kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্রেকআপ

আল-মাসুদ হক মিঠুল   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্রেকআপ

ফোনটা পিক করতেই ওপাশ থেকে একটি শব্দ ভেসে এলো ব্রেকআপ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাইনটা কেটে গেল।

উফ্ শিট! বলে চোখেমুখে রাজ্যের বিরক্তি প্রকাশ করে সোহাগ একটা সিগারেট বের করে যেই ধরাতে যাবে তখনই ঘটল আরেক বিপত্তি, দিয়াশলাইটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাগে একরকম গজরাতে গজরাতে হোস্টেলের ডান দিকের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। চাঁদনী রাত, আকাশে তারার মেলা। তারাগুলো মিটিমিটি করে জ্বলছে নাকি হাসছে ঠিক সেই হিসাবটা সোহাগ আজও মেলাতে পারেনি। তাই তো তারাদের সঙ্গে মিল রেখে মুন্নীকে মুন বলে ডাকে। আজও সোহাগ মুন্নীর ভেতরের মুন্নীটাকে আবিষ্কার করতে পারেনি। মুন্নীর সব কিছুই সোহাগের ভালো লাগে কিন্তু হঠাৎ কোনো কারণে রেগে যাওয়াটাই বড্ড বিরক্তি লাগে। মুন্নীর কথামতো আজকের বিকেলটা তার সঙ্গেই কাটিয়েছে। বেশ হাসিখুশিই একটা মুড ছিল কিন্তু হঠাৎ কী এমন হলো যে মধ্যরাতে ব্রেকআপ বলে তিন বছরের সাজানো প্রেমটা শেষ করে দেবে। সোহাগ অনবরত ঘামছে, কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না, যেই টিস্যু বের করতে যাবে ঠিক সে সময় আবারও মুন্নীর ফোন। চটজলদি সোহাগ পিক করেই বলে উঠল, জান, তোমার কী হয়েছে? কোনো রকম উত্তর না দিয়ে মুন্নী বলে উঠল, কাল তুমি সকাল ৯টায় টিএসসিতে চলে আসো, শেষ বোঝাপড়া আছে।

নেশাটা বড্ড বেড়েই চলছে, কাল কলেজের ফরম ফিলাপের শেষ দিন। টাকাটা এখনো জোগাড় হয়নি, ফরম ফিলাপ না হলে এক ইয়ার লস হয়ে যাবে। টিউশনির বেতনটা যথাসময়ে না পাওয়ায় একটি বিশ্রী অবস্থায় পড়েছে সোহাগ। কারো কাছে হাত পাতার অভ্যাস সোহাগের ছোট থেকেই নেই। দুবেলা না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে ধার করবে না। সোহাগের এই ব্যাপারটা মুন্নীর ভীষণ পছন্দ। না, কোনোভাবেই ঘুম আসছে না। সব টেনশন সোহাগকে ঘিরে ধরছে, তবু ঘুমানোর জোর প্রচেষ্টা চালাল সোহাগ।

ক্রিং ক্রিং শব্দে ঘুম ভাঙলে ফোনটা পিক করতেই ওপাশ থেকে মুন্নীর তাড়া, এখন কয়টা বাজে? আমি টিএসসিতে দাঁড়িয়ে আছি বলেই লাইনটা কেটে দিল। দ্রুতগতিতে সোহাগ রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ল। বেশ রাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুন্নী, সোহাগকে দেখতেই রাগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে বলতে লাগল, দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো ছেলের সঙ্গে আমার রিলেশন থাকতে পারে না। এই শেষ দেখা, তুমি আর কোনো দিন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে না। তোমার সঙ্গে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই, আজ থেকে ব্রেকআপ। যেতে যেতে শুধু একবার সোহাগের দিকে ফিরে তাকাল। ভ্যানিটি ব্যাগটি ফেলে যেতে দেখে সোহাগ চিৎকার করে বলতে লাগল, তোমার ভ্যানিটি ব্যাগটি তো নিয়ে যাও। মুন্নী শুনেও না শোনার ভান করে চলে গেল। সোহাগ ভ্যানিটি ব্যাগটি হাতে নিয়ে খুলতে গিয়ে দেখল ভেতরে চার হাজার টাকা। টাকা দেখে হঠাৎ সোহাগের ফরম ফিলাপের কথা মনে পড়ে গেল। সেই টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ করে মলিন মুখে বাসায় ফিরল। ভ্যানিটি ব্যাগে মুন্নীর ফোন, এটা দিয়ে আসা দরকার বলে যেই সোহাগ উঠতে যাবে ঠিক সেই সময় মুন্নীর ফোন। বেশ নরম গলায় বলল, তুমি কোথায়? আমি বাসায়, আর হ্যাঁ শোনো, তোমার ভ্যানিটি ব্যাগের টাকাটা খরচ করে ফেলেছি, কয়েক দিন পরই দিয়ে দেব, প্রমিজ। রাগ করো না লক্ষ্মীটি। ওপাশ থেকে একটি কথাই ভেসে এলো, তোমার সঙ্গে কি আমি রাগ করতে পারি। এপাশ থেকে সোহাগকে বেশ খুশি খুশি লাগছে, মুখে বেশ একটা চওড়া হাসির রেখা।

 


মন্তব্য