kalerkantho


ধলাই নদের মাটি ইটভাটায়

হুমকিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কমলগঞ্জে অবাধে ধলাই নদের পার কাটা হচ্ছে। পরে ওই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ধলাই নদের বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ। আগামী বর্ষায় বাঁধটি ভেঙে বন্যার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনানন্দপুর ও কুমারটিকি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ধলাই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের ভেতরে বিস্তৃত এলাকার মাটি শ্রমিক দিয়ে কেটে এরই মধ্যে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার আধুনিক যন্ত্র দিয়ে দ্রুত মাটি কাটা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, গফুর মিয়া, মনোরঞ্জন মালাকার, মখাই মিয়া, মনাফ মিয়া মাটি কেটে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০ গাড়ি মাটি নদীর পার থেকে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। মাটিবোঝাই গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলার কারণে স্থানীয় রাস্তাগুলোর বেহাল হয়েছে। ধুলাবালির জন্য চলাচলে সমস্যা হলেও প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বড় বড় নেতার নাম ভাঙিয়ে কয়েক বছর ধরেই নদীপারের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি ভেঙে দফায় দফায় বন্যার কবলে পড়ে আশপাশের গ্রামগুলো।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল ধর বলেন, ‘সংখ্যালঘু ও নিরীহ মানুষের বসবাস এ এলাকায়। নদীপারের মাটি কাটায় নিজেদের ক্ষতি হচ্ছে বুঝতে পেরেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করছে না।’

মাটি বিক্রেতা গফুর বলেন, ‘আমি প্রতিবছর মাটি বিক্রি করছি। এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

স্থানীয় জালালাবাদ ইটভাটার পরিচালক রাজু আহমেদ বলেন, ‘এ মাটি অন্য ইটভাটায় যাচ্ছে। অথচ সবাই আমাদের কথা বলছে। আমি আর এখান থেকে মাটি আনি না।’

মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুমন মজুমদার বলেন, ‘এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর হয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘নদের পার খাস খতিয়ানভুক্ত। জেলা প্রশাসন এ জমির মালিক। তবে নদের পার ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতিরক্ষা বাঁধে তার প্রভাব পড়ে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অচিরেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’


মন্তব্য