kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

শরৎ ছবি

এস এম শহীদুল আলম

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পানসি নায়ে শরৎ এলো কাশবনেরই পাশে,

তুলোর মতো মেঘের জাহাজ জলদি ছুটে আসে।

কাশফুলের ওই দোলাদুলি ঋতুর রানি পেয়ে,

বকের সারি ছুটে চলে মধুর সুরে গেয়ে।

 

ভোরবেলাতে হাঁটতে গেলে শিশির বসায় হাট,

আমন ধানে যায় ভরিয়ে সবুজ সোনার মাঠ।

মাঠ পেরিয়ে দিঘির জলে কলমিলতা বেশ,

সুয্যি মামার আলো দিতে একটুও নেই লেশ।

 

কচি ঘাসে শিশিরকণা হিরের মতো জ্বলে,

এসব দেখে জুড়ায় প্রাণ প্রতি পলে পলে।

তালগাছেরই পাকা তালে মাম্মি বানায় পিঠা,

নকশি পিঠা খেয়ে সবার লাগে খুবই মিঠা।

 

হিজল বনে পাখপাখালির হরেক রকম খেলা,

কিচিরমিচির শব্দ শুনে যায় কেটে যায় বেলা।

শিউলি বকুল কোমল হাওয়ায় ছড়ায় আতর ঘ্রাণ,

শরৎ রানির পদ্ম হাতে যায় জুড়িয়ে প্রাণ।

 

বিলে-ঝিলে শাপলা-শালুক খুশির নায়ে ভাসে,

বুড়ো-বুড়ি তাই না দেখে খুকুত খুকুত কাশে।

মৌমাছিরা ছুটে বেড়ায় মিষ্টি মধুর খোঁজে,

নববধূ ব্যস্ত থাকে অলস দুপুর ভোজে।

 

রাতেরবেলা চাঁদ তারকা রুপোর মতো হাসে,

জোনাকিদের হয় যে বিয়ে শরৎ রানির পাশে।

শেয়াল মামা বাঁশবাগানে হুক্কাহুয়া হাঁকে,

চাঁদের আলো খেলা করে গাছের ফাঁকে ফাঁকে।

 

কার ইশারায় এ সব কিছু জগৎ মাঝে পাই,

কার কাছে খুব হাত বাড়িয়ে অনেক কিছু চাই।

তিনি হলেন স্রষ্টা মহান যাঁর তুলনা নাই,

সারাবেলা আমরা যেন তাঁর গুণগান গাই।


মন্তব্য