kalerkantho


মৌলভীবাজার

টিবি হাসপাতাল রোড বেহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মৌলভীবাজার শহরতলির যক্ষ্মা হাসপাতাল (টিবি হাসপাতাল) রোড বেহালের কারণে পৌরসভা ও চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ঠিক বিপরীতে সার্কিট হাউসের পাশ দিয়ে এই রাস্তাটি পাহাড় বর্ষিজোড়ার নয়াবাজার হয়ে ছড়ারপাড়ের কাছে মৌলভীবাজার-শমশেরনগর সড়কে মিলিত হয়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তার ১২ বছরেও কোনো মেরামত কাজ হয়নি। ফলে পুরো রাস্তার স্থানে স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং তা যানবাহন চলাচলের পুরোপুরি অনুপযুক্ত হয়ে গেছে। হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য। অথচ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন পৌরসভার একটি অংশের ও চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চলাচল করতে হয়। কয়েক হাজার ছেলে-মেয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজে আসা যাওয়া করে।

নয়াবাজার এলাকার রিকশাচালক মাহমুদ মিয়া জানান, তিনি প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে রিকশা চালান। রাস্তা যে বেহাল তাতে অনেক সময় বিরক্ত হয়ে তিনি রিকশা হেঁটে হেঁটেই চালান। টিবি হাসপাতালের কাছের বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে টিলাগাঁও, টিবি হাসপাতাল, বর্ষিজোড়া, নয়াবাজার, বড়টিলা, সালামীটিলা, হরইবাড়ী, বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াত করে। রাস্তাটি ভাঙা থাকার কারণে তাদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়।’ সালামীটিলার নানু মিয়া বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন হাট-বাজারের কাজে শহরে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তা ভালো না থাকায় রিকশা বা টমটম (ইজিবাইক) এদিকে আসতে চায় না। এলেও টাকা বেশি চায়।’ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুলের ছাত্র কামরুল আহমদের ভাষ্য, ‘রাস্তার অবস্থা একেবারে খারাপ। রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে রিকশাও আসতে চায় না। অনেক সময় রিকশা উল্টে যায়। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যাই।’ টিবি হাসপাতাল রোডের ভাড়াটিয়া প্রদীপ বলেন, ‘রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে হেঁটেই চলাচল করি। কারণ আমার চোখের সামনেই কত রিকশা উল্টে যেতে দেখেছি’। টিলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা সরকারি কলেজের ছাত্র ফজলে কবির মুরাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ রাস্তাটি এত দিন ধরে কেন সংস্কার হচ্ছে না বুঝতে পারি না?’

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শহরের কাছের এই রাস্তাটির কিছু অংশ পড়েছে মৌলভীবাজার পৌরসভার মধ্যে, বাকিটা চাঁদনীঘাট ইউনিয়নে। রাস্তাটি বেহাল আমাদেরও নজরে এসেছে। কিন্তু পৌরসভা ও এলজিইডির টানাপড়েনের কারণে গত কয়েক বছর রাস্তায় সংস্কার কাজ হয়নি। তবে আগামী জুনের মধ্যে এই রাস্তার পুরোটা না হলেও কিছু অংশের কাজ করে দেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’

মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান জানান, পৌরসভা এলাকার রাস্তার দুই পাশে এরই মধ্যে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ড্রেনের কাজ শেষ হলে পৌরসভার যতটুকু সীমানা আছে সে পর্যন্ত রাস্তার কাজও ধরা হবে।



মন্তব্য