kalerkantho

ধারাবাহিক উপন্যাস

পিছন

ইমদাদুল হক মিলন

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



পিছন

অঙ্কন: দধ্রুব এষ

বারো
চারটা বাজেনি। আমি আর আলী অনেকক্ষণ ধরে মাঠে এসে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল থেকে কতবার যে এলাম! আয়োজন দেখি, লোকজন দেখি। দুজনের মনে একই প্রশ্ন। কখন চারটা বাজবে? কখন শুরু হবে মুখতার আহমেদ আরসি নামের লোকটার সাইকেল চালানো? লোকটা দেখতে কেমন? তার সাইকেলটা কেমন? কিভাবে সাইকেল চালাবে সে? অন্যরা যেভাবে চালায় সেভাবেই? নাকি তার চালানোর ভঙ্গি অন্য রকম?

কোনো রকমে দুপুরের ভাত খেতে আমরা চলে এসেছি। মাঠ ভরে আছে শেষ মার্চের রোদে। আশপাশের বাড়িঘরের লোকজন যে যার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বসে আছে। সামনের রাস্তায় আছে লোকজন, মাঠে আছে। প্যান্ডেলের তলায় ছায়া জমেছে। সেখানে মাতাব্বর গোছের লোকজন জটলা করে আছে। মাইকে অনবরত চলছে একই ঘোষণা।

এলাকার পোলাপান একজনও বোধ হয় বাদ নেই। সবাই জড়ো হয়েছে মাঠে।

লোকটা আসছে না কেন?

চারটা বাজার পনেরো কুড়ি মিনিট আগে নামাপাড়ার ওদিক থেকে একটা ভিড় এগিয়ে আসতে লাগল। ত্রিশ চল্লিশজন মানুষের মাঝখানে একটা লোক বেশ ভাব নিয়ে হেঁটে আসছে। পাশে একটা সাইকেল। সাইকেল ঠেলে আনছে যুবক মতন একজন। মাঠে একটা সাড়া পড়ল। গভীর আগ্রহ নিয়ে সেদিকটায় তাকালাম। আলী উত্সাহী গলায় বলল, আইয়া পড়ছে!

আমি কথা বলি না। হাঁ করে তাকিয়ে আছি ভিড়ের দিকে। ঘোষকের গলা চড়া হয়েছে মাইকে। বিপুল উত্তেজনা তাঁর কণ্ঠে। ‘এই মাত্র আমাদের মাঝে এসে হাজির হয়েছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত সাইকেল চালক জনাব মুখতার আহমেদ আরসি। একটানা তিন দিন সাইকেল চালাবেন তিনি। বাহাত্তর ঘণ্টা সাইকেল চালাবেন...’

মুখতার আহমেদ আরসির আগমন আর মাইকের ঘোষণা ইত্যাদি মিলিয়ে দারুণ জমজমাট অবস্থা মাঠে। লোকজন সাইকেল দেখছে, লোকটাকে দেখছে। মাঠের সব লোক এক জায়গায় দলা পাকিয়ে আছে। আমি আর আলী ভিড় ঠেলে কাছ থেকে দেখতে চাইছি লোকটাকে। তার সামনে যাওয়াই যাচ্ছে না। মানুষের নিশ্ছিদ্র দেয়াল তৈরি হয়েছে। দুজনে তবু চেষ্টা করছি। মার্চ মাসের গরমে ঘামছে লোকজন। ঘেমো লবণগন্ধ পাচ্ছি ভিড়ের মধ্যে। একেকজনের একেক রকমের কথা শুনছি। মানুষের ঠেলাধাক্কায় অস্থির হচ্ছি। তবু উত্সাহের কমতি নেই। মাইকে ঘোষণা হলো, ‘সরে যান, সরে যান সবাই। ভিড় করবেন না। এখনই জনাব মুখতার আহমেদ আরসি শুরু করবেন তাঁর সাইকেল চালানো। তাঁকে মালা পরাবেন ...’

নামাপাড়ার কোনো এক সর্দারের নাম বলা হলো, নামটা আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। লোকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ল। সাদা শার্ট সাদা লুঙ্গি পরা ঝিমকালো গম্ভীর ধরনের মধ্যবয়সী বেশ মোটাতাজা একজন কাগজের মালা পরালেন মুখতার আহমেদ আরসিকে। আমি অপলক চোখে দেখছি লোকটাকে। চোখে পড়ার মতো কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। সাধারণ একজন মানুষ। মাঝারি মাপের লম্বা। তেমন রোগা না, তেমন মোটাও না। পেটানো শরীর। রোদে পোড়া কঠিন মুখ। নাকের তলায় কালো ছ্যাঙ্গার মতো মোচ। চোখ দুটো কুতকুতে। নীলের ওপর লাল চেকের হাওয়াই শার্ট পরা। প্যান্ট কালো রঙের। পায়ে কাপড়ের জুতা। জুতার রং সাদা। একজন লোক জুতার কাছে প্যান্টে ক্লিপ লাগিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে গোড়ালির কাছে প্যান্টের ঢোলা জায়গা চিপা হয়ে মিশে গেল পায়ের সঙ্গে। পা চিকন হয়ে গেল।

মাইকে ঘোষণা চলছে, ‘এখনই শুরু হবে জনাব মুখতার আহমেদ আরসির সাইকেল চালানো...’

লোকটার মুখে কথা নেই। হাসি আনন্দ রাগ বিরক্তি উত্সাহ উদ্দীপনা কিচ্ছু নেই। একেবারেই নির্বিকার মুখ, ইট-কাঠের মতো। নিজের মাথায় একবার হাত বোলাল সে। মাথার খাড়া খাড়া চুলের গোড়ায় বোধ হয় ঘাম জমেছে। সে জন্যই হাত বোলাল কি না কে জানে। গলার মালা খুলে একজনের হাতে দিল। খুবই তুচ্ছতাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরল।

সাইকেলটা লাল রঙের। চারদিকে অবিরাম চলা সাধারণ সাইকেল। ব্যবধান একটাই, বেশির ভাগ সাইকেলই হয় কালো রঙের, এটা লাল।

কাঁটায় কাঁটায় চারটা বাজল। মাইকে ঘোষণা হলো, ‘পাকিস্তানের বিখ্যাত সাইকেলচালক...’

আরসি লোকটা সাইকেলে চড়ল। তুমুল করতালি শুরু হলো চারদিকে। দড়ির ঘের দেওয়া জায়গায় ধীরশান্ত ভঙ্গিতে সাইকেল চালাতে লাগল সে। একটা পাক দিতেই যেন অনেকক্ষণ লাগছে। আমি আর আলী তার সাইকেল চালানো দেখি আর দেখি ভিড় করা লোকজন। জামাল মিয়ার বাড়ির গলির মুখে মাঠের কোনায় দেখি আমার ভাইবোনরা দাঁড়িয়ে আছে। মনির দুপাশে বাদল পলি ডলি মুকুল আর কোলে ঊষা। অদ্ভুত এক আনন্দ লেপ্টালেপ্টি করে আছে তাদের মুখে। একটু দূরে দেখি আলীর বোন পান্না আর নার্গিস। ভাই দুটো, বারেক আর আসলামও আছে। ছোট আসলামটা তুরতুর করছে। একবার এদিক যায়, একবার ওদিক। মাইকে ঘোষণা চলছে। আরসি সাইকেল চালাচ্ছে। অতি একঘেয়ে ভঙ্গি। দড়ির ঘেরে চলছে সাইকেলের পাকের পর পাক। বিকাল যেন একটু দ্রুতই হচ্ছে। রোদের তেজ কমছে। পশ্চিম দিককার বাড়িঘরের পিছন দিকে চলে যাচ্ছে সূর্য। ওদিক থেকে মাঠ পার হয়ে ধীরে ধীরে আসছে ছায়া। মাঠের শিমুলগাছে কাক ডাকছে। নীল-সাদায় মাখামাখি আকাশে উড়ছে চিল। ইস্ট এন্ড ক্লাবের ওদিককার মাঠে প্লেয়াররা জার্সি পরে নেমেছে ফুটবল খেলতে। এদিককার সাইকেল চালনা, মাইকের ঘোষণা—কোনো কিছুই তারা পাত্তা দিচ্ছে না। তাদের কোনো আগ্রহও নেই।

আলীকে দেখি উসখুস উসখুস করছে। কী হইছে, আলী?

এহেনে আর ভাল্লাগতেছে না।

আমারও। কাইল থেইকা বিরাট আমোদ লাগতাছিল। মনে হয়ছিল কী না কী হইব। অহন দেহি ব্যাডায় খালি সাইকেলই চালায়...

আলী হাসল। হেইডা তো চালাইবই। তিন দিন চালাইব না?

হ। তয় ভাল্লাগতেছে না। এহেনে খাড়ায়া খাড়ায়া খালি এই সাইকেল চালান দেইখা লাভ কী?

তয় কী করবা?

আমি ইস্ট এন্ড ক্লাবের মাঠ দেখালাম। লও ওই মিহি যাই। ওহেনে গিয়া ফুটবল খেলা দেহি।

লও।

আমি আর আলী শিমুলগাছগুলোর তলা দিয়ে হেঁটে ইস্ট এন্ড ক্লাবের ওদিকটায় চলে আসি। আজ এদিকে শনপাপড়িঅলা, আচারঅলা নেই। তারা সবাই চলে গেছে আরসির সাইকেল চালনার ওদিকে। ওদিকে লোকজন, পোলাপান বেশি। বেচাবিক্রি ভালো হবে। কেমন একটা মেলা মেলা পরিবেশ হয়েছে না! সান্ডার তেল বিক্রি করার লোকটা নেই। খুব সুন্দর সুর করে কবিতা মুখস্থ বলে যায় একটা লোক। দুআনা করে বিক্রি করে কবিতার পাতলা বই। সেই লোকটাও নেই। ভিড় বলতে গেলে এদিকটায় নেই-ই। দর্শকহীন মাঠে ফুটবল খেলছে ইস্ট এন্ড ক্লাবের প্লেয়াররা। বিকালবেলার রোদে ঘামছে আর বল নিয়ে দৌড়াচ্ছে। এই একটা গোল হয়ে গেল। সাধুর আখড়ায় একলা বসে আছে সাধু। খালি গা, পরনের লুঙ্গিটা লাল রঙের। লোকটার হাড়-জিরজিরে শরীর। মুখ মাথা চুল দাড়িতে একাকার। চোখে কী রকম উদাসীনতা।

আলী বলল, এই মিহি কিছুই নাই। লও, গেণ্ডাইরা ইস্টিশনে যাই।

ইস্টিশন কত দূর?

দূর আছে। তয় দুই দিক দিয়া যাওন যায়।

পুব দিককার গলি দেখিয়ে বলল, ওই দিক দিয়া রেললাইনে গিয়া  উটলে গুণ্টিঘর হইয়া রেললাইন দিয়া হাইট্টা যাওন যায়, আবার সাধনার সামনের রাস্তা দিয়া, গেণ্ডাইরা ইসকুলের ওই দিক দিয়াও যাওন যায়। রেললাইন দিয়া গেলে তাড়াতাড়ি যাওন যাইব।

রেললাইনের কথা শুনেই লুত্ফনের কথা মনে পড়ল। সে আমাকে রেলপুলের ওপর দিয়ে দয়াগঞ্জের ওদিকটায় নিয়ে গিয়েছিল। আমরা পুল পার হয়ে ফিরছি আর রেল আসছিল স্টেশনের ওদিক থেকে। মনে হলে এখনো বুক কাঁপে। না না, রেললাইন দিয়ে যাব না।

কথাটা বললাম আলীকে। সে হাসল। তয় সাধনার ওই দিক দিয়াই যাই।

লও।

আমরা দুজন ইস্ট এন্ড ক্লাবের পিছন দিক দিয়ে, এটা দক্ষিণ দিক, ওই দিককার গলি দিয়ে সোজা হাঁটতে লাগলাম।

এদিককার বাড়িগুলো অন্য রকম। একতলা দোতলা বাড়ি। সামনে লন আছে কোনো কোনো বাড়ির। দেখে বোঝা যায় পুরনো দিনের বাড়ি। তবে বাড়িঘর খুবই নির্জন। মুরগিটোলার মতো না। এদিক ওদিক ঢুকে গেছে গলি। গাছপালা আছে। দু-একটা রিকশা চলছে। বিকালবেলার রোদ উঠে গেছে দালানকোঠার ছাদে। কোনো কোনো ছাদে মেয়েরা দাঁড়িয়ে আছে। পায়চারি করছে কেউ কেউ।

আলী বলল, এই দিকে বড়লোকরা থাকে। বাড়িডি দেখছ? কত সুন্দর!

আমি কথা বলি না। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি আর হাঁটি। লুত্ফনের সঙ্গে এদিকটায় আসা হয়নি। নাকি এসেছি? জায়গাটা তো চেনা চেনা লাগছে।

তার পরই মনে পড়ল, লুত্ফনের সঙ্গে আসিনি। ওই যে সেবার জিন্দাবাহার থেকে বিনা খালাদের বাড়িতে এসেছিলাম, সেবার একদিন খোকন মামা মিন্টু মামার সঙ্গে এদিকটায় এসেছিলাম। এই যে সেদিন, সেন্টু মামা পড়ে গিয়েছিল সাধনার ড্রেনে...

কিছুদূর এগিয়ে, হাতের ডান দিকে, রাস্তার ধারে, টিনের বাংলাঘরের মতো একটা ঘরে শুধু বই আর বই। কয়েকজন লোক চেয়ার টেবিল আর বেঞ্চে বসে বই আর খবরের কাগজ পড়ছে। সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘সীমান্ত গ্রন্থাগার’। সঙ্গে ছোট একটা মাঠ। ঘাসগুলো কী সবুজ সেই মাঠের! উল্টো দিককার বাড়িতে কয়েকটা নারকেলগাছ। একটুখানি রোদ লেগে আছে একটা গাছের মাথায়।

যত এগোই ততই পরিচিত মনে হয় জায়গাটা। আরে এদিক দিয়াই তো জিন্দাবাহার থেকে রিকশা করে এসেছিলাম! ওই তো সাধনার চকমকি বসানো দেয়াল। ওই তো সাধনার দক্ষিণ পাশের উঁচু টিনের চালায় বসে আছে বানরের দল। দুই সাধনার মাঝখান দিয়ে রাস্তা চলে গেছে বিনা খালাদের বাড়ির দিকে। সেই পুকুর, লিচুগাছ...

এদিকটা ভরে আছে অদ্ভুত এক ওষুধের গন্ধে। এই গন্ধ প্রথম পেয়েছিলাম জিন্দাবাহার থেকে যেদিন এসেছিলাম, সেদিন। সাধনা ঔষধালয়ের ভিতর থেকে আসছে ধোঁয়া। ড্রেন দিয়ে আসছে খয়েরি রঙের গাছপালার ছালবাকলসহ গরম পানি। ধোঁয়া উঠছে পানি থেকে। সঙ্গে আছে সেই গন্ধ। কেমন নেশা ধরানো গন্ধ।

চিনতে পারি, জায়গাটা আমি চিনতে পারি। ভারি একটা উত্তেজনা হয় ভিতরে। ওই তো ওই গলি দিয়ে ঢুকলে শেষ মাথায় বিনা খালাদের বাড়ি। যাব সেই বাড়িতে? বিনা খালা কি জানে আমি ঢাকায়? হঠাত্ আমাকে দেখলে কেমন হবে তার চেহারা? আবদীন নানার বাড়িতে সাড়া পড়বে না?

না, বাসায় না বলে বিনা খালাদের বাড়িতে গেলে মা আব্বা দুজনে রাগ করবেন। আমাদের এত কাছের আত্মীয়, তবু তাদের সঙ্গে কেমন যেন একটা দূরত্ব।

আমি আর আলী দক্ষিণ দিকে হাঁটতে থাকি।

কিছুদূর এসে পুবে-পশ্চিমে একটা গলি। সুন্দর নির্জন, গাছপালাঘেরা বাড়িঘর। ডান দিকে লাল ইটের অপূর্ব দোতলা বাড়ির বারান্দায় ছবির মতো তিনটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফরসা, কী সুন্দর দেখতে একেকজন! মেমদের মতো।

গেণ্ডারিয়া স্কুলের ওদিক দিয়ে, ফায়ার সার্ভিসের পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে আমরা দুজন স্টেশনে আসি। এখন কোনো ট্রেন নেই। স্টেশন ফাঁকা। ইট রঙের টিনের চালায় বিকালবেলার রোদ পড়ে আছে। সামনে রাস্তার দুপাশে কয়েকটা দোকান। উত্তরে, দোকানপাটের পিছনে বিশাল জলাভূমি কচুরিভর্তি। বেগুনি সাদার মিশেল দেওয়া কচুরি ফুলে ভরে আছে জায়গাটা। ভারি সুন্দর লাগছে দেখতে। দক্ষিণে, দোকানপাটের পিছনে চওড়া নালা। কিছুটা পানি আছে নালায়। ওপাশটা বিরানভূমি। ছড়ানো-ছিটানো দু-একটা কুঁড়েঘর, টিনের ঘর। বড় একটা পুকুর আছে।

আমরা স্টেশনে ঢুকলাম। এক বুড়ি ভিকিরি বসে আছে একপাশে। সামনে ভাঙা টিনের থালা। থালায় কয়েকটা পয়সা পড়ে আছে। দু-একজন কুলি, দু-একজন যাত্রী হাঁটাচলা করছে। এক নেংটা পাগল দেয়ালে হেলান দিয়ে এমন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে, যেন গভীর কোনো চিন্তায় মগ্ন। কী যে ভাবছে সে? মাথার চুল একদম কাকের বাসা। দাড়ি মোচে থুতু হিংগুল—এসব লেগে আছে। চোখ দুটো বড় বড়। সেই চোখে যেন পলক পড়ছে না।

স্টেশনের পুব পাশে, প্ল্যাটফর্ম বেশ উঁচু। তারপর পাশাপাশি রেললাইন। দুটো রেল একসঙ্গে আসা-যাওয়া করতে পারে। রেললাইন ছাড়িয়ে ওপাশে ঢালু জমি। ধানের মাঠ, জলাভূমি, দূরে দূরে ঘরবাড়ি। বিকালবেলার রোদে মনোরম হয়ে আছে পুরো এলাকা। প্ল্যাটফর্মের উত্তর-দক্ষিণ পাশে সার ধরা কৃষ্ণচূড়াগাছ। গাছের তলায় বাঁধানো বেঞ্চ।

আলী আর আমি হাঁটতে হাঁটতে দক্ষিণ দিকে যাই। একজন ঝালমুড়িঅলা ঘুরছিল পিছন পিছন। বুকের কাছে ঝালমুড়ির খাঁচি। খাঁচিটা টিনের। কয়েকটা খোপ কাটা আছে। বড় খোপটায় মুড়ি। অন্য খোপে কুচি কুচি করা পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ। একটা সরিষার তেলের শিশি, কাসুন্দির পাত্র। এক আনার ঝালমুড়ি কিনল আলী। দুপয়সার করে দুই ঠোঙা। আমার পকেটে পয়সা আছে, খরচ করছি না। আলীই করছে সব। ইস্, ঝালমুড়িটা যে কী মজা! তেল মসলার ঝাঁজে চোখে পানি আসে। ঝালে জিব ঠোঁট জ্বলে। তবু কী যে মজা খেতে!

পরদিন সকালবেলা আলী এক ভয়ংকর সংবাদ দিল।

চলবে..


মন্তব্য