kalerkantho


ভালোবাসা দিবস ঘিরে ফুল বিক্রির ধুম

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ভালোবাসা দিবস ঘিরে ফুল বিক্রির ধুম

চকরিয়ার ফুলের কদর আলাদা। তাই চাষিদের আগাম টাকা দিয়ে রাখেন ব্যবসায়ীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও ফুল বিক্রির ধুম পড়েছে চকরিয়ার ফুলরাজ্য বরইতলী ও হারবাং এলাকায়।

ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা এখানকার ফুল চাষিদের কাছে আগেভাগেই বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের অর্ডার দিয়ে রাখেন। সেই চাহিদার ফুল সোমবার ভোর থেকে নেওয়া শুরু হয়েছে।

চকরিয়ার বরইতলী গোলাপ বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মো. মঈনুল হোসেন জানান, চকরিয়ার রকমারি ফুলের চাহিদা রয়েছে বেশি চট্টগ্রামের কাজীর দেউরি, চেরাগি পাহাড়, আগ্রাবাদসহ নগরের বড় বড় ব্যবসায়ীদের। তাঁরা এখানকার চাষিদের কাছে অন্তত একমাস আগে নানা রঙের গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ রকমারি ফুলের চাহিদা দিয়ে থাকেন। এবারের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সেই হিসেবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তিন শতাধিক পাইকারি ব্যবসায়ী অর্ধকোটি টাকার ফুলের অর্ডার দিয়ে রেখেছেন।

তবে তিনি জানান, অন্য বছরের চাইতে এবার ফুলের আগাম অর্ডার একটু কম। এ ছাড়া ফুলের রাজ্যে তামাকের আগ্রাসন শুরু হওয়ায় এবং তামাক চাষে বেশি লাভ মনে করে এখানকার চাষিরা সেদিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

ফুলচাষিরা জানান, গোলাপ নগরখ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে বর্তমানে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক বাণিজ্যিকভাবে সৃজিত রকমারি ফুলের বাগানে পালাক্রমে শ্রম দেন।

চকরিয়ার বরইতলী থেকে পাইকারি দরে কিনে চট্টগ্রাম মহানগরীর চেরাগিপাহাড় মোড়ে ফুল বিক্রি করেন সুভাষ দে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ৫-১০ হাজার ফুল কেনা হয় চকরিয়ার বরইতলী থেকে। আর বিশেষ দিবসে তা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে যায়। এবারের ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আগাম অর্ডার দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুলের।’

বরইতলীর ফুলচাষি কবির হোসেন বলেন, ‘পাইকার আগাম অর্ডারও দিয়ে রেখেছেন ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে। এতে এবার দুই লক্ষ টাকার ফুল বিক্রি হবে আমার।’

চাষিরা জানান, মানভেদে পাইকারিভাবে একটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা পর্যন্ত। আর রকমারি গ্লাডিওলাস ১০ থেকে ১৫ টাকায়।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ বলেন, ‘বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের প্রায় ১০০ একর জমিতে পুরোদমে ফুলের চাষ করেন হাজারো চাষি।’



মন্তব্য