kalerkantho


দুয়ারে দাঁড়িয়ে বিশ্ব

হামীম কামরুল হক

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুয়ারে দাঁড়িয়ে বিশ্ব

মানুষ মূলত কাব্য, তাকে কোনো তত্ত্বে-সূত্রে-সংকেতে ধরা যায় না। আদতে তুলনা করা যায় না নদীর সঙ্গে জীবনের, যদিও এই ক্লিশে তুলনাটি বারবারই করা হয়।

সেই ছকে না-পড়া মানুষ এবং ছাঁচে না-ধরা জীবনকে বোঝার উপায় সাহিত্য, যেখানে সবাই এসে মিলতে পারে। কয়েক বছর আগে সৈয়দ শামসুল হক বলেছিলেন, সত্য এখন সাহিত্য ছাড়া আর কোথাও নেই। কিন্তু সাহিত্য শুধু সত্যের কারবার করে না, বিশ্বাসযোগ্যতায় কল্পনাকে জাগাতে পারলেই সাহিত্য নতুন মাত্রা পায়। কল্পনাই হলো আমাদের আসল মিলবার, মেলাবার জায়গা। সেই মিলবার, মেলাবার নতুন পরিসর তৈরি করেছে ঢাকা লিট ফেস্ট।

পাঁচ বছর আগেও ভাবা যায়নি ঢাকায় বসে সাহিত্যে নোবেল পাওয়া কোনো লেখকের কথা আমরা সামনাসামনি শুনতে পাব, শুনতে পাব নানা দেশের শিল্পসাহিত্য, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞানপ্রযুক্তি অঙ্গনের নানা মানুষের কথা, তা-ও একেবারে বিনা মূল্যে এবং সুন্দর নিরাপদ পরিবেশে। সেই সুযোগটা তৈরি করে দিচ্ছে ঢাকা লিট ফেস্ট। এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এর তৃতীয় আসর। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর, এই তিন দিনব্যাপী ঢাকা লিট ফেস্টে সাহিত্য, রাজনীতি, সংস্কৃতি, বিজ্ঞানপ্রযুক্তি নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

সারা বিশ্ব থেকে আসবেন লেখক-কবি-সাহিত্যিকরা, মুখোমুখি হবেন এ দেশের পাঠকের। এ দেশের লেখকরা কথা বলবেন, ভাববিনিময় করবেন বিদেশে নানা ভাষা ও সাহিত্যের কবি-লেখক-সাহিত্যিকদের সঙ্গে। এক দশক আগেও যা কল্পনা করা যেত না, তা-ই ঘটে চলেছে বাস্তবে। বাংলাদেশের উঠানে এসে হাজির হচ্ছেন বিশ্বের নানা দেশের প্রতিনিধিত্বশীল লেখক-কবিরা। এই উৎসবের তিন পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায্ সিদ্দিকী এবং আহসান আকবরের সম্মিলিত প্রয়াসে তৃতীয়বারের মতো আরেকটি সফল সাহিত্য উৎসবের অপেক্ষায় আমরা।

এবারের লিট ফেস্টের মূল আকর্ষণ সিরিয়ার কবি আদোনিস। তিনি মূলত ফ্রান্সপ্রবাসী। সমকালীন বিশ্ব কবিতার অন্যতম প্রতিভূ তিনি। সেই সঙ্গে আছেন বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত বেন ওকারি, যিনি একই সঙ্গে কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার। এ ছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকার নানা দেশ থেকে আসা লেখকরা তো আছেনই।

রবীন্দ্রনাথ ধরিয়ে দিয়েছিলেন নিজেকে জানাই শেষ কথা নয়, নিজেকে জানানোটাও একই রকমের দরকারি ব্যাপার। তিনি বলেছিলেন, মুক্ত করো হে বন্ধ, যুক্ত করো সবার সঙ্গে। আমাদের আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের কথা ছিল, সংস্কৃতি ঐক্যের বাহন, বিভেদের চামুণ্ডা নয়। ফলে  সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে নিজের সৃষ্টিকে বিশ্বের দিকে এবং বিশ্বের সৃষ্টিগুলোকে নিজের দিকে নিয়ে আসার জন্য ঢাকা লিট ফেস্টের মতো সাহিত্য উৎসব দারুণ ইতিবাচকভাবে কাজ করে।

এখানে কয়েকটি মঞ্চে একই সঙ্গে সাহিত্যশিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে নানা আলোচনার অনুষ্ঠান যেমন হয়, তেমনি চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সংগীত, মঞ্চ নাটক ও নৃত্যানুষ্ঠান। ফলে এ যেন রীতিমতো এক জীবনের সৃজনী উৎসব। সাহিত্য-সংস্কৃতিমোদীদের ঝলমলে উপস্থিতি, এ উৎসবকে করে তোলে আরো বাঙ্ময়। প্রাণে লাগে নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়ার দোলা। মন ছুটে চলে কল্পনা ও বাস্তবতার নানা বিশ্বে।

আমরা প্রায় সবাই জানি, বিশ্ব এক কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। স্নায়ুযুদ্ধের পর অনেকেই মনে করেছিলেন শান্তি নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে। কিন্তু তার বদলে সারা বিশ্বজুড়ে ক্রমে বিস্তার লাভ করেছে রক্ষণশীল মানসিকতা ও মৌলবাদ। দেখা দিচ্ছে নতুন ধরনের ফ্যাসিজম, নাজিবাদ ফিরে আসার শঙ্কাও কাজ করছে। সমান তালে মানুষের মনে তৈরি হয়েছে এর বেড়া ভেঙে সব অর্থহীন সংস্কার ঝেঁটিয়ে বিদায় করে নতুন মানবিক বিশ্ব নির্মাণের প্রণোদনা। আমাদের মতে, ঢাকা লিট ফেস্ট তেমনই এক মানবিক প্রণোদনার অভিজ্ঞান।

এমনিতে দেশে নানা পত্রপত্রিকায় দেশি-বিদেশি সাহিত্যের খবরাখবর আসে। কিন্তু আমাদের দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে বিশ্বের মানুষ, বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের লোকেরা, প্রায় তেমন কিছুই জানেন না। আমাদেরও তাদের জানানোর তাগাদা ছিল না, বিশেষ করে অনুবাদের মধ্যে দিয়ে যতটুকু আমাদের বিস্তার ঘটানোর দরকার ছিল, ততটা আমরা ঘটাতে পারিনি। বিশ্বের সাহিত্যের অনুবাদ আমাদের কাছে আসে মূলত তিন হাত ঘুরে। মূল ভাষা থেকে ইংরেজি ভাষায় বিষয়টি অনূদিত হলে তারপর আমরা সেটা বাংলায় ভাষান্তর করার সুযোগ পাই। আদতে ইংরেজি ভাষার ভেতর দিয়েই আমরা বিশ্বের দিকে যাই; কিন্তু আমাদের তো মাতৃভাষার ভেতর দিয়েই সারা বিশ্বের সব সৃজন ও মননের স্বাদ পাওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। কারণ আমরা নিজেদের জানতে পারিনি, ফলে নিজেদের জানাতেও আমাদের কোনো তাগিদ ছিল না। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। একটু একটু করে বাংলাদেশের সাহিত্য বিশ্বের দিকে নিজেদের মেলে দিতে আগ্রহী যে হয়েছে ঢাকা লিট ফেস্ট যেন সে কথাও বলে।

ফলে ঢাকা লিট ফেস্টে বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কয়েকজন লেখকের নানা বইপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ করে দেশ-বিদেশের কবি-লেখকদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ ভিন্ন মাত্রায় শুরু হয়েছে। ঢাকা ট্রান্সলেশন সেন্টার থেকে প্রতিবছর এক এক করে বাংলাদেশের লেখকদের গল্প-উপন্যাস, কবিতার বই প্রকাশিত হচ্ছে।

সত্যিকার অর্থে আদান-প্রদানই হলো এই উৎসবের মূল দিক। আমরা বিশ্বের কাছে থেকে পেয়ে এসেছি, কিন্তু আমরা বিশ্বকে কী দিয়েছি সাহিত্যের ভেতর দিয়ে? এই প্রশ্ন বারবার উঠছে। বাংলা সাহিত্যের গল্প-উপন্যাস, কবিতা কেন তেমন করে বিশ্বের দরবারে উপস্থিত হতে পারছে না। বারবার নোবেল কেন বাংলা সাহিত্য পেল না, রবীন্দ্রনাথের পর এর জবাব খোঁজার চেষ্টা করা হয় ঘরোয়া সাহিত্য আড্ডা থেকে নানা সাহিত্য-সেমিনারে। কিন্তু নোবেল তো সাহিত্যের উৎকর্ষ নির্ণয়ের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। এ কথা নতুন করে তাই স্মরণ করতে হয় যেকোনো দেশের রাজনীতি-অর্থনীতি সবল না হলে সাহিত্যও ততটা সবল হয় না। সেই জাতির সাহিত্যই সারা বিশ্বে ছড়ায়, যার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব প্রবল। একে আধিপত্যের জায়গা থেকেও দেখা যেতে পারে। ফলে ক্ষমতা-আধিপত্য-কর্তৃত্ব ইত্যাদির সঙ্গে সাহিত্যের ছড়িয়ে পড়ার একটা নিবিড় যোগাযোগও খোঁজা হয়। সাহিত্য আদতে কোমলভাবে ক্ষমতা কাঠামোকে তৈরি করতে চায়, ফলে এর জন্য দরকার হয় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। সাহিত্যের এই প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক দিকটির ভেতর দিয়ে ইতি-নেতি বহু কিছু এসে মেলে। বড় আয়োজনে বড় রকমের সফলতা সব সময় তৈরি না-ও হতে পারে। সেখানে যদি সত্যিকারের ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে তো সাহিত্যে মূল যে বিষয়টি নিজের ভেতরে বিশ্বকে দেখা এবং সে দেখার ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনের সঙ্গে মিলতে পারার ব্যাপারটি ঘটে।

মার্কিন বিখ্যাত লেখক রে ব্রাডবেরি বলেছিলেন, ‘ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু ডিস্ট্রয় বুকস টু ডিস্ট্রয় অ্যা কালচার। জাস্ট গেট পিপল টু স্টপ রিডিং দেম। ’ সত্যিই তাই, বই পড়ার অভ্যাস থেকে সরিয়ে নিতে পারলেই একটি দেশের সংস্কৃতিকে নষ্টভ্রষ্ট করে দেওয়া যাবে। আদতে মনে হয়, মানবিক সংস্কৃতি থেকে সরানোর উপায় হলো পড়ার অভ্যাস থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া। এর বিপরীতে দেখি, ঢাকা লিট ফেস্ট অন্যতম লক্ষ্য বইয়ের দিকে নজর ফেরানোর, নতুন পাঠক তৈরি করা। কেউ কেউ বলেন, বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষার পাঠক বাড়ানো এর নিহিত লক্ষ্য। কিন্তু আমরা দেখি ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষার ওপর, বাংলা সাহিত্যের ওপর আলোচনা হয়েছে একই সমান্তরালে। বাংলা গল্প-উপন্যাস-কবিতা নিয়ে নতুন নতুন প্রণোদনামূলক আলোচনা হয়ে থাকে লিট ফেস্টের নানা সেশনে। বাংলা কবিতা পাঠ এবং বাংলাদেশের কবিদের আরেকটি মিলনমেলা হয়ে ওঠে এই উৎসবের কয়েকটি মঞ্চ।

ঢাকা লিট ফেস্ট একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। কোনো এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়াস নয়। এর তিনজন পরিচালকের ভূমিকা তো আছেই, কিন্তু এর সঙ্গে শাখা-প্রশাখায় কাজ করেন অসংখ্য ব্যক্তি। ফলে সাহিত্য নিয়ে বিপুল এক কর্মযজ্ঞ চলে। এও এক অনুশীলন। নিজের ভেতরে থেকে বাইরে এসে দাঁড়ানোর চর্চাটা তাই এতে জোর পায়। বিশ্বলোকের সাড়া যে এভাবেই পাওয়া যায়, ঢাকা লিট ফেস্টের প্রতিটি ক্ষণ যেন নিজেকে অতিক্রমের উৎসাহ-উদ্দীপনায় পূর্ণ।

লেখক-কবিরা অহংপ্রবণ এবং সাহিত্যের কাজটাই ইগোইস্টিক কাজ। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ইগোইস্টিক এই কাজের ভেতর দিয়ে ইগো বা নিজের অহংকারের গণ্ডি মুক্ত হওয়ার কাজটাও সাহিত্য ঘটায়। সাহিত্য চর্চার মজাটাই বোধ হয় এখানে। ফরাসি বিখ্যাত লেখক তাত্ত্বিক মরিশ ব্লাঁশো অনেকেরই মনের কথাটি বলেছেন যে, সাহিত্য হচ্ছে আসলে থেরাপি। এ শুধু পাঠকের থেরাপি পাওয়ার ব্যাপার নয়, লেখক নিজের ভেতরে নানা সংকট সমস্যা দূর করেন সাহিত্যচর্চার ভেতর দিয়ে। হেমিংওয়ে বলেছিলেন, ‘দ্য মোস্ট এসেনসিয়াল গিফ্ট ফর অ্যা গুড রাইটার ইজ অ্যা বিল্ট-ইন, শকপ্রুফ, শিট ডিটেক্টটর। ’ সাহিত্যের মাধ্যমে শোধনের কাজ চলে, তা তো আমরা শুনে এসেছি বরাবরই। সাহিত্যের প্রধানতম উপাদান তো ভাষা। আর ভাষাই হলো যেকোনো মানুষের অস্তিত্ব ঘোষণার প্রধানতম দিক। সংস্কৃতে শব্দকেই ব্রহ্ম যেমন বলা হয়, তাতে তাল মিলিয়ে মনে হয়, ভাষাই হলো ভগবান। তার অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় থাকুক, না থাকুক অন্যত্র ভাষার ভেতরেই তিনি আসলে বিরাজ করেন। এবং এর ভেতরে দিয়ে যা তৈরি হয়, যে সংস্কৃতি তৈরি হয়ে যে আলাদা আলাদা সমাজ করে, সেই সমাজই হলো মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক। সমাজ-সংস্কৃতিতে বিভেদ তৈরি হয় সর্বত্র, কিন্তু সেটি মেটানোর কৌশলও বের করা হয়। মানুষ মেলে জীবনের উৎসবে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সংগীতের উৎসব তো দেশে দেশে হয়, তেমন হয় সাহিত্যেরও উৎসব। বাংলাদেশে হচ্ছে যদিও কয়েক বছর ধরে মাত্র। কিন্তু এর ইতিবাচকতা শুভ বোধসম্পন্ন মানুষ মাত্রই টের পান। ঢাকা লিট ফেস্ট সেই সৌন্দর্য ও শুভ বোধেরই উৎসব।

 

আদোনিসের কবিতা

কথার শুরু

আমাদের দুজনের শরীরে বজ্রের গর্জন ওঠে

তুমি বলো, আমি শুনি

আমি বলি, তুমি শোনো; শব্দেরা মিশে যায়।

 

আমাদের দুজনের শরীর মিলে একটি অঞ্জলি

তোমার পতন হয়, আমারও তাই

আমাদের চারপাশে অলীক কল্পনা আর সংকেতশিখা

তোমার পতন হয়, আমারও তাই।

 

তোমার আর আমার মাঝে

শব্দেরা জড়ো হয়,

শিখা হয়ে জ্বলে।

 

লীন

একদিন

আমি তোমার দুহাতের মাঝে হারিয়ে গেলাম, আমার অধরোষ্ঠ

নগরদুর্গ ভিনদেশি বিজয়ের অপেক্ষায় অধীর

অবরোধের কাঙাল কাতর

তুমি এলে

তোমার কোমর এক সুলতান,

তোমার হাত দুটো সেনাদের পুরোগামী দল,

তোমার চোখ লুকানোর আশ্রয়, নিকট বান্ধব এক;

আমরা একে অন্যে হয়ে গেলাম একাকার, ভেসে গেলাম

প্রবেশ করলাম আগুনের জঙ্গলে—আমি প্রথম পদক্ষেপ আঁকি;

তুমি খুলে দাও পথ।

 

পাগলামির শুরু

তোমার জোরালো বাতাস যখন বয়ে গেল তার সীমাহীন বনের ওপর দিয়ে

বলল সে, মৃত্যুর চেহারা প্রজাপতির মতো

যৌনতার মুখ পাগলামির মতো।

 

সে এখন ওই তো ওখানে, পরনে বলির শিকারের পরিধেয়;

তার আগামীকাল

তার গতকাল

আর তার দিগন্ত

একটি তৃণফলা

আর কথার ধূলি—

এসবই তার দৃষ্টির সামনে।

 

সিরিয়ার কবি, গদ্যকার ও অনুবাদক আলি আহমদ সাঈদ লেখক হিসেবে আদোনিস নামেই বেশি পরিচিত। আদোনিসের  জন্ম ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি। আধুনিককালের সবচেয়ে প্রভাবশালী আরব কবিদের অন্যতম মনে করা হয় তাঁকে। বিশ শতকের শেষ অংশে তিনি অধুনিকতার বিপ্লব ঘটান তাঁর কবিতায়। ইংরেজিভাষীদের কাছে টি এস এলিয়ট যেমন আরবিভাষীদের কাছে তিনিও তেমন প্রভাবশালী। এযাবৎ তিনি বিশটি কবিতার বই, তেরোটি সমালোচনার বই এবং এক ডজনের মতো অনুবাদের বই প্রকাশ করেছেন। ‘ফার্স্ট পোয়েমস’ (১৯৫৭), ‘সংস অব মাহিয়ার অব ডেমাস্কাস’ (১৯৬১), ‘এ টাইম বিটুইন অ্যাশেস অ্যান্ড রোজেস’ (১৯৭১), ‘দ্য বুক অব সিজ’ (১৯৮৫), ‘অ্যানাদার অ্যালফাবেট’ (১৯৯৪), ‘প্রিন্টার অব দ্য প্ল্যানেটস বুকস’ (২০০৮) তাঁর কাব্যগ্রন্থের অন্যতম। বেশ কিছুদিন ধরে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার প্রাক্কালে সম্ভাব্য কবি হিসেবে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়ে আসছে। ]

 

অনুবাদ : দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য