kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টিউমার আক্রান্ত মায়ের পাশে কয়েকজন বন্ধু

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



টিউমার আক্রান্ত মায়ের পাশে কয়েকজন বন্ধু

মা-বাবা আদর করে একমাত্র মেয়ের নাম রেখেছিলেন ডালিয়া। আদরের মধ্যেই বড় হতে থাকে সে।

কিন্তু অল্প বয়সেই বাবা মোকলেস হাওলাদার মারা গেলে ফুটফুটে সুন্দর শিশুটির জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। মা সেলিনা বেগম নিজে পরিশ্রম করে মেয়েকে বড় করতে শুরু করেন। কিশোরী বয়সেই ডালিয়ার বিয়ে হয়ে যায়। জন্ম নেয় সুন্দর ফুটফুটে কন্যাসন্তান। এর কিছুদিন পরই স্বামী তাকে ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যায়। ইতিমধ্যে ডালিয়ার শ্বশুর ও দেবরও মারা যান। তাই শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সে। জীবনযুদ্ধে নেমে পড়তে হয় ডালিয়াকে। মা ও মেয়েকে নিয়ে বাঁচার জন্য শুরু হয় লড়াই।

প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়ি গিয়ে টিউশনি। এরপর একটি পত্রিকা অফিসে খণ্ডকালীন চাকরি। আবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টিউশনি। এরই মধ্যে চলে নিজের মেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়া, রান্না, বাজার করাসহ আনুষঙ্গিক কাজ। এভাবেই কষ্ট আর সংগ্রাম করে দীর্ঘ ২৫ বছর জীবন পাড়ি দেয়। মেয়ের বয়সও ১০ হয়ে গেছে। মা চলে গেছেন মধ্যবয়সে। শহরের আচমত আলী খান সড়কের একটি বাসা ভাড়া করে মা ও মেয়েকে নিয়ে দিনের পর দিন সংগ্রাম চলতে থাকে ডালিয়ার। এই অভাবের মধ্য দিয়েও মেয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি সে এসএসসি, এইচএসসি পাস করেছে। বর্তমানে বিএ পড়ছেন। পড়াশোনা আর কাজের পাশাপাশি খুঁজতে থাকেন একটি ভালো চাকরি। যাতে করে তিনজন একটু ভালো করে থাকতে পারেন—এই আশায়।

চার বছর আগে হঠাৎ শারীরিকভাবে মোটা হতে থাকেন ডালিয়া। ধরা পড়ে নানা অসুখ। পেটে নানা সমস্যা ও টিউমার ধরা পড়ে। কিন্তু টাকার অভাবে নিজের জীবনের প্রতি চরম অবহেলা করলেও মা ও মেয়েকে সুখে রাখার জন্য পরিশ্রম করতে থাকেন। সম্প্রতি ডালিয়ার পেটের টিউমার বড় হয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। শুরু হয় তীব্র ব্যথা। মাদারীপুরে একজন চিকিৎসককে দেখালে দ্রুত ঢাকায় গিয়ে অপারেশনের কথা বলেন। সেদিন থেকেই ডালিয়ার জীবনে নেমে আসে আরো গভীর অন্ধকার। নিজের জন্য না হোক, মা ও মেয়ের জন্য তার বাঁচার আকুতি দেখে অনেকেই চোখের জল ফেলেন।

সব শুনে খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পাওয়ার পর শুভসংঘের বন্ধু সাংবাদিক আয়শা আকাশী তাঁর ফেসবুকে ডালিয়ার ছবিসহ স্টেটাস দেন। সেই স্টেটাস দেখে অনেকেই এগিয়ে আসেন। মাদারীপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ডালিয়ার হাতে তুলে দেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। এরপর মাদারীপুরের ছেলে কুয়েত প্রবাসী নাজমুল হোসেন বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। মাদারীপুরের ছেলে ইতালি প্রবাসী শুভসংঘের উপদেষ্টা জনি মিয়া ১৫ হাজার টাকা, শুভসংঘের উপদেষ্টা আমেরিকা প্রবাসী আশিকুর হোসেন অপু চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সংস্থার মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা, মাদারীপুরের আরেক ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী জি এম পলাশ এবং নাম না প্রকাশের শর্তে ঢাকায় বসবাসরত এক ছাত্রনেতা পাঁচ হাজার টাকা সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেন। তাঁরা দ্রুত ব্যাংকে অনলাইনের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দেবেন বলে জানান।  

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, আকাশীর ফেসবুকে স্টেটাস দেখে আমি ডালিয়ার জন্য এগিয়ে এসেছি। এই টাকা দিয়ে চিকিৎসা শুরু হোক। প্রয়োজনে তাকে আরো টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।


মন্তব্য