kalerkantho


ব্রহ্মপুত্রের বুকে এক বিকেল

মো. মনির হোসেন   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্রহ্মপুত্রের বুকে এক বিকেল

ছোট্ট ছোট্ট দলে ভাগ হয়ে শুভার্থীরা ঘুরছে। সবার মাঝে উপচে পড়া উচ্ছ্বাস।

যেন খাঁচার পাখি আকাশে ডানা মেলার সুযোগ পেয়েছে। আজকে কারো হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা। সবাই যেন ডানা মেলবে নীলাকাশে। তাদের কথাকলিতে চারদিক মুখরিত। ব্রহ্মপুত্রের তীরে হলুদ বুনো ফুলে একটি রঙিনপাখা প্রজাপতি বসার চেষ্টা করছে। প্রজাপতি বসার জন্য পা বাড়ায় অমনি বাতাসে দুলে ওঠে ফুলটি। প্রজাপতিটি পাখায় ভর দিয়ে অপেক্ষা করে। আণিকা ও টুম্পা চুপ করে পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রজাপতিটি বসার সঙ্গে সঙ্গে খপ করে ধরে ফেলবে। আশপাশে আর কেউ নেই। দুজন বুনো ফুলে হাত বুলাচ্ছে আর বিড় বিড় করে কী যেন বলছে। মনে হয় গাছগাছড়া তাদের দুজনের ভাষা বোঝে। এমনই ছোট্ট ছোট্ট অনেক গল্পের সমষ্টি ছিল গাজীপুর জেলা শুভসংঘের এক দিনের পিকনিকে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশবান্ধব তরুণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে শুভসংঘ। স্বপ্ন দেখাচ্ছে হাজারো তরুণকে। উদ্বুদ্ধ করছে শুভকাজে যুক্ত হতে। কারণ সংগঠনটি বিশ্বাস করে তরুণসমাজ কোনো কিছু মাথায় নিলে সে কাজটি সফল না হয়ে পারে না। তাই তাদের জাগিয়ে তুলতে সংগঠনটি অন্যান্য কাজের পাশাপাশি প্রায়ই বেরিয়ে পড়ে সাংগঠনিক সফরে। এ রকম একটি সাংগঠনিক সফরে গিয়েছিলাম ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নগরী ময়মনসিংহ।  

ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন গ্যালারি ও উদ্যানে আমরা প্রথমে পৌঁছালাম। যে উদ্যানটি মানুষের বিনোদনের অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করছে। উদ্যানের পাশেই রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা। রয়েছে খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে থাকা গোটা দশেক রেস্তোরাঁ। নদীতে নোঙর করা শতাধিক ডিঙি নৌকা। এসব দেখতে আর ঘুরতে ঘুরতে সময় হলো মধ্যাহ্নভোজের। ময়মনসিংহের শুভার্থী মুকিতের নেতৃত্বে চলে গেলাম প্রেস ক্লাব ক্যান্টিনে। পথিমধ্যে পুষ্পমেলা আর ডিজিটাল মেলায় ঢুঁ মারতে ভুলল না কেউই। ৫০ জনের খাবার একসয়েঙ্গ খাওয়াতে ক্যান্টিন কর্তপক্ষের সঙ্গে মুকিতকেও খুব বেগ পেতে হয়েছিল। খাবার শেষে যাত্রা করলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে। সেখানে অপেক্ষা করছিলেন কালের কণ্ঠ বাকৃবি প্রতিনিধি আবুল বাশার মিরাজ। আমাদের সঙ্গে নিয়ে সোজা চলে গেলেন বোটানিক্যাল গার্ডেনে। এখানে বসেই শুভসংঘের মার্চ মাসের কার্যপ্রণালি নির্ধারণ করা হয়। এরপর নৌ-ভ্রমণ। আমরা ৫০ জনের টিম তিনটি নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম নদের মাঝে। আর শুভসংঘের কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম মোস্তফা খান গানের মাধ্যমে মাতিয়ে রাখল সবাইকে। গান আর আনলিমিটেড নদী-আড্ডা শেষে তীরে ফেরা।

গাজীপুর শুভসংঘের আয়োজনে এ আনন্দ ভ্রমণ ও আড্ডার নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলা শুভসংঘের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবা সুলতানা।   আর এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন জেলা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার খান, শুভার্থী  কামরুন নাহার, শাহজিয়া শাহরিন আণিকা, টুম্পা, ইমরান, সিনথিয়া সাথী,  ইফরাত জাহান, গোলাম মোস্তফা ও তাঁর পরিবার, মৌসুমী, লাবণীসহ উপস্থিত সবাই।


মন্তব্য