kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


শেকৃবিতে শুভসংঘের নবীনবরণ

জাকারিয়া জামান   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



শেকৃবিতে শুভসংঘের নবীনবরণ

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুভসংঘ ও নবীন শিক্ষার্থী বন্ধুদের সঙ্গে কালের কণ্ঠ সম্পাদক। ছবি : নাভিদ ইশতিয়াক তরু

চৈত্রের প্রচণ্ড দাবদাহে চারদিকে যখন বইছে আগুন হাওয়া, রাজধানীর বুকে সবুজের সমারোহে ঘেরা শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) তখন হিমেল হাওয়ার পরশ। কার্বন ডাই-অক্সাইড আর যানবাহনের ধোঁয়ায় শহরের এই ক্যাম্পাস যেন ছোট্ট এক টুকরো আধুনিক গ্রাম। এখানে আছে ফসলের মাঠ, তারুণ্যে ভরপুর কিষানের কোলাহল। আছে পাখির কলকাকলি। সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত থাকে ক্যাম্পাসটি। এখানকার শিক্ষার্থীরা একটি ক্ষুধামুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর থাকেন সর্বদা। পড়াশোনার চাপও তাই অনেক বেশি। কিন্তু শুধু পড়াশোনাই নয়, ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চান তাঁরা। তাই তো সবাই এসে মিলিত হয়েছেন শুভসংঘের পতাকাতলে। হাতে হাত মিলিয়ে ভালো কাজে নিজেদের বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত এই তরুণ কৃষিবিদরা।

গত ২৫ মার্চ শুক্রবার কালের কণ্ঠ শুভসংঘ শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বন্ধুরা আয়োজন করেন নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সপ্তাহব্যাপী কঠোর পরিশ্রম আর অনুশীলনের মাধ্যমে শুভসংঘের বন্ধুরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ‘চৈত্র মাসে দুপুর বেলা আগুন হাওয়া বয়, দস্যু ছেলে ঘুরে বেড়ায় সকল পাড়াময়’—কবিতার সেই দস্যু ছেলের মতো শুভসংঘের প্রত্যেক বন্ধু এ কয়েক দিন ঘুরে বেড়িয়েছেন পুরো ক্যাম্পাস। নবীনদের জানিয়েছেন শুভসংঘের নানা শুভ উদ্যোগের কথা। তাঁরা প্রথমবারের মতো এত বড় আয়োজন করে দেখিয়েছেন—ইচ্ছা ও মনোবল থাকলে সবই সম্ভব।

কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন ছিলেন প্রধান আলোচক। অনুষ্ঠানের দিন দুপুরে খাওয়াদাওয়া শেষে হলের বিছানায় গা এলিয়ে আরাম করেননি বন্ধুদের কেউ। তাঁদের ভেতরে তখন উত্তেজনা। কখন আসবেন অতিথি। যথাসময়ে এসে হাজির হলেন সবার প্রিয় ইমদাদুল হক মিলন। আরো উপস্থিত হলেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক। অতিথিদের আসন গ্রহণ শেষে শুরু হলো আলোচনা সভা ও নবীনবরণ। শুভসংঘের বন্ধু তারিক আহমেদ ও ফারিয়া ইসলাম নিলয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুভসংঘের আহ্বায়ক মশিউর রহমানের স্বাগত বক্তব্যের পর উপস্থিত ৭৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ৭৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মো. মহব্বত আলী বলেন, ‘আজকের তরুণরাই আগামী দিনে দেশের হাল ধরবে। তাই এখন থেকেই শুভ কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ’ ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনার পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সেকান্দার আলী বলেন, ‘শুভসংঘের সব শুভ কাজে এ বিশ্ববিদ্যালয় পাশে থাকবে এবং সার্বিক সহযোগিতা করবে। শুভসংঘের সব সদস্য ভালো কাজের মাধ্যমে দেশসেবার মনোভাব গড়ে তুলুক। ’

 

 

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে শুভসংঘের বন্ধুরা

 

ইমদাদুল হক মিলন মঞ্চে এসে রাজধানীর বুকে নয়নাভিরাম ক্যাম্পাসটি দেখে তাঁর মুগ্ধতার কথা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা করেন তিনি। এরপর তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেনেছি, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ মেয়ে। বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, সমাজ একটি সাইকেলের মতো। নারী এবং পুরুষ হচ্ছে সাইকেলের দুটি চাকা। যার ওপর ভর করে আমাদের সমাজ, দেশ এগিয়ে যাবে। কৃষিশিক্ষায় আমাদের মেয়েরা এগিয়েছে অনেক দূর। আদিম কৃষির সূচনা হয়েছিল নারীর হাতেই। সভ্যতার বিবর্তনে সেই অংশগ্রহণ ক্রমেই বেড়েছে, কমেনি এতটুকুও। তরুণ প্রজন্মের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে তরুণরাই। তাদের মেধা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং দেশ নিয়ে তাদের স্বপ্নই গড়বে সোনার বাংলা। এ দেশের সব বড় অর্জনের পেছনে আছে তরুণদের অবদান। কৃষিতে তরুণদের এই আগ্রহ দেশকে খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে। একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক মধুর। তোমরা সবাই শুভ কাজের সঙ্গে থেকে দেশ থেকে সব অকল্যাণ দূর করবে। তোমাদের আলোয় আলোকিত হবে বাংলাদেশ। ’

কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘শুভসংঘ নামটির মধ্যেই একটি শুভ বার্তা আছে। শুভ বার্তা নিয়ে শুভসংঘের বন্ধুরা এগিয়ে যাবে বহুদূর। তরুণদের উদ্দেশে উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা বলেন, ‘জীবনে যেটি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়, সেটি নিয়ে তোমরা এগিয়ে যাবে। শুভসংঘ নিয়ে তোমাদের আগামী দিনের কার্যক্রম আরো গতিময় ও সুন্দর হোক। ’

 

 

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ফানুস ওড়াচ্ছেন শেকৃবির উপাচার্য শাদাত উল্লা

 

আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় শুভসংঘের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর স্মরণে আকাশে সাতটি ফানুস ওড়ান। এ ফানুস ওড়ানোর সময় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা। সন্ধ্যার পর শুরু হয় শুভসংঘ বন্ধুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জমকালো এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় নবীন শিক্ষার্থীদের। মাহফুজুর রহমান ও শিকা মুস্তাকির নান্দনিক উপস্থাপনায় কোরাস গান নিয়ে মঞ্চে আসেন শুভসংঘ শেকৃবি শাখার সদস্যরা। এরপর ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করেন বর্ণালী ও ফাগুন, ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’ গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করেন সুদীপ্ত দে চন্দন। এরপর ‘পাঞ্জাবিওয়ালা দিলে বড় জ্বালা’ ডুয়েট গান নিয়ে আসেন রিয়ান ও উর্নিশি। তারপর আঞ্চলিক ভাষায় শরিফুল ইসলাম প্রিন্স ও মৃণ্ময় কুমার রায় তনুর উপস্থাপনায়, আলী গুঞ্জনের পরিচালনায় ‘কফিনের নাম বাংলাদেশ’ নাটিকা পরিবেশন করা হয়। এরপর গিটার বাজিয়ে ফিউশন গান পরিবেশন করেন শহিদ। ‘তোমার গরুর গাড়িতে আমি যাব না’ গানের সঙ্গে মিঠু ও স্বর্ণা, ‘সহে না যাতনা’ গানের সঙ্গে সুমাইয়া ও সাফি এবং ফিউশন গানের সঙ্গে ওয়াসিফ ও সাইকী দলীয় নাচ পরিবেশন করেন। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন গায়িত্রী। এরপর উপস্থাপনায় আসেন সাফকাত, সাকিব ও আনিকা নাওয়া। সজলের ক্যারাওকে অভিনয়ের পর মাহফুজুরের পরিচালনায় নাটিকা ‘শেকৃবির দিনগুলো’ পরিবেশিত হয়। ‘বাবা আমার কি বিয়ে হবে না’ গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করেন সুজন ও মৃণ্ময় যুগল। মঞ্চে জোকস নিয়ে হাজির হন শিহাব ও রিপন। শুভসংঘের সদস্যদের অংশগ্রহণে ফিউশন গ্রুপ নাচ দিয়ে শেষ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ইগলু আইসক্রিম।


মন্তব্য