kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঈদ আড্ডা ও কর্মপরিকল্পনা

মো. জহিরুল ইসলাম   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদ আড্ডা ও কর্মপরিকল্পনা

ঈদ-পরবর্তী আড্ডায় বসেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুভসংঘের কয়েকজন বন্ধু

কষ্টার্জিত জিনিসের প্রতি সবারই বাড়তি টান থাকে। বর্তমানে মানুষ সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জনের পেছনে।

নিজের এই উপার্জিত অর্থ ব্যয়ে প্রতিবছর কোরবানি করে মানুষ। কিন্তু এই সমাজ কি মানুষের এই কোরবানির সঠিক ফল পাচ্ছে? নিজের মনমানসিকতা মানবতার কল্যাণে নিবেদিত করবে মুসলিম উম্মাহ—এটাই হওয়া স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তা কি হচ্ছে? হলেও কতটা? কি হতে পারে একটি সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা? এমনই নানা বিষয় নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কাঁঠালতলার আড্ডায় মেতে উঠেছিল কালের কণ্ঠ শুভসংঘের বন্ধুরা।

ঈদ শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে সেদিন আড্ডায় আড্ডায় উঠে আসে সামাজিক অবস্থার অবক্ষয় থেকে শুরু করে পথশিশুর জীবনাচার। কিছু সময়ের জন্য এ যেন এক ভাবনার জগতে বিচরণ, যে ভাবনা তরুণ যুবাদের ভাবা উচিত সারাক্ষণ, যে ভাবনার হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাবে সঠিক পথে।

শুভসংঘ জবি শাখার সভাপতি বলেন, আমরা সঠিক কর্মপরিকল্পনা করব এবং সুন্দরভাবে তা সম্পন্ন করব। সঠিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে সামাজিক সংগঠন সত্যিকার অর্থেই সার্বিক সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বার্থের কথা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলে সত্যিকার উন্নয়নমূলক কাজের সংকল্প নিয়ে সংগঠন করলেই কেবল দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। সম্ভব হবে সমাজের উন্নয়ন।

আরেক বন্ধু আহসান হাবিব বলেন, আমরা পথশিশুদের নিয়ে কাজ করতে পারি। কিছু পথশিশুর তালিকা প্রথমে আমরা সংগ্রহ করে তাদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যার মাধ্যমে তারা অন্তত সাক্ষরতার সিঁড়ি উতরাতে পারবে।

শুভসংঘের বন্ধু মেহেদী হাসান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য আমরা রাজধানীতে কিছু জায়গায় বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারি। আরেক বন্ধু তাহেরুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, সংগঠন হিসেবে শুভসংঘের কার্যক্রম যেভাবে চলে আসছে, এই চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি আরো কিছু কাজ করতে পারি। পাঠচক্রের মাধ্যমে ইতিহাসবিষয়ক আলোচনা করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিহাস সঠিকভাবে ধারণ করতে পারব।

এ ছাড়া অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন, যেখান থেকে উঠে আসে বেশ কিছু কর্মসূচির কথা, যার মধ্যে রয়েছে—নৌকাভ্রমণ, জনসচেতনতামূলক জনসংযোগ, সদস্য সংগ্রহ, সংগঠন আরো গতিশীল করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ইত্যাদি।

আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন জবি শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সদস্য আশিকুর রহমান, তাসমীয়া, ইমরান, মতিউর রহমান, আশিক উল্লাহ, তাওসিফসহ শুভসংঘের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী অনেকেই। সব শেষে সবাই মিলে গ্রুপ ছবি তোলার মধ্য দিয়ে কর্মপরিকল্পনা ও ঈদ-পরবর্তী আড্ডা শেষ হয়।


মন্তব্য