kalerkantho


আহা আজি এ বসন্তে...

আরিবীন খন্দকার শরিফ   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আহা আজি এ বসন্তে...

বসন্তের শোভাযাত্রায় উত্তরা ইউনিভার্সিটি শাখা শুভসংঘের বন্ধুরা

অনাদিকাল থেকেই বাঙালি জীবনে বসন্তের উপস্থিতি। কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায় আছে বসন্তের বন্দনা।

সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনেও বসন্ত ঠাঁই করে নিয়েছে নানা অনুপ্রাস, উপমা ও প্রতীক্ষায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিককালের বাউল কবির মনকেও বারবার দুলিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। সে জন্যই বসন্ত বাতাসে বন্ধুর বাড়ির ফুলের সুবাসে মন আনচান করে বাউল কবির।

যৌবনের উদ্দাম আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্বেলতায় মন কেড়ে নেওয়া বসন্তের প্রথম দিনে নানা আয়োজন করেছিল উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুভসংঘের বন্ধুরা। যখন ফাগুন হাওয়ার দোল লেগেছে বাংলার নিসর্গ প্রকৃতিতে। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতির সবুজ অঙ্গন। মৃদু বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। তাই তো বসন্তকে স্বাগত জানাতে প্রাণ খুলে সবাই গেয়ে ওঠে, ‘আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে/এত বাঁশি বাজে/এত পাখি গায়...। ’ রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গানের আকুতি যেন ছড়িয়ে পড়ছিল চারদিকে।

পহেলা ফাল্গুনে নানা সাজে সেজেছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটি শাখা শুভসংঘের বন্ধুরা। শেষ বিকেলে আবার একটি আনন্দ শোভাযাত্রারও আয়োজন করেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান, শুভসংঘের উপদেষ্টা, সভাপতিসহ কমিটির সব বন্ধু শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।

শোভাযাত্রা শেষে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন, ‘কুয়াশার চাদরে মোড়া শীত জেঁকে বসতে না বসতেই বিদায় নিয়েছে। প্রকৃতির দিকে তাকালে শীত-বর্ষার মতো বসন্তকেও অনেক সময় সহজে চেনা যায় না। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুচক্রেও এসেছে নতুন ব্যঞ্জনা। সময়মতো শীত আসে না, বর্ষাও তা-ই। গ্রীষ্মের খরতাপও মানে না নিয়ম। এসবের মধ্যেও যেন অনেকটা সগৌরবে দীপ্যমান বসন্ত। প্রকৃতির এ আনন্দবার্তায় নাগরিক মনও তাই উচ্ছ্বসিত। কংক্রিটের নগরীতে কোকিলের কুহুস্বর ধ্বনিত হয় ফাগুনের আগমন সামনে রেখে। যানজট, কোলাহল ছাপিয়েও যেটুকু প্রকৃতি খুঁজে পাওয়া যায় নগরে, একেই অতি আপন করে নেন নগরের কর্মব্যস্ত মানুষ। যতই নিষ্প্রাণ, হিসেবি, প্রকৃতি-বিচ্ছিন্ন হন না কেন, বসন্তের এই দিনে তারা গেয়ে ওঠেন—‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে/ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে...। ’


মন্তব্য