kalerkantho


সুনামগঞ্জ পৌর উপনির্বাচন

প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বখত ও হাসন পরিবার

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বখত ও হাসন পরিবার

আগামী ২৯ মার্চ সুনামগঞ্জ পৌরসভা উপনির্বাচন। বরাবরের মতো এবারও সুনামগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘বখত’ ও ‘হাসন’ পরিবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নাদের বখত। অন্যদিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হাসন পরিবার থেকে দুজন প্রার্থী হয়েছেন। হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন স্বতন্ত্র এবং একই পরিবারের দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলেছেন, হাসন পরিবার থেকে দুই প্রার্থী থাকায় সুবিধায় আছেন বখত পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বখত পরিবারের শিক্ষানুরাগী কাদির বখত ছিলেন লোকাল বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য। তাঁর ছেলে হোসেন বখত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। মুুক্তযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনে সুনামগঞ্জের অগ্রগণ্য সাহসী নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে মনোয়ার বখত নেক পৌর নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন। নেকের পর তাঁর ছোট ভাই আয়ূব বখত জগলুল টানা দুইবার পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। নাগরিকরা জানায়, পৌরসভার জায়গা উদ্ধার, দখলবাজদের কাছ থেকে অসহায় মানুষের ভূমি উদ্ধার করে তিনি ছিলেন আলোচনায়। প্রভাবশালী কর্তৃক দখল করে রাখা পৌরসভার মালিকানাধীন কোটি টাকার জায়গা উদ্ধার করতে তিনি ব্যাপক ভাঙচুর করেন। শহরের রাস্তাঘাট প্রশস্ত করে প্রশংসিত হন। তা ছাড়া রিভারভিউ, হোসেন বখত চত্বর, দৃষ্টিনন্দন ঈদগাহ, শ্মশানঘাট, বিরাট আকারের ফুটপাত নির্মাণ, বহুতল আধুনিক কিচেন মার্কেটসহ নানা স্থাপনা করে তিনি নাগরিকের মন জয় করেছিলেন। শহরের কাজীর পয়েন্ট, ময়নার পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌরসভার জায়গা উদ্ধার করে রাস্তা দ্বিগুণ করার কাজ শুরুর পরপরই তিনি মারা যান। এরপর উপনির্বাচনে তাঁর ছোট ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাদের বখতকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন চূড়ান্তের দিন মারা যান নাদেরের মা নূরজাহান বখত। দুটি মৃত্যুতে থমকে যায় বখত পরিবার। এই শোক নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নাদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। প্রয়াত ভাইয়ের দৃষ্টিনন্দন উন্নয়ন ধরে রাখতে তাঁকে ভোট দেওয়ার প্রার্থনা জানাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগে কোন্দল থাকলেও তাঁর সঙ্গে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতারা ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাধারণ অনেক ভোটারকেও প্রচারণায় যুক্ত হতে দেখা গেছে।

এদিকে বখত পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মরমি কবি হাসন রাজার পরিবার। এই পরিবারের দেওয়ান ওবায়দুর রেজা চৌধুরী, দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন ও প্রয়াত কবি মমিনুল মউজদীন দীর্ঘদিন পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে মউজদীন বিনয় ও সততায় দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছিলেন। এখনো তাঁর অনেক ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন উন্নয়ন ও একের পর এক কঠিন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে আলোচনায় ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত আয়ূব বখত জগলুল। গত ১ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এবার পৌর নির্বাচনে মউজদীনের ছোট ভাই দেওয়ান গণিউল সালাদীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মেয়র পদে। তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে প্রয়াত বড় ভাই মউজদীনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলে তাঁকে ভোটদানের আহ্বান জানাচ্ছেন। একই পরিবারের বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন গণিউলের চাচাতো ভাই দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন। তাঁর সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে। গত সোমবারও জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন বিভিন্ন স্থানে সুমনকে নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে। দেখা গেছে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী হাসন ও বখত পরিবারের তিন প্রার্থীই এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীনের মোবাইল ফোনে কল করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এই পরিবারের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন বলেন, ‘আমি প্রার্থী হয়ে আসার পর এলাকার মানুষ ও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তাতে আমি অভিভূত। আমাদের প্রয়াত ভাই মমিনুল মউজদীনের সঙ্গে প্রতিটি নির্বাচনে আমি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ছিলাম। তাঁর সব কর্মী আমাকে চেনেন-জানেন। এবার প্রার্থী হওয়ার পর তাঁরাও আমাকে সাহস জোগাচ্ছেন। আমি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’

বখত পরিবারের মেয়র পদপ্রার্থী নাদের বখত বলেন, ‘আমাদের পরিবার কখনো গোষ্ঠীচর্চা করে না। শত বছর ধরে এই শহরের সব মানুষের সঙ্গে আমরা মিলেমিশে কাজ করছি। তাদের বিপদে ছুটে যাচ্ছি। এ কারণে এই সাধারণ মানুষ বারবার আমাদের সম্মানিত করছেন। আমার সদ্যঃপ্রয়াত বড় ভাই আয়ূব বখত জগলুল উন্নয়নের যে ধারা শুরু করেছিলেন, ভোটারদের সমর্থনে আমি তাঁর অসমাপ্ত কাজ করে তাঁর ও নাগরিকদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।’



মন্তব্য