kalerkantho


আনন্দ প্রেম আর ‘ভালোবাসার গল্প’

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আনন্দ প্রেম আর ‘ভালোবাসার গল্প’

আইইউবিএটি

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লেখালেখির অভ্যাসটা ফিরিয়ে আনতেই কালের কণ্ঠ ও রেডিও ক্যাপিটাল যৌথভাবে আয়োজন করেছে ‘ওয়ালটন ভালোবাসার গল্প’ লেখা প্রতিযোগিতা। লিখবেন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সে উদ্দেশ্যেই প্রচারণা চলেছে দেশজুড়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছিল নানা অনুষ্ঠান। ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোবাসার গল্প খুঁজতে গিয়েছিলেন শুভসংঘের বন্ধুরা। সেখানে ভালোবাসা সম্পর্কে যেসব মজার মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন জাকারিয়া জামান ও মো. জহিরুল ইসলাম। সঙ্গে ছিল রেডিও ক্যাপিটাল এফএম ৯৪.৮। ছবি তুলেছেন মঞ্জুরুল করিম ও লুৎফর রহমান

 

‘নাম রোমিও হলেও ভালোবাসার জুলিয়েটের দেখা এখনো পাইনি রে ভাই! কবে মিলবে তা-ও জানি না। এভাবে বেশ হাসিমুখে ভালোবাসার মানুষটিকে না-পাওয়ার অনুভূতি জানাচ্ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রোমিও। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ের প্রেম-ভালোবাসায় আগের মতো মূল্যবোধ নেই! নেই কমিটমেন্টও। এখন ফেসবুক আর ই-মেইলে ফেরি হয় ভার্চুয়াল ভালোবাসার গল্প।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোতাহের হোসেন তুষারের মতে, ভালোবাসা শুধু নর-নারীর জৈবিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখার বিষয় নয়। মা-বাবা, পরিবার, প্রকৃতি, সমাজ ও দেশকে ভালোবাসাটাও এক ধরনের আবেগী ভালোবাসা। দেশকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের ভালোবাসা অনেক দরকার বলে জানান তিনি।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া প্রচারণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমণ্ডি, বনানী, উত্তরার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান শুভসংঘের বন্ধুরা। আনন্দপূর্ণ পরিবেশে হাস্যকৌতুক, গান আর রেডিও ক্যাপিটালে সরাসরি অংশ নেওয়া আর প্রিয় মানুষটিকে রেডিওর মাধ্যমে ভালোবাসা জানানোর মতো বিষয়টি অনুষ্ঠানগুলোকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। প্রত্যেকেই মন উজাড় করে জানিয়েছেন তাঁদের ভালোবাসার কথা ও নিজস্ব গল্প। শিক্ষকরাও উৎসাহ দিয়েছেন গল্প লেখার।

প্রথম দিনের প্রচারণা শুরু হয় ধানমণ্ডির ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে। কথা হয় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনের সঙ্গে। মুন বলেন, ‘যাকে ভালোবাসি তার সঙ্গে বোঝাপড়াটা ভালো। সে আমাকে বিশ্বাস করে, এই বিশ্বাসটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য খুব জরুরি। ’ আরেক শিক্ষার্থী সজল আহমেদ বলেন, ‘স্বপ্ন দেখি সুখের জীবন। আমার ভালোবাসার মানুষটিও তা-ই করে। আমার ভালোবাসার গল্পটি লিখতে চাই এবং পাঠাতে চাই এ প্রতিযোগিতায়। ’ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে কথা হয় শিক্ষার্থী বৃষ্টির সঙ্গে। নিজের ভালোবাসার গল্প দ্রুত লিখে পাঠানোর কথা জানান তিনি। অধরা বলেন, ভালোবাসার যেমন কোনো নির্দিষ্ট দিন হতে পারে না, তেমনি নির্দিষ্ট কোনো মানুষও হতে পারে না। সবার জন্য ভালোবাসা থাকা উচিত, তবে সেটা ব্যক্তিবিশেষে আলাদা হবে।

দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার বনানীর নর্দান ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে কথা হয় শিক্ষার্থী ইবনূরবীন হোসাইন সাকিবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসা এক জায়গায় সীমাবদ্ধ না, এটি সৃষ্টিকর্তার দান। জন্মের পর থেকে আমরা বিভিন্নভাবে ভালোবাসা পেতে থাকি। প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার ভালোবাসার পুরোটা জুড়ে রয়েছে মা ও ছোট বোন। ’ এ সময় শিক্ষার্থী জেরিন শোনালেন তাঁর কপালে সব সময় লেগে থাকা টিপের গল্প। শিক্ষার্থীদের নিজের জীবনে গল্প বলতে ও লিখতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবুল কাশেম মোল্লা। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসার অর্থ ব্যাপক, এর ব্যাপ্তি অনেক, যা ভালো তা-ই ভালোবাসার অংশ। ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এ কে এম আশরাফুল হক কালের কণ্ঠ ও এফএম ৯৪.৮ ক্যাম্পেইন টিমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভালোবাসাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে হবে, মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। তবেই এ আয়োজনের সার্থকতা মিলবে। ’ ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কথা হয় শিক্ষার্থী ফয়সালের সঙ্গে। তিনি বলেন, গল্প পাঠাতে সমস্যা নেই; কিন্তু আব্বু তো কালের কণ্ঠ পড়েন, যদি দেখে ফেলেন, তবে কী হবে! মাইর খাব। তবে নির্ভয়ে এ কথা বলতে পারি, একবার ভালোবাসার কথা বলে দ্বিতীয়বার বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলাই ভালোবাসা। ’ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুল হক সুপন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশপ্রেমও হচ্ছে এক ধরনের ভালোবাসা। দেশপ্রেম হলো, যে যার জায়গায় থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা। তোমাদের কাজ পড়াশোনা করা, আমাদের কাজ পড়ানো। আমাদের লেখার অভ্যাস উঠে যাচ্ছে! শিক্ষার্থীরা এখন আর লিখতে চায় না, যা খুবই উদ্বেগের বিষয়। তোমরা কলম ধরলেই লেখা আসবে, তাই কলম ধরতে শেখো, আর লেখো নিজের ভালোবাসা নিয়ে, লিখতে থাকো দেশ নিয়ে। ক্যাম্পেইনের তৃতীয় দিন ছিল শনিবার। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে ক্যাম্পেইন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, সামাজিক বিজ্ঞান চত্বর, হাকিম চত্বর, টিএসসির সড়কদ্বীপ, বইমেলার প্রবেশপথসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে আয়োজকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং লেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সানজিদা জাহান তুলি নামের এক শিক্ষার্থী বলছিলেন, মাকে অনেক ভালোবাসি; কিন্তু কখনো বলা হয়নি। আর সাফওয়ান বলেন, আমরা ভালোবাসার সংজ্ঞাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি। আশা করি, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সত্যিকারের ভালোবাসার গল্প ছড়িয়ে পড়বে।

বিশ্বব্যাপী ভালোবাসার ভাষা এক এবং ভালোবাসার রং একেকজনের কাছে একেক রকম হলেও এর পরিধি, সময় ও ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে তার সুসম্পর্কের ওপর নির্ভর করে, এমনই অভিমত বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর। ‘ভালোবাসার গল্প’ লেখা প্রতিযোগিতার প্রচারণার শেষ দিন ছিল সোমবার। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় তিনটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে ভালোবাসার গল্প লেখা নিয়ে। সোমালিয়া থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে বাংলাদেশে এসেছেন আবদুল কাদের। তিনি পড়ছেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি)। কথা হচ্ছিল আবদুল কাদেরের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, ‘আমার ভালোবাসার মানুষ সোমালিয়ায়। আমি তার উদ্দেশে বলতে চাই, ভালোবাসি তাকে অনেক বেশি। ভালোবাসাই জীবন, ভালোবাসাই সব। ভালোবাসার মানুষ যেখানেই থাকুক, একবার বলুন ভালোবাসি। ’ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন রাকিবের যুক্তি, ‘ভালোবাসার সঠিক ব্যাখ্যা আসলে কেউ দিতে পারে না। ’ ফাতেমা নাওয়ারের মতে, ‘ভালোবাসা হলো একে অন্যের ভালো-মন্দের খবর রাখা, ভালোবাসার মানুষটির প্রতি সম্মানবোধ থাকা। ’ শিক্ষার্থী রায়হানের কাছে ভালোবাসা হলো একটি সুসম্পর্ক। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী নিগার সুলতানার কাছে ভালোবাসা হলো—‘আপনি যদি কোনো বিষয় নিয়ে খুব ভাবেন, তার প্রতি আপনার ভালো লাগা তৈরি হয় আর এর মাধ্যমে ভালোবাসার উত্পত্তি। ’ সুরাইয়া আক্তারের কাছে ভালোবাসা হচ্ছে, ‘পছন্দ হলে সেটা পরিবারকে বুঝিয়ে পারিবারিকভাবে শেষ পরিণতি—অর্থাৎ বিয়ে পর্যন্ত যাওয়া। ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষিকা মুকতাশা দিনা চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভালোবাসার সব কিছু প্রথম দেখা, প্রথম কথা, প্রথম ভালো লাগা। মোট কথা, যেকোনো প্রথম তোমাদের কাছে যতটা ভালো লাগে, সেই ভালো লাগা যদি শেষ দিন পর্যন্ত একই থাকে, তবে এটাই সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা। ’ উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা জাহান প্রিয়া, প্রতিদিন ভালোবাসার পক্ষে। তাঁর যুক্তি, মানুষ প্রতিদিনই বারবার প্রেমে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ইংরেজি বিভাগের চেয়ারপারসন হাসপিয়া বশিরুল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভালোবাসার সংজ্ঞা বৃহৎ। ভালোবাসা সবার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজ হোসেন ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসার কথা সবাই বলে। আমরা একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করলে দেখব, প্রাণিকুলের প্রতি যদি মানুষের টান থাকে, তবে মানুষের প্রতি সত্যিকার ভালোবাসার উপলব্ধি পাওয়া সম্ভব। ’

 

 

২.   ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস

 

৩.   ফারইস্ট ইন্টা. ইউনিভার্সিটি

 

৪.   ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

 

৫.   ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি

 

৬.   এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

 

৭.   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

৮.   প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি

 

৯.   উত্তরা ইউনিভার্সিটি

 

১০.  ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

 

১১.  নর্দান ইউনিভার্সিটি

 

১২.  ঢাকা ইন্টা. ইউনিভার্সিটি

 


মন্তব্য