kalerkantho


সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ

দুই নেতায় দুই বছর!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



১৯৯৭ থেকে ২০১৬। মাঝখানে দেড় যুগেরও বেশি সময়। লম্বা বিরতি দিয়ে নতুন নেতা বাছাইয়ের জন্য ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর সম্মেলন হয়েছিল সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের। হাজার হাজার নেতাকর্মী এসেছিল সম্মেলনে। কিন্তু নেতা বাছাইয়ের সুযোগ পায়নি তারা। ওই দিন কেন্দ্রীয় নেতারা সভাপতি পদে মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের নাম ঘোষণা করে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এরপর এই দুই নেতায় দুই বছর হতে চলল। এখনো আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে যাওয়ার পর থেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদাভাবে নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাঁরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও দেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন নিয়ে মুখোমুখি বিরোধে জড়ান সভাপতি ও সম্পাদক। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড চেয়ারম্যান পদে সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনকে দলীয় সমর্থন দিলে এর বিরোধিতা করে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুটের পক্ষে কাজ করেন মতিউর রহমান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যসহ পাঁচ সংসদ সদস্য দলীয় মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের পক্ষে আড়ালে কাজ করতে থাকেন। নির্বাচনে নূরুল হুদা মুকুট জয়লাভ করেন। এরপর বিরোধ আরো তুঙ্গে। তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে হঠাৎ ঐক্য গড়ে ওঠে। এরপর থেকেই দুই নেতা একত্রে কর্মসূচি পালন করছেন। এখন নতুন করে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দূরত্ব বেড়েছে।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা কৌশলে একে-অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে এই আসনে নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে আপাতত বিরোধের বদলে মিলনের এই উদ্যোগ নিয়েছেন। দুই নেতার মধ্যে হঠাৎ ঐক্যের পর তাঁরা যৌথ স্বাক্ষরে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেনের কাছে পাঠিয়েছেন। এর আগে তাঁরা আলাদাভাবে একাধিকবার কমিটির তালিকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধ ও পৃথক তালিকার কারণে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কমিটি আটকে রাখেন।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক বলয়ের নেতাকর্মীরা জানায়, নতুন যে কমিটির তালিকা যৌথ স্বাক্ষরে জমা দেওয়া হয়েছে তাতে সভাপতির লোকজনকেই গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। রাজপথের পোড় খাওয়া ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের সেখানে মূল্যায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন চলছে। তাই শেষ পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে জমাকৃত কমিটি আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান আহমাদ সেলিম বলেন, ‘৩০ বছর আগে আমাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দলটির সদস্যই হতে পারিনি। আমার মতো আরো শত শত সক্রিয় কর্মী এভাবেই অপেক্ষায় আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল্যায়ন না হোক, আমরা চাই ত্যাগী ও নিবেদিতদের মূল্যায়ন। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অতীতে দুঃসময়ে আমরা ছাড়িনি, এবারও ছাড়ব না।’ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খায়রুল কবীর রোমেন বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জরুরি। কমিটিতে দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন হলে উজ্জীবিত হবে তৃণমূল।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘আমরা গত মাসে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম আমাদের বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে দিয়েছি। এতে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।’


মন্তব্য