kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মেহেরপুর শুভসংঘের দেয়ালিকা ‘ভাষা’

ইয়াদুল মোমিন   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মেহেরপুর শুভসংঘের দেয়ালিকা ‘ভাষা’

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রফিক, শফিক, সালাম, বরকতের তাজা রক্তে আমরা পেয়েছি মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। সেদিন তাঁদের রক্তে লাল হয়েছিল ঢাকার রাজপথ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অমর একুশে বইমেলা। মেহেরপুর শুভসংঘ বন্ধুরা বইমেলায় একুশের নানা লেখনি নিয়ে ‘ভাষা’ নামে একটি দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। কথামতো কাজ শুরু হয়। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংগ্রহ করা হয় একুশের বিভিন্ন কবিতা ও ছোট গল্প। পাশাপাশি চলতে থাকে দেয়ালিকা তৈরির নানা পরিকল্পনা। কাঠের ফ্রেমে সাদা রঙের প্যানাসাইন লাগিয়ে তৈরি করা হয় শোভনীয় দেয়ালিকা। বইমেলা উদ্বোধন হবে বিকালে। সেই লক্ষ্যে সকালেই দেয়ালিকা প্রস্তুতির কাজ শুরু করেন শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা, দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নাফ। দেয়ালিকায় স্থান পায় প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাবিব আনিছুর রহমানসহ মেহেরপুর শুভসংঘের সদস্যদের লেখা নানা কবিতা ও ছোট প্রবন্ধ। সাদা-কালোর অবয়বে দেয়ালিকাটি ফুটিয়ে তোলা হয় একুশের পটভূমিকে ঘিরে।

১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ঘড়ির কাঁটা যখন সাড়ে ৪টা তখন সেখানে হাজির হন মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের এনডিসি মোহাম্মদ নুর এ আলম। দেয়ালিকা দেখে মুগ্ধ হন তিনি এবং ভাষার মাসে একুশের চেতনাকে লালন করায় ধন্যবাদ জানান শুভসংঘ বন্ধুদের। এরপর প্রবীণ সংগঠক ও শুভসংঘের উপদেষ্টা নাসির উদ্দিন মিরু ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন পটভূমি তুলে ধরেন তরুণদের মাঝে। নাসির উদ্দিন বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। সেই লড়াইয়ে ভাষার জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে বাঙালিরা প্রমাণ করেছে মায়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা। এর পরও এ দেশে অনেক আন্দোলন হয়েছে। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। তখনকার দিনে আন্দোলনের অনেক বড় ভাষা ছিল দেয়াল লিখন। কিন্তু এখন সেভাবে দেয়াল লিখন বা দেয়ালিকা পত্রিকা দেখা যায় না। শুভসংঘের এ উদ্যোগ স্বাগত জানিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে সবাইকে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ মুন্না বলেন, আমরা যারা তরুণ, তাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ দেখার বা অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। আমরা দেয়ালিকার মাধ্যমে সব ভাষা শহীদকে স্মরণ করার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

শুভসংঘের সভাপতি একরামুল আযীম বলেন, ‘সমাজের সব ভালো কাজের সঙ্গে শুভসংঘের পদচারণা থাকবে। ভালো কাজের মধ্য দিয়ে শুভসংঘ মেহেরপুরের মানুষের মনে স্থান করে  নেবে। ’

এ ছাড়া একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে একরামুল আযীমের নেতৃত্বে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন নাসির উদ্দিন মিরু, মুজাহিদ মুন্না, আবদুর রকিব, মিনারুল ইসলাম, সোহেল রানা, আবদুল মান্নাফ, সুখী ইসলাম, ইলিয়াস খান, আবু আহমেদ শুভ, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়াঙ্কা, নুসরাত জাহান তিথি, ফাতেমা সুলতানা জুলি, রফিকুল ইসলাম, আফসানা বিশ্বাস তিথি, ওয়াহিদা রহমান পিংকি, শহিদুল ইসলাম, ওয়ালিউর রহমান রাজা, মিজানুর রহমান, শেখ মোমিনসহ খুদে বন্ধুরা। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদ মিনার চত্বরে গোল হয়ে বসে চলে ভাষার আড্ডা।


মন্তব্য