kalerkantho


রুমার ৩১ দুস্থ নারী ভিজিডির চাল পাচ্ছেন না ১৩ মাস

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা (বান্দরবান)   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



উপজেলার গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে ৩১ দুস্থ নারী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিজিডির চাল পাচ্ছেন না। তাঁরা জানান, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও বিষয়টির সুরাহা হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ইতোমধ্যে ১৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও ৩১ জনের কেউই এক মাসের চালও পাননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৭-২০১৮ চক্রে মোট ২৪ মাসের জন্য গালেঙ্গ্যা ইউনিয়ন থেকে ৩০৪ দুস্থ নারীকে ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) উপকারভোগী হিসেবে চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এসব দুস্থ নারী প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু ভিজিডি কার্ড নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বারের রশি টানাটানিতে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ৩১ দুস্থ নারীর ক্ষেত্রে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বঞ্চিতদের মধ্যে পালেপাড়ার চামরুং ম্রো ও শৈয়ং ম্রো জানান, ২০১৭ সালে উপকারভোগীদের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণ না করে এবং নীতিমালায় নগদ টাকা দেওয়ার কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মোট ১১ মাস চালের বদলে নগদ টাকা বিতরণ করা হয়। কার্ড ও চাল চাইতে গেলে ভিজিডি তালিকা থেকে তাঁদের নাম কেটে দেওয়ার ভয়ে মেম্বারের কাছে দুস্থরা ভিজিডি কার্ড চাননি। তাঁরা জানান, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে তাঁদের আর কোনো টাকা দেওয়া হচ্ছে না। ভিজিডির চাল চাইতে গেলে মেম্বার তাঁদের জানিয়ে দেন, সরকারি গুদামে চাল সংকট দেখা দিয়েছে। চালের বরাদ্দ আসলে বিতরণ করা হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ৩১ জানুয়ারি অভিযোগকারীদের তদন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ডেকে পাঠান।

অভিযোগকারীরা জানান, যথাসময়ে তদন্তস্থলে উপস্থিত হয়ে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে না পেয়ে তাঁদেরকে ফিরে আসতে হয়েছে। এ অবস্থায় তাঁরা লিখিতভাবে বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীকে জানান।

শৈয়ং ম্রো জানান, গত ৩ জানুয়ারি স্থানীয় মেম্বার রেংচম ম্রো কুরাং বাজারে ডেকে এনে তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণ করেন।

জানতে চাইলে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, ‘ভিজিডির চালের অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চাল না দিয়ে নগদ টাকা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুপন চাকমা জানান, বিষয়টি যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আর কতদিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যতটা জেনেছি-অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত মেম্বারের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ছাড়া কেউ কেউ মেম্বারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এমন অভিযোগও রয়েছে।’

গালেঙ্গ্যা ইউপি চেয়ারম্যান শৈউ সাই মারমা বলেন, ‘২০১৭ সালের প্রথম চক্রের ভিজিডি কার্ড ও চাল পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের হাতে দেওয়া হয়েছে।’

তালিকাভুক্ত দুস্থ নারীদের উপস্থিতি ছাড়া অন্য কারোর মাধ্যমে ভিজিডি চাল বিতরণের নিয়ম আছে কিনা-জানতে চাইলে শৈউ সাই মারমা বলেন, ‘এলাকাটি অতি দুর্গম। দুস্থ নারীদের আসা-যাওয়ায় অনেক কষ্ট হবে-এ বিবেচনা থেকে অন্য মেম্বারদের সাক্ষী রেখে ওয়ার্ড মেম্বারের মাধ্যমে চালগুলো দেওয়া হয়েছিল।’

অভিযুক্ত ওয়ার্ডের মেম্বার রেংচম ম্রো বলেন, ‘উপকারভোগীরা দুর্গম এলাকায় থাকেন। তাই ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে দুস্থদের চাল না দিয়ে নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।’ চাল আত্মসাতের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি আক্রোশ বশতঃ কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে লেগেছে।’ তিনি নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন।



মন্তব্য