kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অনুগল্প

গল্পটি একান্তই সামান্তার

ইব্রাহীম রাসেল   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গল্পটি একান্তই সামান্তার

নিউ মার্কেটের ব্যস্ত রাস্তা। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ঠিক সামনে সামান্তা অপেক্ষা করছে।

বিকাল ৪টার মধ্যে রাহানের আসার কথা। ঘড়ির কাঁটা ৫টা ছুঁইছুঁই। এরই মধ্যে চার-পাঁচবার কথা হয়েছে মুঠোফোনে। প্রতিবারই আর ৫ মিনিটের কথা বলে ফোন কেটে দিচ্ছে রাহান। সামান্তা সেই পৌনে ৪টা থেকে অপেক্ষা করছে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সে একা এভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সামান্তার কপালে বিরক্তির রেখাগুলো ক্রমান্বয়ে প্রখর হতে থাকে।

বিরক্তিটা যতটা না রাহানের ওপর, তার চেয়ে বেশি আধঘণ্টা ধরে স্থবির হয়ে থাকা রিকশায় বসা তিনজোড়া চোখের ওপর। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ঠিক সামনের অংশটা রিকশা চলাচলের রাস্তা। রাস্তাটা সরু হওয়ায় সব সময় রিকশা জ্যাম লেগেই থাকে। এমন পরিবেশে একা একটি মেয়ের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা চরম বিরক্তিকর। তবু স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে সামান্তা। কারণ আজকে অন্তত সে রাগতে চাইছে না। রাহানের বিশেষ উপহার গ্রহণের জন্য সে অপেক্ষা করছে। কিন্তু রাহানের এতটা দেরিও সইছে না সামান্তার। একে তো প্রচণ্ড গরম পড়েছে আজ, তার মধ্যে অপেক্ষার অযোগ্য এই পরিবেশ! অন্য সময় হলে হয়তো সামান্তা ফিরে যেত। কিন্তু আজ তার হৃদয় পরম কিছু প্রাপ্তির জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।

রাহানের সঙ্গে টিচার্স ট্রেনিং কলেজেই পরিচয়। দুজনের বাড়িই মানিকগঞ্জ। এক এলাকায় হলেও এর আগে কখনো দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না দুজনের কারো। রাহানের আচার-আচরণ, বিশেষ করে ওর বিনম্রতা ভালো লাগে সামান্তার। ওর আন্তরিকতা মুগ্ধ করে ভীষণ। ঢাকার খুব কাছে হলেও সামান্তার দু-একবার ঘুরতে আসা ছাড়া কখনো এই পরিবেশে থাকা হয়নি। তাই এখানের অনেকাংশই তার কাছে অপরিচিত। এখানে এসে রাহানের সঙ্গে পরিচয়ের পর যখন নিজের এলাকার ছেলে বলে জেনেছিল, কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিল। এরপর রাহানের যাবতীয় হেল্প এবং ওর সব কিছু দেখে সামান্তার মুগ্ধতা বীজ থেকে বৃক্ষে রূপ নেয়। একবার কথার ফাঁকে রাহানকে জিজ্ঞেসও করেছিল কাউকে পছন্দটছন্দ করে কি না। রাহান সেদিন স্বভাবসুলভ মুচকি হাসি দিয়ে উত্তরটা এড়িয়ে গিয়েছিল। সামান্তা অবশ্য আচরণ দিয়ে এরই মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছে যে রাহানকে সে পছন্দ করে। আর রাহানকে কখনো সে আচরণের প্রতিবাদও করতে দেখেনি। আজ যখন রাহান নিজে থেকেই ফোন করে বলেছে বিশেষ উপহারের কথা, সামান্তা মনে মনে ধরে নিয়েছে, হয়তো রাহানও আজ নিজের সম্মতির কথা জানাবে। চারপাশটা অসহ্যকর পরিবেশ হলেও এসব কথা ভেবে ভেবে সামান্তা ভালো লাগার ঘোরে ডুবে যায়।

পেছন থেকে রাহানের কণ্ঠে সামান্তা ডাক শুনে ঘোর কাটে তার। এতক্ষণের বিরক্তিকর অপেক্ষার পরও হাসি হাসি মুখ করে পেছন ফেরে সামান্তা। খুব ফরসা এবং একবার দেখেই ভালো লাগার মতো একটি মেয়ে ও রাহান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। রাহানই আগে কথা বলে, একদিন জানতে চেয়েছিলে না—কোনো পছন্দ আছে কি না? তুমি তো আমার ভালো বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী। ভাবলাম সরাসরি পরিচয় করিয়ে দিই। তাই ওকে নিয়ে এলাম। ওর নাম রিয়া। রিয়া সম্পর্কে

আরো অনেক কিছু বলতে থাকে রাহান। সামান্তার কানে এ মুহূর্তে নিউ মার্কেটের ব্যস্ত রাস্তার গাড়ির ঝাঁজাল হর্ন ছাড়া আর কিছুই পৌঁছায় না। নিজেকে মনে হয় টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনের পিচঢালা পথ। সব গাড়ি যেন তার বুকের

ওপর দিয়ে ছুটছে...


মন্তব্য