kalerkantho


গ্রাহকরা চোরদের কাছে ‘জিম্মি’

রাজনগরে ৯ মাসে ২৮ ট্রান্সফরমার চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজনগরে ৯ মাসে ২৮ ট্রান্সফরমার চুরি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) পল্লী বিদ্যুতের ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কারণ নতুন ট্রান্সফরমার কেনার টাকা দিতে হয় গ্রাহকদেরই। এদিকে প্রতিটি ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ থানায় মামলা করলেও একটি ট্রান্সফরমারও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তও আলোর মুখ দেখে না। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তকাজে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন তেমন সহযোগিতা করেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি কামারচাক ইউনিয়নের আবদা গ্রাম থেকে ১০ কেভি, তারাপাশা গ্রাম থেকে ১৫ কেভি ও লামাকান্দি গ্রাম থেকে ৫ কেভির ট্রান্সফরমার চুরি হয়। ১১ জানুয়ারি টেংরা ইউনিয়নের সৈয়দনগর থেকে ১০ কেভি ও ২৬ জানুয়ারি সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম থেকে ১০ কেভির দুটি এবং টেংরা থেকে ১৫ কেভি, ৩০ জানুয়ারি দক্ষিণ মহলাল থেকে ৫ কেভি, ৫ ফেব্রুয়ারি টেংরার পাইকপাড়া গ্রাম থেকে ১০ কেভি ও ২১ মার্চ ঘরগাঁও থেকে ৫ কেভির দুটি, ২১ এপ্রিল দক্ষিণ খারপাড়া থেকে ১৫ কেভি, ১৮ মে কামারচাকের টুপিরমহল থেকে ২৫ কেভি, ২৭ মে হাটিকরাইয়া থেকে ৫ কেভি, ৩ জুন মনসুরনগর ইউনিয়নের শ্বাসমহল থেকে ২৫, ১৫ ও ১০ কেভির তিনটি, ১২ জুন মহলাল থেকে ২৫ ও ১০ কেভির দুটি, ৪ জুলাই ছিক্কা গ্রাম থেকে ১০ কেভির একটি ও ১৭ জুলাই সদর ইউনিয়নের মানিরপাড়া থেকে ১০ কেভির দুটি, ২২ সেপ্টেম্বর কামারচাকের জাঙ্গালিয়া ও গোবিন্দপুর থেকে ১০ কেভির দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এই সময়ে রাজনগর পল্লী বিদ্যুৎ সাবজোনাল অফিসের কুলাউড়া এলাকা থেকে চুরি হয় আরো তিনটি ট্রান্সফরমার।

বিষয়টি রাজনগর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির কয়েকটি সভায় আলোচনা করা হয়। সম্প্রতি রাজনগর থানা পুলিশ ও মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, পল্লী বিদ্যুতের রাজনগর সাবজোনাল অফিসের সমন্বয়ে ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধবিষয়ক এক মতবিনিময়সভা রাজনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুতের রাজনগর সাবজোনাল অফিসের এজিএম ওবায়দুল হক, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ারুল হক, রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুজ্জামান পাবেল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আছকির খান, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ওসি শ্যামল বণিক, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. জাকির হোসেন, রাজনগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জিলাল উদ্দিন, মৌলানা মোফাজ্জল হোসেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইকবাল, মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিলন বখত, টেংরা ইউপি চেয়ারম্যান টিপু খান, পাঁচগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শামছুন্নুর আহমদ আজাদ, ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ, উত্তরভাগ ইউপি চেয়ারম্যান শাহ শাহিদুজ্জামান ছালিক প্রমুখ।

সভায় বক্তব্যে চেয়ারম্যান মিলন বখত বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ যে হারে আমাদের কাছ থেকে অর্থ নেয়, সে অনুপাতে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না।’ ওসি শ্যামল বণিক বলেন, ট্রান্সফরমারগুলো হাওর এলাকা থেকে সরিয়ে গ্রাহকদের বাড়িতে প্রতিস্থাপন করতে পারলে চুরি রোধ হতে পারে। এ ছাড়া লাইনম্যানরা চুরিতে জড়িত কি না সেটা যাচাই-বাছাই করতে তাদের তালিকা পুলিশকে দিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। ইউএনও তৌহিদুজ্জামান বলেন, শীতকাল এলে ট্রান্সফরমার চুরি বেড়ে যায়। প্রতিটি ইউনিয়নে চুরি রোধে একটি টিম তৈরি করতে চেয়ারম্যানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পল্লী বিদ্যুতের এজিএম ওবায়দুল হক বলেন, রাজনগর উপজেলায় দুই হাজার ট্রান্সফরমার স্থাপন করা আছে। চুরি রোধে গ্রাহকদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রথমবার চুরি হলে গ্রাহকদের ৫০ শতাংশ ফি দিতে হয়। দ্বিতীয়বার চুরি হলে ১০০ ভাগ ট্রান্সফর্মার খরচ দিতে হয় গ্রাহকদের। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা ট্রান্সফরমার আগে বাইরে বসিয়েছি। চুরি শুরু হওয়ায় এখন আমরা গ্রাহকদের উঠানে বসাচ্ছি।’

রাজনগর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম ওবায়দুল হক বলেন, ‘চোর ধরা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে বলেছি। পল্লী বিদ্যুতের নিয়মই হচ্ছে, যে অঞ্চলের ট্রান্সফরমার চুরি হবে সেই এলাকার গ্রাহকদের সেই ট্রান্সফরমার কিনে দিতে হবে। এতে গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।’

ওসি শ্যামল বণিক বলেন, ‘আমরা বিগত কয়েক মাসে কিছু চোর ধরেছি। আমরা তৎপর হওয়ায় চুরি অনেকটা কমেছে। সেপ্টেম্বর মাসের পর আর চুরি হয়নি।’



মন্তব্য