kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

কবিতা

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যর্থতা

শামসুজ্জোহা

 

সিরিয়া থেকে ক্রিমিয়া

ইরিত্রিয়া থেকে লিবিয়া

কাঁদে বিপন্ন মানবতা।

জীবনের আলপথে হেঁটে হেঁটে

ব্যর্থ স্বপ্নেরা জমা হয়

ভূমধ্যসাগরের ছোট ডিঙি নায়।

স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বর্ণিল সোনালি

দিনের জাল বুনে যাওয়া

তরুণীর স্বপ্নগুলো হয়ে যায়

আয়লান কুর্দ।

জীবন তো এমনই সরিষার দানা হয়ে

গড়ে যায় আগামীর

সূর্যহীন অমানিশায়।


 

উৎস থেকে মোহনা

ফরহাদ হোসেন

 

পৃথিবীর এই দীর্ঘ পথে আমি হাঁটি একা

নিঃসঙ্গতা সাথে নিয়ে

আমার উৎস থেকে মোহনার দিকে।

 

পথ যেন আর ফুরায় না,

যেমন করে বয়ে চলে নদী

তার উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত।

 

মাঝে কত চড়াই-উতরাই

কত পথ এঁকেবেঁকে এগিয়ে চলা

কতবার গতি রোধ হয়, তার পরও

বয়ে চলে অবিরত।

 

কোনো বাধাই যেন তার কাছে বাধা না

অবরুদ্ধতা কি সে জানে না

আর জানে না বলেই তার

ছুটে চলা মোহনার অভিমুখে।

 

আমি জানি আমার উৎস থেকে

মোহনা বহু বহু দূরে

তাই হেঁটে চলছি অবিরত।


ভ্রম

মাহমুদা নূপুর

 

যখন যেখানে গিয়েছি খুঁজেছি তোমায়,

মিলিয়ে দেখেছি প্রতিটা পদরেখা,

মিলে যদি যায়!

খুঁজেছি দিনের আলোয় রোদ্রের কানে কানে,

অথবা রাতের বাতাসে রিনিঝিনি গানে গানে,

পাইনি তোমায়, কোথাও পাইনি তোমায়।

শুধাইয়েছি নদীরে, সাগর গিয়েছে যেথায়

দেখেছ কি তারে?

উত্তর মেলেনি।

ঘুরেছি আমি পাহাড়-পর্বত আর বনবাদাড়ে।

পাইনি তোমায়, কোথাও পাইনি তোমায়।

মনেরে দিয়েছি সান্ত্বনা, হারিয়ে ফেলেছি যারে,

তারে আর খোঁজা না—

তারপর একদিন হঠাৎ

 কেটে গেল ঘোর,

খুলে দিলাম সকল জানালা, ঘরের সকল দোর,

বোকা আমি! বুঝতে পারিনি তাই,

যে রয়েছে আমারি ভেতর,

আমি কি না তারে জগৎ জুড়িয়া

খুঁজিয়া বেড়াই।


প্রাচীর আমি ভাঙবই

সালমা বেগ

 

আমি বহুবার আকুতি করেছি

আমায় একটা খোলা আকাশ দাও।

আমি দেখতে চাই,

স্নিগ্ধ সকাল, শান্ত সন্ধ্যা।

আমি থাকব না চার দেয়ালে বন্দি।

আমি দেখব অমাবস্যার রাতে

তারাভরা আকাশ।

ভরা পূর্ণিমায় দেখব,

তোমার মোহনীয় রূপ।

অবাধ প্রেমে আমি মাতাল হয়ে আছি।

এবার আমি দেয়াল ডিঙাব,

প্রাচীর ভাঙব।

যাবই তোমার কাছাকাছি।


প্রতিবাদ

খোন্দকার শাহিদুল হক

 

 

বুড়িগঙ্গা-তুরাগ-বালু

শীতলক্ষ্যার তীরে

জাগবে কি আর জনজীবন

নদীর দেহ ঘিরে?

 

নদীর পানি সব দূষিত

মাছের চোখেও কান্না

তবু নদী বলছে ডেকে

যা হয়েছে আর না।

 

কিন্তু কথা কেউ শোনে না

খাচ্ছে নদী গিলে

লম্বা হাতে কিংবা টাকায়

খাচ্ছে সবাই মিলে।

 

এবার সবাই জাগতে হবে

ভাঙতে হবে হাত

চলবে না আর দখল-দূষণ

চলবে প্রতিবাদ।


নদী

মো. নয়ন হোসেন

 

দাদু তুমি বলেছিলে

এখানে ছিল এক নদী

নাম ছিল তার নারত।

নদীতে চলত নৌকা,

আর ছিল অনেক ছোট-বড় মাছ,

জেলের মুখে ছিল হাসি বারো মাস।

নদী হলো মায়ের মতো

সন্তানই যার প্রাণ,

আমরা সন্তান হয়েও

দিই না যে তার দাম।

কোথায় হারিয়ে গেল

এমন একটি নদী,

নদী ছাড়া দেশের কি হয় উন্নতি?

আজকে তোমায় কথা দিলাম

দেব না হারিয়ে যেতে আর কোনো নদী।


মন্তব্য