kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


তরুণরাই গড়বে সোনার বাংলা

সাদেকুল ইসলাম   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তরুণরাই গড়বে সোনার বাংলা

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি) বন্ধুদের সঙ্গে কালের কণ্ঠ সম্পাদক। ছবি : লুত্ফর রহমান

চৈত্রের শুরুর সকালটা একটু গোমড়ামুখো হয়েছিল। কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেও দেখা গেছে।

আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার মাঝেও রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি) ছিল উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থীদের প্রিয় লেখক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন আজ আসবেন তাঁদের ক্যাম্পাসে। সবার তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা।

১৬ মার্চ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ক্যাম্পাসে এসে হাজির হন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। শুরুতেই ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন তিনি। মনোরম পরিবেশ, সবুজের সমারোহ আর উন্নত পাঠদানের সব সরঞ্জাম দেখে মুগ্ধ হন তিনি। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা ও শুভসংঘের কমিটি ঘোষণা পর্ব। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির ভাষা শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মো. সাদেকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুভসংঘের নির্বাচিত সদস্যরা শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ সমাজের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। শুভসংঘ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আরো বেশি বেশি ভালো কাজে উৎসাহ ও প্রেরণা জোগাবে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে আইইউবিএটির প্রশাসনিক পরিচালক মিসেস সেলিনা নার্গিস বলেন, ‘দেশ সেরা সাহিত্যিকের আগমন আমাদের পথচলাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। শিক্ষার্থীদের দলীয় অংশগ্রহণ; শিল্প, সাংস্কৃতিক দক্ষতা উন্নয়ন, তাদের লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও ঐক্য বন্ধনে সাহায্য করে। শুভসংঘের সব সদস্য ভালো কাজের মাধ্যমে দেশসেবার মনোভাব গড়ে তুলুক। তাদের শুভকাজ যেন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। ’ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম রাতুল প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত জীবনী সবার সামনে তুলে ধরেন। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মাইক হাতে মঞ্চে আসেন ইমদাদুল হক মিলন। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে তিনি তাঁর মুগ্ধতার কথা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণদের সামনে পেলে আমার মনে হয় সেই তরুণদের কথা, যারা হাসতে হাসতে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল দেশকে ভালোবেসে। আমাদের মায়ের ভাষাকে রক্ষা করতে আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামল। বুকের রক্ত দিয়ে আদায় করে নিল মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। এরপর আবার এলো স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেখানেও আমাদের তরুণরা দেশ রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। ৩০ লাখ তাজা প্রাণের বিনিময়ে আমরা পেলাম আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। সেই একাত্তরের কিশোর তরুণরা যেভাবে দেশকে ভালোবেসে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল, আমি চাই আমাদের এখনকার তরুণদের মধ্যেও এমন ভালোবাসা তৈরি হোক। যেভাবে আমাদের মানুষেরা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ভালোবেসে নানাভাবে সাহায্য করেছে; তাদের সবার কথা হয়তো কোথাও লেখা নেই। আমি মনে করি একাত্তরের কিছু রাজাকার আলবদর ছাড়া সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমার সামনের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী একেকটি আলোকের স্তম্ভ। যে সোনার বাংলার স্বপ্ন নিয়ে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছেন, তোমরা সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবে। এত বড় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমরা যারা পড়ছ তারা বাংলাদেশকে আলোকিত করবে এই পৃথিবীকে আলোকিত করবে। আমি একদিন স্বপ্ন দেখেছিলাম একজন বড় লেখক হব। অনেক বাধা এসেছে আমার লেখালেখির পথে, তার পরও আমি আমার স্বপ্নের পথ থেকে দূরে সরে যাইনি। সবাইকে এমন স্বপ্ন দেখতে হবে। আমাদের সামনে সুন্দর একটি আলোকিত দেশ অপেক্ষা করছে। তোমাদের আলোয় এই দেশ আলোকিত হবে। শুভসংঘ নামটির মধ্যেই একটি শুভ বার্তা আছে। আমরা তোমাদের শুভসংঘের সঙ্গে যুক্ত করে দেশ সেবায় অংশ নিতে চাই। আমরা যখন কোনো মুরব্বির পায়ে হাত দিয়ে সালাম করি, তখন মুরব্বিজনরা মাথায় হাত দিয়ে বলেন—মানুষ হও। ভালো মানুষ কিন্তু হতে হয়। পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে সবাই মানুষ হয় না। একজন মানুষ প্রকৃত মানুষ হয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে, দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। ভালোবাসার চেয়ে বড় শব্দ এই পৃথিবীতে আর নেই। ভালোবেসেই আমাদের সোনার ছেলেরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘রং যেনো মোর মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে। ’ এই রং লাগা মানে ভালোবাসা। আমরা যেন আমাদের অন্তরে ভালোবাসা ধারণ করে আমাদের সব কর্মে এগিয়ে যাই। তাহলেই আমরা সুন্দর প্রকৃত মানুষ হব। আমাদের অনেকের ধারণা, আমাদের দেশপ্রেম কমে গেছে। কিন্তু আমি মনে করি, একাত্তরে আমাদের যেমন দেশপ্রেম ছিল, এখন আরো বেড়েছে। সেই দেশপ্রেম অন্তরে ধারণ করে আমরা যেন প্রতিদিন একবার করে হলেও বলি ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। ’ সভাপতির বক্তব্যে আইইউবিএটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আলিমুল্লাহ মিয়ান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা দেশের প্রতিটি থানার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আমরা ভবিষ্যতে প্রতিটি গ্রাম থেকে একজন করে শিক্ষার্থীকে আমাদের এখানে পড়াশোনা করিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করাতে চাই। আমাদের ক্যাম্পাসে যেমন কৃষ্ণচূড়ার সমারোহ, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম যেন এমনই কৃষ্ণচূড়ার লাল শোভায় শোভিত হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচ্চশিক্ষা, প্রয়োজনে মেধাবী অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের জন্য অর্থায়নের নিশ্চয়তা প্রদান। আমরা শুভসংঘের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী শুভকাজের বিস্তৃতি ঘটাব। ’

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, বৈষয়িক কাজের পাশাপাশি সমাজের কাছে আমাদের কিছু দায়বদ্ধতা আছে। এই দায়বদ্ধতাগুলো পূরণ করা প্রত্যেক মানুষের একটি নৈতিক দায়িত্ব। এই কর্তব্য পালনে পৃষ্ঠপোষকতা, সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদানে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এরপর শুভসংঘের নতুন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন তিনি।

সেলিনা নার্গিসকে প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ড. মনিরুল ইসলাম, ড. উত্পল কান্তি দাস, খন্দকার ইফতেখারুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস ও মো. সাইদুজ্জামানকে উপদেষ্টা করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যরা হলেন সভাপতি রাইসুল ইসলাম রাতুল, সহসভাপতি জোবায়ের জিসান, আমানা সোনিয়া, জহিরুল ইসলাম রাহাত ও সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জামিল সাফায়েত, যুগ্ম সম্পাদক মানা রহমান, নাসরিন সুলতানা, মুজাহিদুল ইসলাম ও মুসতাহিদ রহমান হূদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী হিসাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাশিফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আরাফাত আহমেদ রনি, সংস্কৃতি সম্পাদক আয়শা সিদ্দিকা এপা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রুবায়েত আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক মুসফিক রহমান চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক জয়নব সুলতানা, সাহিত্য সম্পাদক তাজমিন এবং নারীবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা প্রিয়া। এ ছাড়া কার্যকরী সদস্যরা হলেন মুজাহিদ সিদ্দিকী, অন্তর আহমেদ, আহসান হাবিব, হাকিমুর রহমান, তারেক মাসুদ, মৌসুমি আক্তার মিষ্টি, সাজেদা মিরা, মোস্তাফিজুর রহমান খান, আতিকুল ইসলাম, মো. শাহজাহান, ফারজানা সিদ্দিকা, আবদে মুন্নাফ ও সাজ্জাদ হোসেন। কমিটি ঘোষণা শেষে শিক্ষার্থী বন্ধুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ইমদাদুল হক মিলন। সবশেষে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন তিনি।


মন্তব্য