kalerkantho


কালের কণ্ঠ-বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড

খুদে বিজ্ঞানীদের জীববিজ্ঞান উৎসব

জাকারিয়া জামান   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



খুদে বিজ্ঞানীদের জীববিজ্ঞান উৎসব

অতিথিদের সঙ্গে জাতীয় উৎসবের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ছবি : লুত্ফর রহমান

শীতের প্রায় শেষ সময়ের এক শুক্রবারের সকাল। কোথাও তেমন শীতের আবহ না থাকলেও রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে সবুজের সমারোহে ভরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কুয়াশায় ঘেরা।

সকালে যেখানে পাখির কিচির মিচিরে ঘুম ভাঙে হলের শিক্ষার্থীদের, আজ সেখানে মানুষের কোলাহল। ঢাকা উত্তর এবং আশপাশের প্রায় ১০টি জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণে মুখরিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সব শিক্ষার্থীর সঙ্গেই আছেন এক বা দুজন করে অভিভাবক। জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় আসর কালের কণ্ঠ জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্বে অংশ নিতে সকাল ৮টার আগেই এসে লাইনে দাঁড়িয়ে গেছে এক হাজার ২৮৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের সামলাচ্ছেন জীববিজ্ঞান উৎসবের প্রাণ এনজাইমখ্যাত শুভসংঘের বন্ধুরা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব শুরু হয়। প্রথম দিনের এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর দিকনির্দেশনামূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে শুভসংঘের বন্ধুরা শিক্ষার্থীদের লাইনে লাইনে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যান।

সাড়ে ৯টায় শুরু হয় এক ঘণ্টার বহুনির্বাচনী পরীক্ষা। এ সময় পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামালসহ অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্যবৃন্দ।

পরীক্ষা শেষে আবার শুভসংঘ বন্ধুদের সঙ্গে অডিটরিয়ামে হাজির হন সব শিক্ষার্থী। এ সময় পুরো অডিটরিয়ামে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে কানায় কানায় পূর্ণ অডিটরিয়ামে এসে হাজির হন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোপালগঞ্জ)-এর উপাচার্য ড. খন্দকার নাছিম উদ্দিন, কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ড. মনিরুল ইসলাম, উপদেষ্টা ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ খ ম গোলাম সারওয়ার ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম।

অন্ধ মানুষ কি স্বপ্ন দেখে? মানুষের শরীরে ক্লোরোফিল স্থাপন করলে মানুষও কী গাছের মতো নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারবে? মানুষের শরীরে অ্যারেনকাইমা কোষ লাগিয়ে দিলে মানুষও কী কচুরিপানার মতো ভাসবে? প্রশ্নোত্তর পর্বে এমনই নানা মজার মজার প্রশ্নে অজানাকে জানাতে চেষ্টা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই প্রশ্নগুলোর গোছানো উত্তর দিয়ে তাদের জানার অদম্য আগ্রহকে আরো বাড়িয়ে দেন উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা।

অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জীববিজ্ঞানকে জানার আগ্রহে এত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের সুন্দর প্রশ্ন উপস্থাপন কৌশল দেখে মনে হচ্ছে, এদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে ভবিষ্যতের জগদীশ চন্দ্র বসু। এরাই হয়তো একসময় ছিনিয়ে আনবে নোবেল পুরস্কার। দেশ-বিদেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে আমাদের এই নতুন প্রজন্ম। ’

প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে। এর মধ্যেই হাতে চলে আসে ফলাফল। জাতীয় উৎসবের জন্য তিন ক্যাটাগরি থেকে ১২২ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হয়। এদের মধ্যে তিন ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়ন হয় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের আহসানুর রাজী। এ ছাড়া ক্যাটাগরিভিত্তিক জাতীয় উৎসবের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা হলেন—

হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি থেকে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের জয়ন্ত সাধু, টিউলিপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইসাইয়া ট্রিপলেন্ড হেভেন, ধানমণ্ডি টিউটরিয়ালের হিমাদ্রী পান্থ দাশ এবং অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নিকিতা রোজা। হায়ার সেকেন্ডারির প্রথম রানারআপ ম্যানগ্রোভ স্কুলের নাজমুস সাদাত, মাস্টারমাইন্ডের অর্ণব চক্রবর্তী, অণ্বেষা মুজিব  চৈতি ও কাজী ইশা নাফিসা, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মাইশা মুনাওয়ারা প্রমি, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ডের নাফিজ ইশমাম আহমেদ, ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের তামীম মাহমুদ খান, অ্যাকাডেমিয়ার রাদিয়া মারিয়াম মধুমী খান, সরকারি বিজ্ঞান কলেজের মো. সিফাত রহমান অনন্ত এবং নটর ডেম কলেজের জেড ইউ এম ওয়াহিদ। হায়ার সেকেন্ডারির দ্বিতীয় রানারআপ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ভিক্টোরিয়া উত্তরী বসু, মায়িশা ইসলাম, মো. রাইসুল ইসলাম শাকিল, রাবেয়া আক্তার সাথী, এ এস এম সাবিকুল হাসান, শাহনাজ সুলতানা, নাজিয়া জেসমিন, রুমাইয়াত আলম রিফা ও মাহজাবিন নামিরা মজুমদার, লরেটো স্কুলের মালিহা তানজিম ইউকি, মাস্টারমাইন্ডের মোহাম্মদ রাফিউল করিম, সুবির দত্ত গুপ্তা ও মালিহা মুনতাজ, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের হুমায়রা আফরোজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ইকরামুল হক ও আজরুন্নাহান নীলা, ম্যাপল লীফের ফাহেমুন করিম মিহিকা, হলিক্রসের মাহবুবা রহমান, নওশিন জান্নাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস, সেন্ট যোসেফের মো. শাওন মিয়া, রেজভী আহম্মেদ ও মো. তুরহান পাঠান, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাহমুদ উল্লাহ ও আবদুল্লাহ আল হোসাইন ফারুকী, ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তাসিন বিন জামিল এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অমিত হাসান।

সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির চ্যাম্পিয়ন আইমান ওয়াদুদ ও সৈয়দ মাহিন ইরতিজা, মাস্টারমাইন্ডের সারিকা তাসনিম শায়লা ও এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ডের অনিন্দ্য হক। সেকেন্ডারির প্রথম রানারআপ বি এ এফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রীতম কৃষ্ণ কুণ্ডু ও মিরাজ আহাম্মদ সাদী, ঢাকা রেসিডেনসিয়ালের ঐতিহ্য হক, ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুলের মো. বায়েজিদ মিয়া ও ইফতেখার মাহমুদ রাতুল, মাস্টারমাইন্ডের  নৈঋতা সেন ও আনুভা মেহরীন, মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অর্পা হাওলাদার, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মাধাব ভি এস এবং শহীদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের অদিতি কুণ্ড। সেকেন্ডারির দ্বিতীয় রানারআপ বি এ এফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শাহরিয়ার খালিদ রহমান, গীতা সাহা ও শাকরুনা তাহমীদ তূবা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শারমিন সুলতানা, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের আরিয়ান আন্দালিব আজিম, ঢাকা সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুলের ফারুক আহমেদ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজের হাসান আবদুল্লাহ (তালহা), হলিক্রসের মাহজেরিন করিম, ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুলের সৈয়দ হাসিব শাহরিয়ার তূর্য ও জয়নব তানজিম, মাস্টারমাইন্ডের আহমেদ রাফি ইকবাল ও সাইয়্যদা রানা প্রাপ্তি, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুলের নুসরাত তাবাস্সুম তিথি, মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সায়মা বিনতে মনসুর, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শাহরিনা আফরোজ ও নাহিয়ান তাসনিম, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্জিয়া খান চৌধুরী, স্কলাস্টিকার এস এম ফাইয়াজ সম্মান, শহীদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের রিদওয়ানা বিনতে নূর, শেরেবাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রেদওয়ান জাহান, সেন্ট যোসেফের তাহজীব জামান আলভি, সাদমান রহমান, আবদুল্লাহ ফাইয়াজ, ফেরদৌস জামান সিদ্দিকী ও সৌমিক সাহা।

জুনিয়র ক্যাটাগরির চ্যাম্পিয়ন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের আহসানুর রাজী ও আহম্মেদুর রাজী এবং হলিক্রসের জাকি রেহনুম আনমনা ও অরিত্রী রায়। জুনিয়রের প্রথম রানারআপ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ফারহান তাওসিফ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নাহিন ইহসান নীলাভ, হলিক্রসের রায়া তাবাস্সুম, অর্পিতা দেব, নাহিয়ান রাদিয়াহ ও ফারিয়া আহমেদ, শেরেবাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইশরাত জাহান বুশরা , সেন্ট যোসেফের নাফিজ ইমতিয়াজ হোসেন ও এস এম সায়েফ আবদুল্লাহ। জুনিয়রের দ্বিতীয় রানারআপ হলিক্রসের তাসনীম মারজানা, সাইফা নুজহাত নূয়েরী, ফাতিমা তুল ইসলাম সাদিয়া, তাবিথা জয়ী রোজারিও ও শারিতা নাছিয়া প্রকৃতি, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুলের পুষ্পিতা পাল, শহীদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের যায়মা ইসলাম, রাইদাহ ওয়াফা, তানিশা রহমান, মায়মুনা রাহাত, সুমাইয়া ফারহানা ইসলাম ও সাদিয়া হক, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের জায়েদ বিন জামান, শেরেবাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সৈয়দা আফরিন রাইদা, মারুফা আক্তার, মাফরুহা মাহমুদ, সাবা লামিয়া রুহিন ও হুমায়রা ইসলাম, সেন্ট যোসেফের ইফতিখার মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান, জারীফ ইকতিয়ার মল্লিক, মশরুর রহমান রিদম, আবরার জাহিন রায়হান, মো. নাঈম খান, মো. আলী আল আফতাব, মুহতাসিম ইসলাম চীেধুরী, আয়ান রহমান ও ইফতেখার তানভীর ইফতি এবং আগা খান স্কুলের রাফসান রহমান রায়ান।

পরবর্তী আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসবসমূহ এবং সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত ঘোষণা জানতে হলে চোখ রাখুন কালের কণ্ঠে। এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের যেকোনো তথ্যের জন্য ডায়াল করুন: ০১৯১৮১-০৬৬-৮৯৮। জীববিজ্ঞান উৎসবের ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।


মন্তব্য