kalerkantho


এইউবিতে জঙ্গিবাদবিরোধী আলোচনা সভা

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১০ আগস্ট এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আয়েশা মিলনায়তনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এইউবির প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জিয়া রহমান এবং গেস্ট অব অনার ছিলেন দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ সম্পাদক আবু সাঈদ খান।

প্রধান আলোচক তাঁর বক্তব্যে বলেন, একসময় দরিদ্রতা এবং স্বল্প শিক্ষাকে জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধনাঢ্য পরিবারের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে তিনি বলেন, শুধু বাণিজ্যিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেই কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আদর্শিক বিষয়গুলোকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। ফলে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার মানে উন্নীত করা যাচ্ছে না।

আবু সাঈদ খান বলেন, বিশ্বমোড়ল রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য ধর্মান্ধতাকে উসকে দিয়ে থাকে। মৌলবাদের সশস্ত্র রূপকেই তিনি জঙ্গিবাদ উল্লেখ করে আরো বলেন, দেশকে আন্তর্জাতিক অবস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য, দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করার জন্য একদল স্বার্থান্বেষী লোক এ দেশে জঙ্গিবাদের আমদানি করছে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, শিক্ষা হতে হবে যুগোপযোগী, উচ্চশিক্ষায় শুধু মার্কেট ভ্যালু মাথায় না রেখে মানবিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে । তিনি বলেন, মানুষে মানুষে ঐক্য তৈরি করা গেলে এ দেশে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ সহজ হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে জঙ্গিবাদের স্থান নেই। ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা প্রদানকারীদের কারণে আজ দেশের তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দিয়ে থাকি। দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কো-কারিকুলাম কার্যাক্রমে অংশগ্রহণ করতে হয়। কাজেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিপথে যাওয়ার সুযোগ নেই। ’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কে এম মনিরুল ইসলাম, ডিন মহোদয়গণ, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভসংঘের বন্ধুরা।


মন্তব্য