kalerkantho


মাধবপুর হাসপাতাল

২১ চিকিৎসক থাকার কথা, আছেন ৫

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। অথচ কাগজপত্রে সেখানে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা। চিকিৎসক সংকটের কারণে মাধবপুরসহ পার্শ্ববর্তী দুই উপজেলার অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাধবপুরে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এমবিবিএস ডাক্তার আছে মাত্র দুটিতে। এর মধ্যে মাধবপুর থেকে মনতলা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ডা. মাইমুনা মাঝেমধ্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। হাসপাতালের তালিকাভুক্ত ছয় চিকিৎসকের মধ্যে তাকে বাদ দিয়ে বাকি পাঁচজনের পক্ষে উপজেলার সব রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন কিশলয় সাহা। তিনি এখন ছুটিতে আছেন। জুনিয়র কার্ডিওলজি ডা. মাহবুব আলম সম্প্রতি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট কাগজপত্রে মাধবপুর হাসপাতাল থেকে বেতন-ভাতা তুললেও তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, দন্ত বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শল্য চিকিৎসক বিভাগে কোনো ডাক্তার নেই। অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ফয়সল আহমেদ প্রশিক্ষণে নিতে বাইরে গেছেন। প্যাথলজিস্ট ডা. নুসরাত জাহান ও ডা. অদিতি রায় মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিক ভবনে অ্যানেসথেসিয়া, শল্য চিকিৎসক, ব্লাড ব্যাংক টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতির অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। পুরনো এক্স-রে মেশিন কক্ষ তালাবদ্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। একটি অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও চালককে সময়মতো পাওয়া যায় না।

হাসপাতালের দুটি ভবনের মধ্যে ২০০৪ সালে ১৯ শয্যার একটি নতুন ভবন করা হলেও আজ পর্যন্ত জনবল সংকটের অজুহাতে চালু হয়নি। পুরাতন ৩১ শয্যার হাসপাতালেই চিকিৎসাসেবা চলছে। নতুন হাসপাতাল ভবনের কক্ষগুলো অনেকটাই পরিত্যক্ত। এখানকার চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীদাম দাশগুপ্ত বলেন, ‘উপজেলা সরকারি হাসপাতালে মাধবপুরের রোগীসহ পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর, নাসিরনগরের অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইশতিয়াক আল মামুন চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘জনবল ও চিকিৎসকের কারণে ১৯ শয্যার নতুন ভবনসহ ৫০ শয্যার হাসপাতালে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জনবল ও চিকিৎসক চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।’



মন্তব্য