kalerkantho


‘সঠিক চিকিৎসায় মৃগী রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



‘সঠিক চিকিৎসায় মৃগী রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়’

মৃগী রোগ সচেতনতা দিবসে গতকাল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় শোভাযাত্রা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৃগী রোগের চিকিৎসায় ঝাড়ফুঁক নয়, অন্য সাধারণ রোগের মতো সঠিক চিকিৎসায় রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মৃগী রোগের উপসর্গ অন্য রোগের উপসর্গ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাই পরিবারের কারো মৃগী রোগের উপসর্গ দেখা দিলে বৈদ্য কিংবা কবিরাজের অপচিকিৎসা না নিয়ে দ্রুত পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা মেডিক্যালে নিয়ে যেতে হবে।

সোমবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) নতুন সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক মৃগী রোগ সচেতনতা দিবসের সেমিনারে নিউরোলজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান এসব কথা বলেন। চমেক নিউরোলজি বিভাগ সেমিনারের আয়োজন করে। ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘মৃগী রোগ নিয়ে সমাজে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। শুধু রোগের ইতিহাস এবং খিচুনির ভিডিও দেখে কোনো রকম দামি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। ৯০ শতাংশ রোগী ওষুধ খেয়ে ভালো থাকে। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ বছর ওষুধ খেয়ে রোগমুক্ত হয়।’

সেমিনারের প্রধান অতিথি বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান বলেন, ‘এই ধরনের জনসচেতনতামূলক সেমিনার ও র‌্যালি চট্টগ্রাম মেডিক্যালের বাইরেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আয়োজন করলে জনগণ আরো বেশি উপকৃত হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন ও চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন,  ‘রোগীকে ওষুধ লেখার ক্ষেত্রে ওষুধের দাম, কার্যকারিতা এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাথায় রাখা উচিত।’

বিশেষ অতিথি নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘ব্রেন টিউমার, মস্তিষ্কের আঘাতসহ বিভিন্ন নিউরোসার্জিক্যাল রোগের কারণে খিচুনি হতে পারে যা সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব।’

চমেক ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অশোক কুমার দত্ত বলেন, ‘কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট নির্ভর না হয়ে, রোগের সঠিক ইতিহাস এবং ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করতে হবে।’

অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাপস মিত্রের সঞ্চালনায় সেমিনার সমন্বয় করেন নিউরোলজি বিভাগের ডা. সীমান্ত ওয়াদ্দাদার। আরও বক্তব্য দেন চমেক নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার কায়স্থগীর, ডা. শিউলি মজুমদার, সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম খন্দকার, ডা. মসিহুজ্জামান আলফা ও ডা. তৌহিদুর রহমান, রেজিস্ট্রার ডা. জামান আহম্মদ।



মন্তব্য