kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আধুনিক কৃষিশিক্ষার মডেল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা,উপাচার্য,শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আধুনিক কৃষিশিক্ষার মডেল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউটের রূপান্তর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক কৃষিশিক্ষার মাধ্যমে এ দেশের কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর তত্কালীন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক পূর্ব বাংলার প্রথম কৃষিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপন করেন।

যার নাম দেওয়া হয় দ্য বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট। পরবর্তী সময়ে এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর নাম রাখা হয় বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তখন এ ইনস্টিটিউটে কৃষি অনুষদে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ ছিল। এ দেশের দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের অন্নদান, কৃষি শিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণে এ ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েটরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। অথচ এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত না করে ১৯৬১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় ময়মনসিংহে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ জানুয়ারি ২০০১ সালে এ প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দেন এবং ১৫ জুলাই তিনি নিজ হাতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শেকৃবির ইতিহাস মাত্র ১৫ বছরের হলেও উপমহাদেশের প্রচীনতম উচ্চতর কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এর ইতিহাস দীর্ঘ ৭৬ বছরের। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মূলত উপমহাদেশের কৃষিব্যবস্থার ভিত্তি রচিত হয়েছিল।

দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তন করা। আমি আজ সত্যিই খুব আনন্দিত যে আমার স্বপ্ন সফল হয়েছে। সবার সহযোগিতায় প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এখন থেকে নিয়মিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

কালের পরিক্রমায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপ্তি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এ দেশের কৃষি, কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি গবেষণা বর্তমানে যে অবকাঠামোগত অবস্থা ধারণ করেছে এবং এসব কর্মকাণ্ডে যে বহুমাত্রিকতা ও নতুন নতুন ধ্যানধারণা যুক্ত হয়েছে, এর নেতৃত্বে এ প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক গ্র্যাজুয়েটদের হাত ধরেই এ দেশে আধুনিক কৃষিশিক্ষার যাত্রা এবং কালের পরিক্রমায় তা আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করছে। ইতিমধ্যে অনেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পুরস্কার পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। আগামী দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সাফল্যের যাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ, অ্যাগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ, এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ নামে তিনটি অনুষদ চালু আছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও বর্তমান যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে অ্যাগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের এই ডিগ্রি নাম পরিবর্তন করে বিবিএ (অ্যাগ্রিবিজনেস) করা হয়েছে। ফিশারিজ অনুষদ এবং সিড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট আগামী শিক্ষা বর্ষ থেকে শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এখানে ৩২০০ জন এবং পিএইচডি-তে ৬৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমোট শিক্ষকসংখ্যা ২৩০, কর্মকর্তা ২১১। শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার জন্য রয়েছে কৃষিতত্ত্ব খামার, উদ্যানতত্ত্ব খামার, গবাদি, পোলট্রি ও মত্স্য খামার। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচটি হল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ছাত্রদের এবং দুটি ছাত্রীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য গঠন করা হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম—‘সাউরেস’। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি নব গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়। এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করতে হলে বিভিন্ন আঙ্গিকে এর উন্নয়ন করা প্রয়োজন। সে জন্য সরকারের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ থাকবে এটির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেওয়ার জন্য। দেশের নাগরিক ও শেকৃবি এলামনাইদের প্রতি আহ্বান থাকবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁরা যেন তাঁদের মাতৃপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।


মন্তব্য