kalerkantho

ফল প্রকাশ হয়নি ১৪ মাসেও

চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



চট্টগ্রাম বন্দরে ‘নিম্নমান সহকারী’ পদে লিখিত পরীক্ষা হয়েছে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্ব্বরে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ওই বছরের ডিসেম্বরে মৌখিক পরীক্ষাও দিয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষার ১৪ মাসেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আর ‘জুনিয়র স্টোরম্যান’ পদে লিখিত পরীক্ষা হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে; মৌখিক পরীক্ষা হয় নয়মাস পর ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। এরপর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়; নিয়োগ দিতে অবস্থা এমন হয়েছে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক সাদেকা হালিম পর্যন্ত অবসরে চলে গেছেন।

সংসদ নির্বাচনের আগে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বন্দরের আরেকটি পদ ‘নিম্নমান বহি সহকারী’ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। এতেও সময় লেগেছিল আটমাস। চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োগে অনিয়ম বাণিজ্যের অভিযোগ উঠার পর সেসময়ের নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান সংসদ নির্বাচনের আগে অনির্ধারিত সফরে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে সেই ফল চূড়ান্ত করে দেন। কিন্তু বাকি দুটি পদের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এতে দেড় হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একাধিক পরীক্ষার্থী বলেন, লিখিত মৌখিক সবই আমার খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু অবস্থা এমন হয়েছে, ফল না পাওয়ায় অন্য প্রতিষ্ঠানেও যোগদান করতে পারছি না। বন্দরের সব পদে নিয়োগের এমন অবস্থা জানলে আগে পরীক্ষা দিতাম না।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে ‘নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ পদে ৪১৬ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। যোগ্যতা ছিল কমপক্ষে এইচএসসি পাস। আর বেতনক্রম ছিল ৯ হাজার ৩শ থেকে ২৫ হাজার ৪৯০। এই পদে আবেদনের পর যাচাই-বাছাই করে প্রায় ২৩ হাজার পরীক্ষার্থীকে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৮৯০ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয় ২০১৮ সালের ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। এই পদে মোট ১২১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার ১৫ মাসেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি।

নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ পদে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব কমান্ডার আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা গতবছরই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে একই পদে আরও ৪১টি পদ খালি হয়েছে। ফলে দুবার আমরা পরীক্ষা নিতে চাইনি। সব মিলিয়ে ১৬২টি পদ পূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছি। তাদের অনুমোদন পেলে আগামী মার্চ মাসেই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে পারবো। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই ১৬২ পদ পূরণ করা হবে।’

এ ছাড়া ‘জুনিয়র স্টোরম্যান’ পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০ অক্টোবর ২০১৭ সালে। যোগ্যতা ছিল কমপক্ষে এইচএসসি, আর বেতন ক্রম ছিল ৯ হাজার ৩শ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। এই পদে আবেদনের পর বাছাই করে ২০ হাজার প্রার্থী লিখিত পরীক্ষা দেয়। আর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সাড়ে ৬শ জন; তারা সবাই মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন ২০১৮ সালের জুলাইয়ে এদের মধ্য থেকে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু গত সাতমাসেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই দুটি পদ ছাড়াও ‘ভাণ্ডার রক্ষক’ পদের লিখিত পরীক্ষা মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এখনও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি। এই পদে মাত্র ছয় জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। 

কেন দেরি হচ্ছে জানতে চাইলে ‘জুনিয়র স্টোরম্যান’ পদে নিয়োগ কমিটির নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কয়েকটি পদের ফল প্রকাশ হয়েছে, ধীরে ধীরে বাকি পদগুলো পূরণ হবে। কবে নাগাদ পূরণ হবে এখনো বলতে পারছি না। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলেই চূড়ান্ত ফল ঘোষিত হবে।’

ফল প্রকাশ দেরির পেছনে আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম কিছু নেই। 

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে নিম্নমান বহি সহকারী, নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার পদ এবং জুনিয়র স্টোরম্যান পদে এক লাখ প্রার্থী আবেদন করে। এসব পদে এত বেশি আবেদন জমা পড়েছিল বাছাই করতে চট্টগ্রাম বন্দরকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। এর আগে সবগু নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমবার চট্টগ্রামের বাইরে গিয়ে ঢাকাতে এই পদের পরীক্ষা নিয়েছিল; এই পরীক্ষা নিতে বাড়তি খরচও বহন করতে হয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এসব পদে নিয়োগে মন্ত্রী থেকে এমপি পর্যন্ত তদবির, আমলাদের সুপারিশ এবং আর্থিক লেনদেন সবকিছু ‘ব্যাটে-বলে’ মিলতে সময় লাগে। এজন্য বন্দরে নিয়োগ কখনো দ্রুত হয় না।



মন্তব্য