kalerkantho


মেহেরপুর শুভসংঘের যৌথ আয়োজন

শিল্পকলার মঞ্চে মহীয়সী নারীদের জীবনালেখ্য

ইয়াদুল মোমিন

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শিল্পকলার মঞ্চে মহীয়সী নারীদের জীবনালেখ্য

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত কেমন ছিলেন? কিভাবে তিনি মহীয়সী নারী হয়ে উঠলেন? মাদার তেরেসা কেনই বা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন? কী করতেন তিনি? জাহানারা ইমাম কেমন ছিলেন? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব কেমন ছিলেন? কিভাবে তিনি বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা জোগাতেন? মহীয়সী নারীদের নিয়ে এ ধরনের নানা প্রশ্ন কিন্তু আমাদের সবার মনে জাগতেই পারে। আমরা এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো তাঁদের জীবনী থেকে কমবেশি জেনেছি। তাঁদের চলাফেরা, কাজকর্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে একটি অনুষ্ঠান হয়ে গেল মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শুভসংঘ ও মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মেহেরপুরের অরণী থিয়েটার, মৃত্তিকা গ্রুপ থিয়েটার ও মেলোডিয়াস ব্যান্ডের শিশু শিল্পীরা অবয়বে তাঁদের সেই চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তোলে শিল্পকলার মঞ্চে। শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছিল আর ফিরছিল সেই সোনালি দিনগুলোতে।

‘নারী কথন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ শিরোনামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিশুরা অভিনয়ের মাধ্যমে বিশিষ্ট নারীদের জীবনের নানা দিক তুলে ধরে। এর মধ্যে চেলসী স্পর্শ মণ্ডল-মাদার তেরেসা, সুমাইয়া জাহান শ্রাবণী-জাহানারা ইমাম, সামুরা হাসান প্রভা-প্রীতিলতা, সুজানা কামাল শমী-বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, জিনান তাসমিম জুইস-সুফিয়া কামাল, তারিন ইসলাম তিনা-ইলা মিত্র ও ইলিন আনজুম-ফজিলাতুননেসার চরিত্রে অভিনয় করে মহীয়সী নারীদের চরিত্র ফুটিয়ে তোলে।

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে,

এ জীবন পুণ্য কর দহন-দানে।

আমার এই দেহখানি তুলে ধরো,

তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো..

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক গানে।

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে...,

কবিগুরুর এই গানের কথায় রেজওয়ানা ইসলাম দিশা ও শান্তর নৃত্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করতে মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হতে থাকেন সমাজ আলোকিত করা নারী ও পুরুষরা।

উপস্থিত হন মেহেরপুর পুলিশ সুপারের পত্নী সালমা আখতার, জাতীয় মহিলা সংস্থার সভানেত্রী শামিম আরা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা বদরুন নাহার, মেহেরপুরের কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আযীম, সহসভাপতি আব্দুর রকিব, রফিকুল ইসলাম, মাহবুবুল হক মন্টু, উপদেষ্টা শামিম জাহাঙ্গীর সেন্টুসহ অতিথিরা। অতিথিদের বরণ করে নিতে আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন অরণী থিয়েটারের সভাপতি নিশান সাবের, কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন, মৃত্তিকা গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি মানিক হোসেন, মেলোডিয়াস ব্যান্ডের পরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন রুপা ও রোকসানা রফিক। রেজওয়ানা পারভিন দিশার সভাপতিত্বে নারী কথন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সালমা আখতার, শামিম আরা, বদরুন নাহার ও শুভসংঘের নারীবিষয়ক সম্পাদক সুখি ইসলাম। সালমা আকতার বলেন, নারীদের অধিকার নারীকেই আদায় করে নিতে হবে। আজ নারীরা সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। দেশের বিভিন্ন সেক্টরে নারীরা ভূমিকা রাখছে।

তাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পুরুষদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। শামিম আরা হীরা বলেন, আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী। শুধু তা-ই নয়, অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা তাদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। নারীরা জাগতে শুরু করেছে। তাদের আর কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।

সুখী ইসলাম তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, কালের কণ্ঠ শুভসংঘ সব শুভ কাজের সঙ্গে থেকে সমাজের জন্য কাজ করে যেতে চায়। নারীবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের সহযোগিতা থাকবে সব সময়। অনুষ্ঠানে সুলতানা রিজিয়া, নিলুফা ইয়াসমিন রুপা, রোকসানা রফিক সংগীত পরিবেশন করেন আর নৃত্য পরিবেশন করে খুদে শিল্পী তারিন ইসলাম তিনা ও জিনান তাসমিম জুইস। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন অনামিকা সুলতানা লাজুক।


মন্তব্য