kalerkantho


শহীদ সালাম গ্রন্থাগার স্মৃতি জাদুঘর ও সড়ক নদীভাঙনের মুখে

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



দাগনভূঞা উপজেলায় ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানী শহীদ সালামের বাড়ির একমাত্র সড়কটি বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত নদী ভাঙনে জীর্ণদশায় পতিত হয়েছে। পাশাপাশি নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে ওই সড়ক লাগোয়া ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর এবং তাঁর বাড়ি। ফলে একদিকে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগের সঙ্গে বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা পড়ছেন বিপাকে।

অন্যদিকে শহীদ সালামের বাড়িসহ তাঁর নামে কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা লাইব্রেরি ও স্মৃতি জাদুঘর হয়ে পড়েছে কার্যত অচল। এ ছাড়া ভাষাশহীদ আবদুস সালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে ওই পথে যাতায়াত করছে।

এলাকাবাসী জানান, সালামনগরের (সাবেক লক্ষ্মণপুর) প্রায় সাত হাজার মানুষসহ আশপাশের ১০ গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ এ ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই নিত্য যাতায়াত করে। দীর্ঘদিনেও সড়কটি মেরামত না হওয়ায় চলাচল অনুপযোগী এই এলাকার প্রবেশ করতে পারছে না তিন-চার চাকাচালিত সবধরনের যানবাহন। বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পড়ছেন বিপাকে।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে সংস্কার করা হয় সড়কটি। বর্ষায় ছোট ফেনী নদীর তোড়ে সড়কটির ভাঙন প্রতিরোধে দুপাশে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে দেওয়া হয়েছে বাঁশের খুঁটি। স্থায়ী সমাধানে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের। এলাকাবাসীর দাবি, নদী ভাঙনে ঝুঁকির মুখে থাকা ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরকে বাঁচাতে দ্রুত এ সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে নদীর গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। নদী ভাঙনের কারণে সড়কটি সংস্কার করলেও কোনো কাজে আসে না। প্রয়োজন নদীর গতি পরিবর্তন করে বাঁকা নদী সোজা করা।

ভাষাশহীদ সালামের ছোট ভাই আবদুল করিম জানান, সড়কসহ বিভিন্ন সমস্যায় আটকে আছে ভাষাশহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারটির উন্নয়ন। ফেব্রুয়ারি মাস ছাড়া সালামনগরের খবরই রাখে না কেউ।

ভাইদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি হিসেবে তিনি অনুরোধ করেন, ‘আমাদের বাড়ি আসার পথটির অবস্থা পুরো খারাপ হয়ে গেছে। অনেক দর্শনার্থী আসেন। রাস্তাটি যদি সংস্কার করা হত, তাহলে মানুষের দুর্ভোগ কমত।’

ভাষাশহীদ আবদুস সালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরজাহান বেগম বলেন, ‘সড়কটি মেরামত না হওয়ায় বর্ষাকালে বিদ্যালয়ের দক্ষিণাংশের ছাত্রছাত্রী আসতে হিমশিম খেতে হয়। সড়কটি সংস্কার হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা আরো বাড়বে।’

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য জেলা উন্নয়ন সভায় ইতোপূর্বে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। চেষ্টা করছি স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার।’



মন্তব্য