kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রকৃতির মাঝে বাঁচতে চাই

ইয়াদুল মোমিন   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রকৃতির মাঝে বাঁচতে চাই

‘দাও ফিরিয়ে সে অরণ্য, প্রকৃতির মাঝে বাঁচতে চাই’—এই স্লোগান ধারণ করে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ মেহেরপুরের বন্ধুরা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করলেন বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ঔষধি গাছের চারা। মেহেরপুর জেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার পূর্বে সদর উপজেলার আমঝুপি এলাকার একটি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই গাছের চারা বিতরণ করেন শুভসংঘের বন্ধুরা।

গত ২৭ আগস্ট সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় দুই হাজার গাছের চারা।

স্থানীয় আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহমেদ চুন্নু উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন। শুভসংঘ মেহেরপুরের সভাপতি ও মেহেরপুর পৌর কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল আযীমের সভাপতিত্বে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আমঝুপি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক ফারাহ হোসেন লিটন, আবুল হাসান, রাফিউল হাসান, হাবিবুর রহমান, শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের মেহেরপুর প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন, সহসভাপতি কৃষিবিদ আব্দুর রকিব, আবদুল্লাহ আল মাসুদ, রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা, দপ্তর সম্পাদক এস এম মান্নাফ, ক্রীড়া সম্পাদক আবু আহাম্মেদ শুভ, সদস্য শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

চারা বিতরণের আগে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বোরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। একমাত্র গাছই পারে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে। তোমরা এই গাছগুলো তোমাদের বাড়ির আঙিনায় নিজ হাতে রোপণ করবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করবে। এগুলো একদিন বড় হয়ে আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করবে। ’

শুভসংঘের সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আযীম বলেন, গাছ প্রকৃতির পরম বন্ধু। সেই বন্ধুকে বাঁচাতে হবে। গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি যাতে অকারণে গাছপালা না কাটা হয়, সেদিকেও লক্ষ রেখে গণসচেতনতা গড়ে তুলবে শুভসংঘ।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের আয়তনের ২৫ শতাংশ বনায়ন থাকা প্রয়োজন। আমাদের দেশের বনাঞ্চলের পরিমাণ মাত্র ৯ থেকে ১০ শতাংশ। এমতাবস্থায় গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বনায়ন গড়া এবং তা বাঁচিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই। গাছই একমাত্র জীব, যে নিজে বিষ গ্রহণ করে (কার্বন ডাই-অক্সাইড) আর অন্যকে বাঁচানোর জন্য প্রকৃতিতে অক্সিজেন ফেরত দেয়। যে অক্সিজেন গ্রহণ করে মানুষসহ বিশ্বের প্রাণী আজ শ্বাস নিয়ে বেঁচে আছে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিনিয়ত উজাড় হচ্ছে বন। সেখানে গড়ে উঠছে দালান, শিল্প-কারখানা। জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন আজ সংকটের দ্বারপ্রান্তে। ফলে পৃথিবী হয়ে যাচ্ছে উষ্ণ মরুভূমির মতো। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে তাপমাত্রা। শুভসংঘ সব সময় ভালো কাজ করে যাবে। সামাজিক দায়বদ্ধতার স্থান থেকে শুভসংঘের মাধ্যমে প্রকৃতি রক্ষায় নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য