো কি হাসবে?

—তুমি আমাকে বকছ কেন শহর? আমি ভাবছি, আমিও মরে যাব।

—তাই নাকি? মরার ইচ্ছা হয়েছে? কিভাবে মরবে?

—সুইসাইড করব।

—যদি মরো আমার বুকের ওপর থেকে একটা শয়তান কমে যাক।

—তুমি আমাকে এভাবে বকছ?

—বকবই তো। মেয়েটির কোনো দোষ নেই। সব দায় তোমার। তোমার বদমাইশি আচরণ মেয়েটি মেনে নেবে কিভাবে? ঘরের বউ এটা কি মানতে পারে? তোমার সঙ্গে আমি আর কথা বলতে চাই না। তোমার মরণ দেখতে চাই।

সুজন দুহাতে চোখের পানি মোছে। তারপর গাড়িতে ওঠে। ড্রাইভার জিজ্ঞেস করে—স্যার ম্যাডাম?

—বেশি কথা বলবে না। চড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেব।

ড্রাইভার গাড়ি ছাড়ে। হাইওয়েতে ছুটে চলা গাড়ির সঙ্গে ছুটে যায় ওর জিপ। কিন্তু ছোটে না চিন্তা। মাথা স্তব্ধ হয়ে আছে। বুকের ভেতরও রুদ্ধ হয়ে গেছে। শ্বাস ফেলা, রক্ত চলাচল ছাড়া শরীরে আর কোনো স্পন্দন নেই। সুজন গাড়ির সিটে মাথা কাত করে। জীবন এমনই। জীবনের বোঝাপড়া সহজ কাজ নয়। ভালোর মাপকাঠিতে নিজেকে ধরে রাখাও সহজ কাজ নয়। ক্লান্তিতে চোখ বুজে যাচ্ছে। ঘুম নয়, এ তো এক ধরনের নষ্ট আমেজ।

সুজন মাথা সোজা করে সামনে তাকায়। গাড়ি যাত্রাবাড়ীর দিকে মোড় ঘুরবে। তখন ও ড্রাইভারকে বলে, বামে গাড়ি রাখো। তুমি চলে যাও। আমি আমার মতো সময় করে বাড়ি ফিরব। আমার জন্য ভাবতে হবে না।

—গাড়ি রাস্তায় পড়ে থাকবে?

—প্রশ্ন করবে না। আমার সামনে থেকে সরে যাও।

ড্রাইভার চলে গেলেও রাস্তার পাশের সুগন্ধা হোটেলে ঢোকে। কাউন্টারে গিয়ে সরাসরি বলে, আমাকে একটি রুম দেবেন?

—সিঙ্গেল, না ডবল?

—সিঙ্গেল। আছে?

—হ্যাঁ আছে। দোতলায় একটি রুম খালি আছে। কদিন থাকবেন?

—শুধু আজ রাতে থাকব।

—কাল সকালে চলে যাবেন?

—হ্যাঁ। তাই তো বলছি, বুঝতে পারছেন না?

—জি স্যার, জি স্যার। একটু বসুন। আমি সব ঠিক করছি। ওই সালেক, এখানে এসে দাঁড়া। স্যারকে নিয়ে ওপরে যাবি। স্যার, আপনার নাম কী লিখব?

—মনিরুল ইসহাক।

—পেশা কী স্যার?

—ব্যবসা।

—ঠিকানা?

—বলিছড়ি, নারায়ণগঞ্জ। আর কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।

—না স্যার, আর কিছু লাগবে না। ফোন নম্বর—

—বাদ দিন ফোন নম্বর।

কাউন্টারের লোকটির সঙ্গে রূঢ় কণ্ঠে কথা বলে সুজন। বিরক্তি প্রকাশ করে। পারলে থাপ্পড় দেবে এমন ভঙ্গিও দেখায়। বলে, আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে। খাবার কী আছে?

—আপনি মেন্যু দেখে অর্ডার দেন। আপনার রুমে দিয়ে আসবে। এইখানে সাইন করেন স্যার।

লোকটি কলম এগিয়ে দেয়। সুজন সাইন করে।

—সালেক, চাবি দিয়ে স্যারের সঙ্গে যা।

—আপনার স্যুটকেস কই স্যার?

—লাথি মারব একটা। বলেছি না, কথা বেশি বলবি না। সালেক এমন ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়। এ কেমন মানুষ। শুধু রাতে ঘুমানোর জন্য হোটেলে এসেছে। আল্লাহই জানে কোথা থেকে এসেছে! নাকি মাথা গরম পাগল একটা! নাকি ডাকাত? ডাকাতি করে পালিয়ে থাকতে এসেছে? এসব ভাবতে ভাবতে সালেক সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠে। ছোট ঘরটির চারদিকে তাকিয়ে মনে হয় ঘরটিকে কবরের মতো লাগছে। ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে গেলে—ও আর ভাবতে পারে না।

সালেক দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলে, স্যার, চা আনব, না ভাত খাবেন?

—পানি নিয়ে আয়। ভাত আর কোনো দিন খাব না।

সালেক হাসতে হাসতে বলে, তাহলে কী খাবেন? মাটি?

—হ্যাঁ, মাটি। সুজন চোখ বড় করে তাকায়। সালেক নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে মাটি শব্দ উচ্চারণ করেছে, যেন হোটেলে থাকতে আসা লোকটি হাত বাড়ালেই ওর চুলের মুঠি ধরতে না পারে। কিন্তু লোকটি ওর দিকে হাত বাড়ায় না। হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। বিড়বিড় করে বলে, আমার তো মাটি খাওয়ারই সময় হয়েছে।
চলবে 


মন্তব্য